কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ভাষাশহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় করা দোয়া-মোনাজাতে জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ না করায় বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। পরে ছাত্রদলের তোপের মুখে আবার মোনাজাত করা হয়। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা শেষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা বলেন, একুশের প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাষাশহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম আশরাফ উদ্দিন খান। মোনাজাতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করে মোনাজাত শেষ করায় ছাত্রদল তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানায়। তোপের মুখে পুনরায় মোনাজাত পরিচালনা করেন ইমাম।
তবে জিয়াউর রহমানের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ শাখা ছাত্রদলের। মোনাজাতে জিয়াউর রহমানের নাম না নেওয়ায় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বলতে শোনা যায়, ‘আরেকবার মোনাজাত করান, না হলে ঝামেলা হবে কিন্তু’, ‘ভিসি স্যার এটার জবাব দিক, কেন ভুলে গেল? আপনি এখানে প্রেজেন্ট থাকা অবস্থায় এটা হলো কেন? আপনি জবাব দেন। এটা ভুল না স্যার, এটা পরিকল্পিত ভুল। ইচ্ছাকৃত ভুল।’
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মোনাজাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করা— আমি মনে করি এটি সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে। কারণ আমাদের এই ইমাম সাহেব অত্যন্ত ভালো মানুষ, অত্যন্ত ভদ্র, আজ পর্যন্ত উনি কোথাও মিসটেক (ভুল) করেননি। কিন্তু উদযাপন কমিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে নামটি বাদ দিয়েছে বলে আমি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের নেতৃত্বে যারা উপাচার্যকে জিম্মি করে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতেছে। আমরা এই সকল বিষয়ে নিন্দা জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানসহ বায়ান্ন, একাত্তর ও চব্বিশের সব শহীদের জন্য দোয়ার কথা ইমামকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলাম। হয়তো উনি ভুলে যেতে পারেন, এটা নিয়ে আর হইচই না করি।
পেশ ইমাম আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, ‘প্রথম মোনাজাতে সব শহীদের জন্য দোয়া করা হলেও ঘটনাক্রমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামটা মোনাজাতে আসেনি বা আমার বলা থেকে ছুটে গিয়েছিল। এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল। আমরা সাধারণত তারাবি পড়ানোর পর শারীরিক ক্লান্তির মধ্যে থাকি, তাই মানুষ হিসেবে ক্লান্তিবোধ থেকেই এই ভুলটি হয়ে থাকতে পারে। পরবর্তীতে উপস্থিত ব্যক্তিরা যখন আমাকে বিষয়টি বললেন যে নাম বাদ পড়েছে, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে নামটি সত্যিই বলা হয়নি। এই অপূর্ণতা দূর করতেই দ্বিতীয়বার মোনাজাত করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, মানুষ মাত্রই ভুল, তিনি (ইমাম) ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করেননি। প্রতিবাদ জানানোর পর ইমাম ভুল স্বীকার করে পুনরায় মোনাজাত করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই আমি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ ও লালন করি। আয়োজক কমিটির বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত ভুলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
মোনাজাতের সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কোন ছাত্র আমাকে অবস্ট্রাক্ট (বাধা প্রদান) করেছে, এটি খুবই জঘন্য একটা অপরাধ করেছে এরা। আমি তো এখান থেকে বেরিয়ে আসছি, তাহলে সেখানে আমাকে অবস্ট্রাক্ট করার কী অর্থ? আমি তো এটা বুঝলাম না।’





