Brick Lane News

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে ‘শিগগিরই’ আইসিবিএম অস্ত্র বানাবে ইরান

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪:১৩ পিএম

ইরানে কেন হামলা করা উচিত—এ জন্য আরেকটি যুক্তি দাঁড় করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ইরান ‘শিগগিরই’ যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। দেশটির পরমাণু কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে বলে যুক্তি দিয়েছিলেন। সম্প্রতি স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে দেওয়া ভাষণে এই দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) ইতোমধ্যে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যা ইউরোপ ও বিদেশে (মধ্যপ্রাচ্য) আমাদের ঘাঁটিগুলোর জন্য হুমকি। এ ছাড়াও তার শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম, এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে যাচ্ছে।’

এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রথমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা কর্মকর্তারা ইরান আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরির জন্য প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দিল। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বা ইউরোপীয় সরকারগুলো বলেছে, ইরান ইচ্ছে করলেই সামরিক মহাকাশ কর্মসূচি তথা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির আড়ালে আইসিবিএম তৈরি করতে পারে।

যদিও মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কমান্ডাররা সম্ভাব্য আইসিবিএম কর্মসূচির কারণে আসন্ন হুমকি সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো সতর্কবার্তা দেননি।

গত বছর প্রকাশিত প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ‘মহাকাশ উৎক্ষেপণ যান রয়েছে। তেহরান চাইলে ২০৩৫ সালের মধ্যে সামরিকভাবে কার্যকর আইসিবিএম তৈরি করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে।’

একজন মার্কিন কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে বলেছেন, ইরান বছরের পর বছর ধরে একটি আইসিবিএম তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে এবং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করছে। কিন্তু নাটকীয়ভাবে নতুন কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর থেকে ইরানের আসলে আইসিবিএম তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, বা তারা আগের পরিকল্পনার তুলনায় দ্রুত এই সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে কি না—এটা পরিষ্কার নয়। অর্থাৎ, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না এবং তার বাস্তবায়ন কত দ্রুত হবে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

ইরান আইসিবিএম সক্ষমতার কতটা কাছাকাছি জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমি অনুমান করব না যে তারা কতটা দূরে, তবে তারা অবশ্যই অর্জনের চেষ্টা করছে। এটা নতুন নয়। তারা আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি তাদের মহাকাশে উপগ্রহ উৎক্ষেপণের চেষ্টা করতে দেখেছেন। আপনি তাদের দেখেছেন, তাদের কাছে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বৃদ্ধি করছে এবং স্পষ্টতই তারা একদিন এমন অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যা মার্কিন মহাদেশীয় অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।’

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, আইসিবিএম সক্ষমতা থাকলে এবং ‘আমেরিকার মৃত্যু’ স্লোগান দেওয়া একটি দেশ হিসেবে ইরান যে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ এ কথা তুলে ধরতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একেবারেই ঠিক বলেছেন।

তবে ইরান আইসিবিএম কর্মসূচি থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, সম্প্রতি ট্রাম্পের দেওয়া ভাষণ ‘বড় ধরনের মিথ্যাচারে’ ভরা।

এদিকে জাতিসংঘে ইরানের মিশন তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি।

অলাভজনক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল কিমবলের বিশ্বাস, ইরানের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য অনুসন্ধান সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্য ‘অতিরঞ্জিত’। তিনি বলেন, ‘ইরানের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা এই অঞ্চলের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। তবে তাদের আইসিবিএম ক্ষমতা নেই। এমন সক্ষমতা যদি থেকেও থাকে তবুও সেটিতে বসানোর মতো কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ইরানে কাছে নেই। ট্রাম্প ইরানের হুমকিকে অতিরঞ্জিত করার চেষ্টা করছেন।’

গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যা ১ থেকে ৩ হাজার কিলোমিটার (৬২১ থেকে ১ হাজার ৮৬৪ মাইল) অতিক্রম করতে সক্ষম। এই অস্ত্রগুলো ইরানকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কিছু অংশে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম।

Related Posts

ঠাকুরগাঁওয়ের বনকালী মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার মহলবাড়ি গ্রামে অবস্থিত শ্রীশ্রী বনকালী মন্দির-এ প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা...

Read more

সর্বশেষ খবর

অন্যান্য ক্যাটাগরি