Skip to main content

Brick Lane News

‘নেতৃত্বের ওপর আস্থা নেই’ জানিয়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ

‘নেতৃত্বের ওপর আস্থা নেই’ জানিয়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করায় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি নতুন রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পর থেকেই স্টারমারের ওপর চাপ বাড়ছিল।

এবার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের পদত্যাগ সেই সংকটকে আরও গভীর করেছে।বৃহস্পতিবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে স্ট্রিটিং বলেন, কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর তার আর আস্থা নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরাজয়ের পেছনে প্রধান কারণ ছিল প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তাহীনতা।

৪৩ বছর বয়সী স্ট্রিটিং আরও বলেন, এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে যে স্টারমার আগামী সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। তিনি দলীয় এমপি ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর প্রতি নতুন নেতৃত্ব নিয়ে “গঠনমূলক বিতর্ক” শুরুর আহ্বান জানান। তবে তিনি সরাসরি নিজেকে নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে ঘোষণা করেননি।স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবার এমপি জশ সাইমন্স সংসদ সদস্যপদ ছাড়ার ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, বৃহত্তর ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য পার্লামেন্টে ফেরার পথ তৈরি করতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাইমন্সের পদত্যাগে এখন তার আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অ্যান্ডি বার্নহাম পরে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি ওই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দলের অনুমতি চাইবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন লেবার পার্টির নেতৃত্বের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

এদিকে দলীয় অভ্যন্তরীণ সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে সাবেক মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারকে ঘিরেও। আবাসন করসংক্রান্ত বিতর্কের কারণে তিনি মন্ত্রিসভা ছাড়লেও সম্প্রতি কর কর্তৃপক্ষ তাকে নির্দোষ ঘোষণা করেছে। ফলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের আলোচনায় তার নামও নতুন করে সামনে এসেছে।

যদিও তিনি সরাসরি স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেননি, তবে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। বর্তমানে চারজন কনিষ্ঠ মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং ৮০ জনের বেশি লেবার এমপি স্টারমারকে পদ ছাড়তে বা সরে দাঁড়ানোর সময়সীমা নির্ধারণ করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাননি। ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দলটির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা দ্রুত জোরালো হচ্ছে।

সংকটের মধ্যেই স্টারমার নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে জেমস মারেকে নিয়োগ দিয়েছেন। পাশাপাশি ট্রেজারির চিফ সেক্রেটারি করা হয়েছে লুসি রিগবিকে। স্টারমার এক চিঠিতে স্ট্রিটিংকে জানান, মন্ত্রিসভায় তাকে আর না পাওয়ায় তিনি “ব্যথিত”।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনে ভোটাররা যে বিশৃঙ্খলাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না।তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, স্টারমার পদত্যাগ করছেন না এবং তিনি দেশ পরিচালনার কাজেই মনোযোগী রয়েছেন। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে ও গ্রিন পার্টির কাছে বড় ব্যবধানে হারার পরও তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভসসহ লেবারের জ্যেষ্ঠ নেতারাও আপাতত স্টারমারের পাশে রয়েছেন। রিভস সহকর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্য কোন্দল দেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র : আল-জাজিরা।