Brick Lane News

এবার আঞ্চলিক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি সামরিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে খামেনি বলেন, “ট্রাম্প নিয়মিতই বলেন তিনি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছেন। এসব হুমকিতে ইরানি জাতি ভয় পায় না।”

তিনি বলেন, ইরান কখনো আগ্রাসনের সূচনাকারী নয় এবং কোনো দেশকে আক্রমণ করতে চায় না। তবে কেউ হামলা বা উসকানি দিলে তার জবাব শক্তভাবে দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও নাকচ করেনি তেহরান। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা খর্ব করার উদ্দেশ্যে নয়—এমন ‘ন্যায্য’ আলোচনার জন্য ইরান প্রস্তুত।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি ডেস্ট্রয়ার, একটি বিমানবাহী রণতরী ও তিনটি লিটোরাল কমব্যাট জাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ড্রপ সাইট নিউজ দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলে রোববার থেকেই ইরানে হামলা শুরু হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার লক্ষ্য শুধু পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নয়; বরং শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ‘শিরচ্ছেদ কৌশল’ প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন।

মার্কিন যুদ্ধ পরিকল্পনাকারীদের ধারণা, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নেতৃত্ব ভেঙে দেওয়া গেলে ইরানে গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন সম্ভব হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ ধরনের হামলার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন এবং তেহরানে পশ্চিমাপন্থী সরকার গঠনে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার ওভাল অফিসে বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানের দিকে বড় ধরনের মার্কিন নৌবহর অগ্রসর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা তাদের আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।

Related Posts

Social Media

সর্বশেষ খবর