Brick Lane News

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণা, বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির কী হবে?

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৫৮ এএম

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধ আবারও আলোচনায়। তবে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সম্প্রতি রায় দিয়েছে, ট্রাম্পের ‘সর্বজনীন বেসলাইন শুল্ক’ আইনগতভাবে বৈধ নয়। এটি মার্কিন সংবিধানের পরিপন্থি বলেই ঘোষণা করা হয়েছে ।

এই রায় শুধু আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, তার চেয়ে অনেক বড়। এর ওপর নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির অনেক হিসাব-নিকাশ। আর বাংলাদেশের জন্যও ট্রাম্পের এই শুল্কনীতি ছিল বড় মাথাব্যথার কারণ। সম্প্রতি এই শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিও সই করেছে বাংলাদেশ। এখন প্রশ্ন হলো, আদালতের এই রায়ের পর ওই চুক্তির ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াচ্ছে?

টালমাটাল শুল্ক যুদ্ধ

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই তার পাল্টা শুল্ক নিয়ে অস্থির গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কয়েক হাজার কোটি টাকার ভাগ্যের চাবিকাঠিও এখানে ঘোরাফেরা করছিল। দীর্ঘ দরকষাকষির পর কদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সই করে বাংলাদেশ । যদিও এই চুক্তি নিয়ে দেশের অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমালোচনা ছিল।

এই চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলা অস্থিরতা কিছুটা দূর হবে বলে ভেবেছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় আবারও নতুন করে জটিলতা তৈরি করল। বাংলাদেশ কি এই রায়ে লাভবান হবে, নাকি ট্রাম্পের ‘প্ল্যান বি’ আমাদের আরও বড় সংকটে ফেলবে—এমন প্রশ্ন এখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

আদালতে যা রায় হলো

২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্প ‘ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ’ চালু করেন। এর আওতায় বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকে আমেরিকায় পণ্য আনতে বাড়তি শুল্ক দিতে হতো। বাংলাদেশের জন্যও এই শুল্কের হার ছিল ৩৭ শতাংশ, যা পরে কমে ২০ শতাংশ হয় । দীর্ঘ আলোচনার পর বাংলাদেশ ১৯ শতাংশ শুল্কে রাজি হয়। বিনিময়ে বাংলাদেশকে আমেরিকা থেকে তুলা, সয়াবিন এবং বোয়িং বিমান কিনতে সম্মত হতে হয়।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এখন বলেছে, ট্রাম্প যে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে এই শুল্ক বসিয়েছিলেন, তা ঠিক হয়নি । আদালতের মতে, জাতীয় জরুরি অবস্থার নামে এভাবে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। এটি কংগ্রেসের কাজ ।

ট্রাম্পের ‘প্ল্যান বি’

তবে সহজে হার মানার পাত্র নন ট্রাম্প। আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মাথায় তিনি নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এবার তিনি ভিন্ন আইন ব্যবহার করেছেন। ‘ট্রেড অ্যাক্ট ১৯৭৪’-এর ধারা ১২২ ব্যবহার করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি ।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ১০ শতাংশ শুল্ক আপাতত ১৫০ দিনের জন্য বহাল থাকবে। এর মধ্যে মার্কিন প্রশাসন দেখবে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যে কোনো ‘অসুবিধা’ তৈরি করছে কিনা। যেমন—শ্রমিকের কাজের পরিবেশ, মজুরি, পরিবেশ দূষণ—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। কোনো অনিয়ম পেলে শুল্ক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। আর সবকিছু ঠিক থাকলে শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনা হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এটা এক জটিল সমীকরণ। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সম্প্রতি যে চুক্তি হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য খুব একটা সুবিধার নয়। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলছেন, ‘ট্রাম্পের ট্যারিফ শুরু থেকেই অনিশ্চিত। এখন ১০ শতাংশ শুল্ক দিয়েছে, কয়দিন থাকে সেটাও বলা যাচ্ছে না।’

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলছেন, এই মুহূর্তে পুরোনো চুক্তি নিয়ে কথা না বাড়ানোই ভালো। তার মতে, ‘যেসব শর্তে আমরা চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছি, সেগুলো নিয়ে এখন আলোচনা করতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য কমানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

তার মতে, বাংলাদেশের এখন উচিত চুপ থেকে সময় নেওয়া এবং নিজেদের ঘাটতিগুলো দ্রুত ঠিক করা। ‘যুক্তরাষ্ট্র এখন ১৫০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ তদন্ত করবে। তাই আমাদের উচিত হবে যেসব বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো ঠিক করা বা যথাযথ জবাব দিয়ে প্রস্তুত থাকা,’ বলেন ড. জাহিদ হোসেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

Related Posts

সর্বশেষ খবর

অন্যান্য ক্যাটাগরি