Skip to main content

Brick Lane News

যুক্তরাজ্যে গৃহহীনদের চেয়ে ১০ গুণ বেশি আশ্রয়প্রার্থী রাখছে ১৯টি কাউন্সিল!

যুক্তরাজ্যে গৃহহীনদের চেয়ে ১০ গুণ বেশি আশ্রয়প্রার্থী রাখছে ১৯টি কাউন্সিল!

গর্ভবতী গৃহহীন নারীকে বাসস্থান দিতে অস্বীকার, অথচ গ্লাসগোতে রাষ্ট্রীয় সহায়তায় আবাসনে ৩,৭০০-এর বেশি আশ্রয়প্রার্থী—ব্রিটেনের আশ্রয়ব্যবস্থা নিয়ে নতুন বিতর্ক
লন্ডন: যুক্তরাজ্যের ১৯টি স্থানীয় কাউন্সিল এলাকায় অস্থায়ী আবাসনে থাকা গৃহহীন পরিবারের সংখ্যার তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি আশ্রয়প্রার্থীকে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডেইলি মেইল-এর সরকারি তথ্যভিত্তিক এক অনুসন্ধানে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় ব্যবধান দেখা গেছে ল্যাঙ্কাশায়ারের হাইন্ডবার্নে। সেখানে সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৪২৩ জন আশ্রয়প্রার্থীকে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিপরীতে, অস্থায়ী আবাসনে থাকা গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪টি। দেশের প্রতিটি কাউন্সিলের পরিস্থিতি তুলে ধরতে সংবাদমাধ্যমটি একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ মানচিত্রও প্রকাশ করেছে।
এই অনুসন্ধান সামনে এসেছে গ্লাসগোর এক ২৬ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারীর ঘটনা ঘিরে নতুন বিতর্কের মধ্যে। ৩৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে কাউন্সিল আবাসনের ব্যবস্থা করে দিতে অস্বীকার করায় তিনি গৃহহীন হয়ে পড়েন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দাতব্য সংস্থা Homeless Project Scotland ফেসবুকে ওই নারীর দুরবস্থার কথা প্রকাশ করে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নির্যাতনমূলক সম্পর্ক থেকে বাঁচতে তিনি লন্ডন ছেড়ে গ্লাসগোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও আবাসন সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, শহরটিতে ৩,৭০০-এর বেশি—যাদের অধিকাংশই পুরুষ—আশ্রয়প্রার্থী রাষ্ট্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত আবাসনে বসবাস করছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইংল্যান্ডে ৭৪ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনের শেষ নাগাদ ইংল্যান্ডজুড়ে ৭৪ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থীকে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সংখ্যাটি সেন্ট অ্যালবানস বা ওকিংয়ের মতো একটি শহরের জনসংখ্যার সমতুল্য বলে প্রতিবেদনে তুলনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত অস্থায়ী আবাসনে থাকা গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার। এসব পরিবারের প্রতিটিতে গড়ে প্রায় আড়াইজন সদস্য রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে গৃহহীন মানুষের মোট সংখ্যা এবং আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যার মধ্যে সরাসরি তুলনা করা কঠিন। কারণ, গৃহহীনদের পরিসংখ্যান পরিবারভিত্তিক, আর আশ্রয়প্রার্থীদের পরিসংখ্যান ব্যক্তিভিত্তিক। তাছাড়া, প্রতিটি কাউন্সিলের অস্থায়ী আবাসনে থাকা গৃহহীন ব্যক্তির আলাদা তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ কারণে অনুসন্ধানে গৃহহীন পরিবারসংখ্যার সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থীর ব্যক্তিসংখ্যা তুলনা করা হয়েছে। ১২টি কাউন্সিল গৃহহীন পরিবারের তথ্য প্রকাশ না করায় সেগুলো বিশ্লেষণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের তথ্যও পৃথকভাবে নথিভুক্ত হওয়ার কারণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
আশ্রয়ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক
ব্রিটেনের আশ্রয়প্রার্থী ব্যবস্থাপনার সমালোচকেরা এই অনুসন্ধানকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য সরকারি সহায়তায় বৈষম্য থাকার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁদের দাবি, বর্তমান আশ্রয়ব্যবস্থা স্থানীয় পর্যায়ে আবাসন ও সহায়তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তবে এই পরিসংখ্যান একাই প্রমাণ করে না যে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন দেওয়ার কারণেই গৃহহীন পরিবারগুলো আবাসন পাচ্ছে না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে কাউন্সিলগুলোর আবাসন বরাদ্দ, বাজেট, স্থানীয় বাসস্থানের সংকট এবং সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতার নিয়মও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সূত্র: Daily Mail; যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য।