কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর দাবি
রায়হান উদ্দিন সুমন, বানিয়াচং প্রতিনিধি : বানিয়াচংয়ে সরকারের বেঁধে দেয়া দামে মিলছেনা সিলিন্ডার গ্যাস। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কেজিতে ৩২ টাকার বেশি বাড়ানোর পরও বানিয়াচং উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা এই পরিস্থিতির দায় ডিলারদের কাঁধে চাপালেও ডিলাররা বলছেন, তারা সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করছেন। এর প্রভাব হিসাব করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর রবিবার (৫ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অতিরিক্ত দাম বাড়ার প্রভাব দেখা গেছে। স্থানীয় বড়বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০শ টাকায়, নতুুন বাজারসহ অন্যান্য বাজারে এই দামের চেয়ে ১শ থেকে ৫০ টাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দোকানভেদে দামের তারতম্য থাকলেও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না। সরকার দাম বাড়ানোর পরও অতিরিক্ত মূল্যে কিনতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। বানিয়াচং নতুনবাজারে এলপি গ্যাস কেনার জন্য আসা রুমেল আহমেদ বলেন, সরকার দাম বাড়ালেও সেই দামে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না গ্যাস। অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। এতে বোঝা শুধুই ভোক্তাদের কাঁধেই পড়েছে। বিক্রেতাদের অভিযোগ, ডিলারদের থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে, তাই বিক্রেতারাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। খুচরা বিক্রেতা কামাল শেখ বলেন, ডিলাররা বেশি দামে সিলিন্ডার নিতে বাধ্য করছে, তাই আমাদেরও বিক্রি করতে হচ্ছে কিছুটা বেশিতে। অন্যদিকে, ডিলাররা বলছেন, তারা সরকার নির্ধারিত দামেই সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। অতিরিক্ত দাম নেয়ার কোনো ঘটনা নেই। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীরা সরকারের কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন যাতে অতিরিক্ত খরচের বোঝা কমানো যায় এবং বাজার স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়। এদিকে এলপিজির দাম বৃদ্ধিতে নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার, হোটেল-রেস্তোরা মালিকসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। উপজেলার একটি ছোট হোটেলের মালিক সোহান মিয়া বলেন, প্রতিদিন ২-৩টা সিলিন্ডার লাগে। সরকার যে দাম ঠিক করেছে তার চেয়ে বেশি দামে কিনতে হয়। এ প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, সংসারের খরচ, ছেলেমেয়ের পড়াশোনা, বাবা-মায়ের চিকিৎসার সব মিলিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। এখন আবার গ্যাসের দাম বাড়ল। আমরা কি সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস পাবো, নাকি আগের মতো বেশি দামেই কিনতে হবে? বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে আসা গৃহিনী রুবিনা বেগম জানান, আগে ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকায় এলপিজি সিলিন্ডার কিনতাম, এখন ২২০০ টাকা দিতে হচ্ছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকারি দামে কোনো ভাবেই এলপিজি কিনতে পারি না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে ভোক্তাদের মাঝে।





