নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সকল প্রার্থীর জন্য নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে জেল ও জরিমানাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীর নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে (বিজয়ী ও পরাজিত উভয়) সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নিকট ফরম-২২ জমা দিতে হবে।
যারা এজেন্ট নিয়োগ করেননি, তাদেরই নিজেকে এজেন্ট হিসেবে গণ্য করে ফরম-২২-এ এফিডেভিটসহ হিসাব জমা দিতে হবে। রিটার্নের একটি অনুলিপি কমিশন সচিবালয়েও পাঠাতে হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, বিজয়ী বা পরাজিত সকল প্রার্থীকে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বা যাদের কোনো ব্যয় হয়নি, তাদেরও শূন্য ব্যয় উল্লেখ করে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
শাস্তির বিষয়েও কমিশন স্পষ্ট করেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৪৪ গ অনুযায়ী, রিটার্ন দাখিল না করা বা আদেশ লঙ্ঘন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অপরাধীকে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অন্তত ২ বছর কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
রিটার্নিং অফিসাররা ব্যয়ের বিধান লঙ্ঘিত হলে সরাসরি মামলা দায়ের করবেন। দাখিলকৃত ব্যয় বিবরণী ও দলিলপত্র এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে, এবং জনসাধারণ ১০০ টাকা ফি দিয়ে তা পরিদর্শন বা সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ফরম সরবরাহ করেছে এবং গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে দাখিলের অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দিয়েছে।





