Brick Lane News

মুখোমুখি জাপা ও এনসিপি; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ

প্রকাশিত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । ৪:৫১ পিএম

রংপুর-৪ (কাউনিয়া–পীরগাছা) আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আবু নাসের মো. মাহবুবার রহমানের গাড়ি আটকে ‘দোসর’ স্লোগান দিয়ে হেনস্তা ও গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে রংপুর নগরীর সরেয়ার তল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এনসিপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী জাপা প্রার্থীর গাড়ি গতিরোধ করেন। এ সময় ‘দোসর, দোসর’ স্লোগান দিতে দিতে একপর্যায়ে গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়া হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় একটি দোকানে অবরুদ্ধ থাকা পারুল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে মাহিগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমান অভিযোগ করে বলেন, পীরগাছা থেকে রংপুর নগরীতে যাওয়ার পথে হাউদারপাড় এলাকা অতিক্রম করার আগেই ৭–৮টি মোটরসাইকেলে করে এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া করেন। পরে সরেয়ার তল এলাকায় তার গাড়ি আটকিয়ে ‘দোসর’ স্লোগান দিয়ে চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, তাকে দোসর ট্যাগ দিয়ে মব তৈরি করে ভোটারদের টাকা দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করতেই পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে গণসংযোগ ও ভোটারদের টাকা দিচ্ছিলেন। সাধারণ জনগণ তাকে আটকালে এনসিপির নেতাকর্মীরা সেখানে যান। পরে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বিপুলসংখ্যক কর্মী ডেকে এনে এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ ঘটনায় তারা প্রশাসনের কাছে প্রমাণ জমা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

পীরগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বজলুর রশিদ মুকুল বলেন, কোনো প্রার্থীকে হেনস্তার ঘটনায় জামায়াতের কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই।

মাহিগঞ্জ থানার ওসি মাইদুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

Related Posts

সর্বশেষ খবর

অন্যান্য ক্যাটাগরি