Brick Lane News

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে ১১ নারী সংগঠন ইসিতে

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে ১১ নারী সংগঠন ইসিতে

কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন নারী সংগঠনের নেত্রীরা।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ১১টি নারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক করে এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি জমা দেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্মারকলিপি প্রদান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু।

ব্রিফিংয়ে মোশরেফা মিশু বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির তার ভ্যারিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন, তা শুধু নারীদের প্রতি চরম অবমাননাই নয়; বরং দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী ও আত্মমর্যাদাশীল নারীর শ্রম, সম্মান এবং সামাজিক অবদানকে সরাসরি অস্বীকার করার শামিল।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে দলটির পক্ষ থেকে ওই বক্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে দাবি করা হলেও ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এমন বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, স্বচ্ছ তদন্ত বা প্রামাণ্য তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

মোশরেফা মিশু আরও বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, কথিত হ্যাকিংয়ের ঘটনায় বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরে জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। এতে ‘হ্যাকিং’ দাবিটি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমজীবী নারীরা পরিবার, সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। সেই শ্রম ও অবদানকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের বক্তব্য সংবিধানস্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

সংগঠনগুলোর মতে, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয় এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্মারকলিপিতে চার দফা দাবি জানানো হয়—
১. অবমাননাকর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার।
২. কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা।
৩. ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে বক্তব্য না দেওয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার।
৪. নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিল।

এক প্রশ্নের জবাবে মোশরেফা মিশু বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সব নাগরিকের মর্যাদা ও সমান অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কমিশনের কার্যকর ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক ও নারী অধিকার সংগঠনের মোট ১১ জন প্রতিনিধি।

Related Posts

Social Media

সর্বশেষ খবর