Brick Lane News

আন্তর্জাতিক অপরা ধট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে ভাঙন; ‘রাজসাক্ষী’ বানিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:৩৯ পিএম

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত অপরাধের মামলার বিচার পরিচালনার জন্য পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নবগঠিত সরকার। অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলামকে নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা গেজেট প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একই আদেশে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পাওয়া তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করা হয়। বিকেলে দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চিফ প্রসিকিউটর পদে এই পরিবর্তনের সময় প্রসিকিউশন টিমের ভেতর থেকেই গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রসিকিউশন টিমের সদস্য অ্যাডভোকেট বিএম সুলতান মাহমুদ সাবেক চিফ প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ‘রাজসাক্ষী বাণিজ্য’ ও ‘সেটলিং সিন্ডিকেট’ পরিচালনার অভিযোগ তুলেছেন।

তিনি দাবি করেন, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী করার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং আশুলিয়ার লাশ পোড়ানো মামলার এক আসামিকেও অর্থের বিনিময়ে রাজসাক্ষী করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, তিন-চার জনের একটি প্রভাবশালী চক্র তদন্ত সংস্থায় বসে এসব সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করেছে।

সুলতান মাহমুদ আরও বলেন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে বা অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সিদ্ধান্ত শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বেইমানির শামিল।

প্রসিকিউশন সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন আইনজীবী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। সেখানে ‘গোপন সমঝোতা’ ও ‘সেটলিং বাণিজ্য’-এর ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তার দাবি, ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর পরিবর্তনের পর প্রসিকিউশন টিমে ভাঙনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল বা গণ-পদত্যাগের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

তবে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এ ধরনের গুঞ্জন নাকচ করে বলেন, নতুন চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং সবাই মিলে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। বিচার কার্যক্রমে কোনো ধরনের স্থবিরতা আসবে না বলেও তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, তাজুল ইসলামের দায়িত্বকালেই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। নতুন সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই চিফ প্রসিকিউটর পদে এই পরিবর্তন বিচার প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

Related Posts

সর্বশেষ খবর

অন্যান্য ক্যাটাগরি