Skip to main content

Brick Lane News

অ্যামাজনে চাকরি পাওয়ার পেছনের গল্প: বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফারিহা জেরিনের অভিজ্ঞতা

অ্যামাজনে চাকরি পাওয়ার পেছনের গল্প: বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফারিহা জেরিনের অভিজ্ঞতা

২০২১ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে কানাডায় পাড়ি জমান বাংলাদেশের এইচএসসি ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারিহা জেরিন রাবিতা। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ায় বিদেশে পড়াশোনার বিপুল খরচ তার পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে ৪৪ হাজার ৪০০ কানাডিয়ান ডলারের মর্যাদাপূর্ণ ‘সিমোর শুলিখ স্কলারশিপ’ (Seymour Schulich Scholarship) তার উচ্চশিক্ষার পথকে সহজ করে দেয়। শুরুতে বুয়েটে পড়ার স্বপ্ন থাকলেও করোনার কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তায় তিনি কানাডায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কানাডায় পৌঁছানোর পর পড়াশোনার খরচ জোগাতে তিনি প্রথমে একটি স্টেডিয়ামে পার্টটাইম কাজ শুরু করেন। তবে পড়াশোনায় চাপ বাড়ায় তিনি ক্যাম্পাসের ভেতরে কাজের সুযোগ খুঁজতে থাকেন। পরবর্তী চার বছরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ১৫টি ভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে রেসিডেন্স অ্যাসিস্ট্যান্ট, ফ্যাকাল্টি অ্যাম্বাসাডর এবং কো-অপ পজিশন উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে টানা চার সেমিস্টারে ১৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর ল্যাব পরিচালনার অভিজ্ঞতা তার দক্ষতাকে আরও সমৃদ্ধ করে।

ক্যারিয়ারের পথে রাবিতা তিনটি ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কো-অপ করার সুযোগ পান। টরন্টোর মিউনিখ রি (Munich Re) কোম্পানিতে প্রথম কো-অপের আগে তার কোনো ইন্ডাস্ট্রি অভিজ্ঞতা ছিল না। এরপর হ্যালিফ্যাক্সের ইউবিসফট (Ubisoft)-এ জুনিয়র প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করেন, যা ছোটবেলার গেম খেলার শখকে পেশাদার রূপ দেয়। তৃতীয় কো-অপটি ছিল সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি আর্কটিক উলফ (Arctic Wolf)-এ। সেখানে ব্যাকএন্ড ডেভেলপমেন্টে কাজ করার সময় তিনি স্বয়ংক্রিয় সিকিউরিটি রিপোর্ট তৈরির একটি সিস্টেম উন্নত করেন, যার ফলে রিপোর্ট তৈরির সময় ২৪ ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র তিন ঘণ্টায় নেমে আসে—অর্থাৎ কাজের গতি ৮৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়।

স্নাতক শেষ হওয়ার আগেই অ্যামাজনে কাজ করার লক্ষ্য স্থির করেছিলেন রাবিতা। ২০২৫ সালের সামার সেমিস্টারে গ্র্যাজুয়েশনের দুই মাস আগে তিনি অ্যামাজনের নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করেন। প্রায় ১০০টি কোম্পানিতে আবেদনের পর এটিই ছিল তার প্রথম বড় করপোরেট চাকরির সুযোগ। আবেদনের পর তিন ঘণ্টার অনলাইন অ্যাসেসমেন্টে দুটি কোডিং প্রশ্ন ও একটি আচরণগত অংশ ছিল। এরপর তিনটি ধাপে এক ঘণ্টার ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে দুটি ছিল কারিগরি দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য।

আবেদন থেকে চূড়ান্ত অফার পেতে প্রায় দুই মাস সময় লেগেছিল। অবশেষে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি অ্যামাজনে কাজ শুরু করেন এবং অক্টোবরে তার গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন হয়। বর্তমানে তার দৈনন্দিন কাজের তালিকায় কোডিং, কোড রিভিউ, সিস্টেম ডিজাইন, টেস্টিং ও ডিবাগিংয়ের পাশাপাশি প্রোডাক্ট ম্যানেজারদের সঙ্গে সমন্বয় করা অন্তর্ভুক্ত। অন-কল ডিউটির অংশ হিসেবে কখনো কখনো ভোর ৪টার সময়ও তাকে প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে সাড়া দিতে হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার টরন্টোর জীবন ও অ্যামাজনের কাজের অভিজ্ঞতা অনেকের কাছে আকর্ষণীয় মনে হলেও, রাবিতা মনে করেন বাস্তব চাকরিজীবন বেশ চ্যালেঞ্জিং। এখানে কাজের চাপ, কঠোর ডেডলাইন এবং বার্নআউটের মতো বিষয়গুলো নিয়মিত মোকাবিলা করতে হয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ হলো, ক্যারিয়ারে সফল হতে হলে শেষ বর্ষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শুরু থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। কেবল ভালো একাডেমিক ফলাফল নয়, পড়াশোনার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রি-ভিত্তিক দক্ষতা অর্জনই একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এগিয়ে রাখে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপ নিয়ে গবেষণা করে শেষ পর্যন্ত কানাডার ডালহৌসি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে কাজটি তার পড়াশোনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন, এমন কাজ করবেন যা একই সঙ্গে আয় এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছোটবেলায় গেমের মাধ্যমে কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়া রাবিতার জন্য এটি ছিল বিশেষ অভিজ্ঞতা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে গেম ডেভেলপমেন্টের কাজ করার পর তিনি বুঝতে পারেন, দীর্ঘমেয়াদে এই খাতকে নিজের ক্যারিয়ারের জন্য বেছে নিতে চান না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিজের সিভিতে শুধু কী কাজ করেছেন তা নয়, সেই কাজের ফলে কী পরিবর্তন এসেছে, সেটিও তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অ্যামাজনের Leadership Principles-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কভার লেটারও তৈরি করেন তিনি।