এ বছরের শুরুর দিকে যাদের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করার ছিল, তাদের হয় বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে, কিংবা প্ল্যান আপাতত স্থগিত। যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের প্রভাব পুরো বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে, আর তার মধ্যে ভ্রমণ খাত অন্যতম।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে জানা যায়, জ্বালানি ব্যবসায়ীরা গভীর নজর রেখেছেন হরমুজ প্রণালির হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে। জ্বালানির মূল্য নিয়ে যে সংশয় এখন কাজ করছে, সে কারণে আকাশপথের খরচাও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি এ ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক। বলতে গেলে পুরো দুনিয়ারই এই বিশেষ স্থানটির দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। ইরান এবং ওমানের মধ্যবর্তী মাত্র ২১ মাইল দৈর্ঘ্যের সরু এই প্রণালির পথ দিয়ে দিনে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়। শুধু তাই নয়, বৈশ্বিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এখান দিয়ে যায়। ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
এই জ্বালানি সরবরাহের সংকট তৈরি হলে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির বাজার স্বাভাবিকভাবেই নাগালের বাইরে যেতে থাকবে। এ ক্ষেত্রেই আসছে ভ্রমণ, তথা আকাশপথে চলাচলের প্রসঙ্গ। বিমান সংস্থাগুলোর খরচাপাতির একটি বড় অংশই হচ্ছে জেট জ্বালানি; কাজেই সামান্য দাম বেড়ে গেলেই সেটি সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের মূল্য এবং অতিরিক্ত ফিতে প্রভাব ফেলবে।
ইমে ব্রিটো ওপিআইএস (OPIS)-এর রিফাইনিং ও তেলজাত পণ্যের নির্বাহী পরিচালক এবং জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক। বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানির মূল্য কীভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সরবরাহ নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশক ও বিমান সংস্থাগুলো সাধারণত বাড়তি দাম দিয়েও আগাম জেট জ্বালানি কিনে রাখে।
এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে আগেভাগেই জেট জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়। এই জ্বালানি সরবরাহে গোলযোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি, কারণ এর মজুদ সাধারণত কম থাকে এবং সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ধরনের ট্যাংকের প্রয়োজন হয়। পেট্রোল বা ডিজেলের মতো জেট জ্বালানির বাজারে তাৎক্ষণিক কেনাবেচা খুব কম হয়। ফলে সরবরাহ সংকুচিত হলে দামের ওঠানামা আরও তীব্র হতে পারে।
ব্রিটো আরও বলেন, আমাদের হিসাব অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ১১ লাখ ব্যারেল বিমান জ্বালানি রপ্তানি হয়, যা বিশ্বের মোট ব্যবহারের প্রায় ১৭ শতাংশ।” যেহেতু বিশ্বের জেট জ্বালানির বড় একটি অংশের সরবরাহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে, কাজেই এখানে যে কোনো ওঠানামাই এই খাতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন। জায়গাভেদে এই প্রভাবের অবশ্য কমবেশি আছে।
ব্রিটো বিষয়টি এভাবে ব্যাখ্যা করেন যে, কিছু বিমানবন্দরে জেট জ্বালানির ব্যবহার তুলনামূলক বেশি- যেমন সিঙ্গাপুর ও ফ্রাঙ্কফুর্ট। আবার সরবরাহকারীদের থেকে দূরত্ব কতটুকু, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এই বাজার উদ্বেগ ইতোমধ্যেই এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র সিঙ্গাপুরে দেখা যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কায় বুধবার সেখানে জেট জ্বালানির দাম ৭২ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ২২৫.৪৪ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছায়।
তবে আগামী সপ্তাহগুলোতে উত্তেজনা কমে এলেও এবং নৌপথ খোলা থাকলেও জ্বালানি চুক্তি, জাহাজ চলাচলের সময়সূচি এবং মজুত সীমাবদ্ধতার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় এই বিঘ্ন ও এর মূল্য প্রভাব কিছু সময় ধরে থেকে যেতে পারে।
শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের কত ভাড়া গুনতে হবে, তা নির্ভর করবে এই বিঘ্ন কতদিন স্থায়ী হয় এবং বিমান সংস্থাগুলো আগেভাগেই নিজেদের পদ্ধতিতে কতটা জ্বালানি দাম নির্ধারণ করে রেখেছে তার ওপর।





