Brick Lane News

বুয়েটে প্রকাশ্যরা জনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও প্রকাশ্যেই কমিটি দিলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর তীব্র আন্দোলনের মুখে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সে সময় ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন’-এর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সব রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

তবে নিষেধাজ্ঞার পরও ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠনগুলোর গোপন তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ছাত্রশিবিরসহ কয়েকটি সংগঠনের সাংগঠনিক যোগাযোগ ও কার্যক্রম আড়ালে চলছিল বলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দাবি করে আসছে। এর বিপরীতে ছাত্রলীগ প্রকাশ্যে কোনো কমিটি দেয়নি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকেও বিরত ছিল।

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের প্রায় ১৮ মাস পর এবার আবার প্রকাশ্যেই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ছাত্রলীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ইনানের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে তানভীর মোহাম্মদ স্বপ্নীল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আশিকুল আলমের নাম উল্লেখ করা হয়।

কমিটি ঘোষণার পরপরই বুয়েট ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একাংশ শিক্ষার্থী মনে করছেন, প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কমিটি ঘোষণা বিতর্কিত ও সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশের মত, দীর্ঘদিন ধরে যদি শিবিরের মতো রাষ্ট্রবিরোধী ও নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো ক্যাম্পাসে গোপনে রাজনীতি চালিয়ে যেতে পারে, তাহলে দেশের স্বাধীনতা ও সংবিধানপন্থী ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগের প্রকাশ্য রাজনৈতিক অধিকার থাকা উচিত। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার নামে একপাক্ষিক বাস্তবতা তৈরি হওয়ায় ক্যাম্পাসে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো জানা যায়নি।

Related Posts

Social Media

সর্বশেষ খবর