ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৪ টাকা ২১ পয়সা। ফলে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা, যা গত মাসে ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। এক মাসে সিলিন্ডারপ্রতি দাম বেড়েছে ৫০ টাকা।
সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে এই মূল্য ঘোষণা করেন। আজ সন্ধ্যা ছয়টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, কমিশন আইন অনুযায়ী প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রেখে ৮২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে বাড়িয়ে ৬২ টাকা ১৪ পয়সা করা হয়েছে, যা গত মাসে ছিল ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা।
বর্তমানে দেশে এলপিজির তীব্র সংকট চলছে। সরকারি নির্ধারিত দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার অনেক এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বাজারে এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সরকার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) এলপিজি আমদানির নীতিগত অনুমতি দেয়। তবে সরকার শুধু আমদানিতে যুক্ত থাকবে; সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে বেসরকারি অপারেটররা। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, চীন ও কাতারকে সম্ভাব্য আমদানির উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানি করা হবে। এতে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



