নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাত খুন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ২২ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এই পদে নিয়োগ প্রদান করে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা ৫৮ বছর বয়সী সাখাওয়াত হোসেন খান তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন ছাত্রদলের মাধ্যমে। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন এবং পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ ও নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজ থেকে আইন পেশায় যুক্ত হন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দুই মেয়াদে সভাপতি ছিলেন।
সাখাওয়াত হোসেন খান ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জে আলোচিত খুন মামলার পর সারা দেশে পরিচিত হন। তিনি ওই মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আইনি লড়াই চালিয়ে যান এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন। এছাড়া তিনি শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনি সহায়তা প্রদান করেন।
প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ার পর সাখাওয়াত হোসেন নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে তাঁর প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি শহরটিকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ৫০ থেকে ৬০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে টেকসই ও মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে চান। তার লক্ষ্য শহরের যানজট, ধুলাবালু ও কিশোর গ্যাং নির্মূল করা এবং শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ের বিভাজন দূর করে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দল-মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবেন। তিনি নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করে একটি বাসযোগ্য নগরী উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পসমৃদ্ধ শহর। তবে শহরটি অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন সেবা ঠিকভাবে প্রদান না হওয়ায় নাগরিকরা সুবিধা পাচ্ছেন না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরীর সমস্যা সমাধান করতে তিনি উদ্যোগ নেবেন।
সিটি এলাকার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন আর্থিক সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, মাদক, ফুটপাত সমস্যা ও যানজট। ৫০ থেকে ৬০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে এই সমস্যাগুলো নিরসন সম্ভব হবে এবং নারায়ণগঞ্জে পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা করছেন।





