রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ধানের শীষ প্রতীকের দুটি সিলমারা ব্যালট এবং চারটি গণভোটের ব্যালট উদ্ধারের দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইউপি সদস্যদের ও স্থানীয়দের অভিযোগে ঘটনা জানার জন্য এলাকায় যাওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুনকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করা হয় এবং বের হওয়ার সময় তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ফজলু মিয়ার দাবি, শিক্ষার্থীদের হাতে সিলমারা ব্যালট আসার পর এলাকায় খবর ছড়িয়ে গেলে ইউএনওকে বিষয়টি জানানো হয়। ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যালট যাচাই-বাছাই ও জব্দ করার প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে অবরুদ্ধ করেন। পরে বিকেল চারটার দিকে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহায়তায় তিনি ঘটনাস্থল ছাড়েন।
ইউএনও পপি খাতুন বলেন, “ব্যালটগুলো আসলে সত্য কি না তা যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। আমাদের কাছে থাকা ব্যালটের সাথে সিল এবং নম্বর মিলে যাচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করার সময় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে মব ভায়োলেন্স তৈরি করা হয়। গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।”
পীরগঞ্জ থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, “ইউএনও বের হওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা তাকে ঘিরে ধরে এবং গাড়ির কাচ ভাঙে।”
উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, হাসারপাড়া কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৩,৩৬৯। ভোটগ্রহণ হয়েছে ২,৪০২টি। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ১,৫৩২ ভোট, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৮৩২ ভোট। আসনটিতে জয়লাভ করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমীন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. রাহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, “সব এজেন্টদের সামনে ভোট শুরু এবং গণনা হয়েছে। ব্যালট বাক্সের বাইরে পাওয়া ব্যালটের বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই।”
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মুখপাত্র ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রমিজ আলম জানিয়েছেন, ঘটনাটি তাদের জানা আছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





