Brick Lane News

ইলফোর্ডে বহুতল ভবনে  ঝুলে থাকা শিশুকে   ক্যাচ ধরে রক্ষা

ইলফোর্ডে বহুতল ভবনে ঝুলে থাকা শিশুকে ক্যাচ ধরে রক্ষা

প্রশংসায় ভাসছেন মোহাম্মদ জেসিল

ইষ্ট লন্ডনের ইলফোর্ডে বহুতল ভবনের জানালার কার্নিশ থেকে অন্তত ৯ মিনিট ঝুলে থাকা এক তিন বছর বয়সী শিশুকে অলৌকিকভাবে বাঁচিয়ে নিয়েছেন এক
ভারতীয় মুসলিম যুবক। নিজের ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শিশুটিকে ওপর থেকে নিচে পড়ার মুহূর্তে লুফে নেন তিনি।
গত মঙ্গলবার বিকেলে পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ড হাই রোডের একটি বাজির দোকানের ওপরের ফ্ল্যাটের জানালা ধরে শিশুটিকে বিপজ্জনকভাবে ঝুলে থাকতে দেখেন পথচারীরা।
সৌভাগ্যবশত, এক পুলিশ কর্মকর্তা এবং নিজের ঘর থেকে ছুটে আসা এক সাধারণ নাগরিকের যৌথ প্রচেষ্টায় শিশুটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার পায়। শিশুটির প্রাণ বাঁচানো দুই সন্তানের জনক মোহাম্মদ জেসিল জানান, ছাদ টপকে উদ্ধার করার পর ফুটফুটে শিশুটি তাকে জড়িয়ে ধরে এক ‘বড় আলিঙ্গন’ (বিগ হাগ) উপহার দেয়।
পেশায় রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপক জেসিল ঘটনার সময় কাছেই নিজের বাসায় ছিলেন। পথচারীদের চিৎকার শুনে তিনি ছুটে আসেন।
তিনি সংবাদমাধ্যম কে বলেন:
“আমি কেবল নিজের সহজাত প্রবৃত্তি থেকে দৌড়ে এসেছিলাম। আমার নিজের পাঁচ মাস বয়সী যমজ সন্তান রয়েছে। একজন বাবা হিসেবে আমি কেবল পরিস্থিতি দেখে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি। আমার মনে কোনো ভয় ছিল না, কোনো কিছু ভাবার সময়ও ছিল না। আমি কোনো হিরো নই, বিপদে পড়া একটি শিশুকে দেখে একজন বাবা হিসেবে যা করার, আমি কেবল সেটাই করেছি।”

তিনি আরও যোগ করেন:
“যখন আমি তাকে সফলভাবে লুফে নিতে পারলাম, তখন মনের ভেতর এক বিশাল স্বস্তি কাজ করছিল। শিশুটি মুখে কিছু বলেনি, কেবল আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিল। আমি খুবই আনন্দিত যে তার উপকারে আসতে পেরেছি।”

জেসিল জানান, অতীতে ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা তাকে শিশুটিকে লুফে নিতে সাহায্য করেছে। মেট্রো-কে তিনি বলেন, “আমি ভারতে ক্রিকেট খেলতাম, যা হয়তো ক্যাচ ধরার ক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করেছে। আমি শুধু জানতাম, এই মুহূর্তে আমাকে পুরো মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উৎসুক জনতা নিচ থেকে ‘তাড়াতাড়ি করুন’ বলে চিৎকার করছেন। এর মাঝেই নিচের তলার জানালা থেকে এক নারীকে হাত বাড়িয়ে শিশুটিকে ধরার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
নিচ থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তা কার্নিশে উঠে শিশুটির দিকে অসহায়ভাবে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছিলেন এবং শিশুটিও আপ্রাণ চেষ্টা করছিল নিজেকে টেনে ওপরে তুলতে। ঠিক যখন শিশুটির হাতের বাঁধন আলগা হয়ে আসছিল, তখনই জেসিল উদ্ধারকাজে যোগ দেন। নিচে থাকা একজন পথচারীকে একটি মই নিয়ে এগিয়ে আসতেও দেখা যায়।
কার্নিশে থাকা উদ্ধারকারীরা ঠিক শিশুটির নিচে অবস্থান নেন। ওপর থেকে শিশুটি হাত ফসকে নিচে পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে উপস্থিত জনতার মাঝে তীব্র আতঙ্কের গ্যাস ওঠে।
ঠিক সেই মুহূর্তে জেসিল নিখুঁতভাবে শিশুটিকে লুফে নেন। ভারসাম্য হারানোর মুহূর্তে পাশে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা তাদের দুজনকে শক্ত করে ধরে পরিস্থিতি সামাল দেন। শিশুটি বেঁচে যাওয়ার সাথে সাথে নিচে থাকা শত শত মানুষ হাততালি দিয়ে আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন।
crowds থেকে একজন চিৎকার করে বলছিলেন, “দারুণ কাজ!” অন্য একজন বলছিলেন, “বাচ্চাটা বেঁচে গেছে, হে খোদা!”
শিশুটির বাবা পুলিশ কর্মকর্তা এবং মোহাম্মদ জেসিলকে ‘অসাধারণ হিরো’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মেট্রো-কে তিনি জানান, তার মেয়ে এখন সম্পূর্ণ ‘ভালো’ আছে এবং এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পরও সে আজ স্কুলে গিয়েছে।
তিনি জানান, উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া জেসিল তাদের সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন মানুষ ছিলেন।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শিশুটির বাবা বলেন:
“তারা দুজনেই অসাধারণ কাজ করেছেন। তারা প্রকৃত হিরো। আমরা অত্যন্ত স্বস্তি পেয়েছি। তারা আমাদের সন্তানের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। তাদের কারণেই আমার মেয়ে আজ ভালো আছে। আমরা তাদের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ। সে আজকেও স্কুলে যাচ্ছে এবং আমরা সেই মানুষদের মন থেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।”

তবে শিশুটি কীভাবে জানালার কার্নিশে গিয়ে পৌঁছাল, সে বিষয়ে বাবা কিছু জানাননি। কিন্তু এতক্ষণ কীভাবে ঝুলে রইল—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সে শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী।”
এদিকে ঘটনার সময় হাই স্ট্রিটে থাকা সাধারণ মানুষ ও ক্রেতারা প্রশ্ন তুলছিলেন, শিশুটি কীভাবে সেখানে গেল এবং ঘটনার সময় তার মা-বাবা বা অভিভাবকরা কোথায় ছিলেন? তবে ভিডিওতে দেখা যাওয়া নারী ও পুরুষটির পরিচয় এখনো পরিষ্কার হওয়া যায়নি।

(সূত্র- মেট্রো )