Skip to main content

Brick Lane News

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ: হাইকোর্টের আদেশের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ: হাইকোর্টের আদেশের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল

ব্রিকলেন নিউজ , ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট এখন আলোচনার কেন্দ্রে। গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় রিটটি শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এই আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষ।

প্রজ্ঞাপনের প্রেক্ষাপট ও নিষেধাজ্ঞা
গত বছরের (২০২৫ সালের) ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে একটি আলোচিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ। এর আওতায় যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ এবং সম্মেলন আয়োজনের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

আইনি চ্যালেঞ্জ ও রিটের বিষয়বস্তু
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রজ্ঞাপনটিকে ‘আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত’ দাবি করে সম্প্রতি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের বাসিন্দা মো. আল আমিন। সোমবার হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এটি ৬০ নম্বর ক্রমিকে শুনানির অপেক্ষায় ছিল।

রিটকারীর আইনি প্রার্থনা
আদালতে দায়ের করা রিট আবেদনে মূলত দুটি বিষয় চাওয়া হয়েছে:

রুল জারি: ২০২৫ সালের ১২ মে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনটিকে কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত বা বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে আদালতের কাছে একটি রুল চাওয়া হয়েছে।

স্থগিতাদেশ: আদালত যদি রুল জারি করেন, তবে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিতর্কিত ওই প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম যেন স্থগিত রাখা হয়, আবেদনে সেই আর্জিও জানানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের মতো একটি বৃহৎ ও পুরোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে নিষিদ্ধ রাখার এই আইনি লড়াই দেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আদালতের নির্দেশনার ওপরই নির্ভর করছে এই প্রজ্ঞাপনের ভবিষ্যৎ এবং দলটির রাজনৈতিক দৃশ্যপটে প্রত্যাবর্তনের আইনি সুযোগ।