শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন অনলাইন নিউজপোর্টাল ঢাকা পোস্টের জেলা প্রতিনিধি নয়ন দাস (২৯)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নয়ন দাস বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নাগেরপাড়া এলাকায় এক মাদক ব্যবসায়ীকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। বিষয়টি যাচাই করতে নয়ন দাস, যুগান্তরের গোসাইরহাট প্রতিনিধি শাহেদ আহম্মেদ বাবু, দেশ প্রতিদিনের আলম সরদার ও স্থানীয় সাংবাদিক হাসান শিকদার ঘটনাস্থলে যান। তারা দূর থেকে মাদক ও জুয়ার আস্তানার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা সাংবাদিকদের চিনে রেখেছিল এবং পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।
নয়ন দাস দাবি করেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে নাগেরপাড়া বাজারে তার মোটরসাইকেল গতিরোধ করা হয়। মনির জমাদ্দার, সাইদুল আকন, নজরুল কাজী ও লিখন কাজীসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন, ক্যামেরা ভেঙে দেন এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেন। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। অবস্থা খারাপ হওয়ায় শুক্রবার সকালে হাসপাতলে ভর্তি করা হয়।
নয়ন দাস বলেন, “মাদক ও জুয়ার আসরের ছবি-ভিডিও সংগ্রহের কারণে আমাকে পথরোধ করে হামলা করা হয়েছে। এটি শুধু হামলা নয়, পেশাগত দায়িত্বে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা। দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান মিঞা বলেন, নয়ন দাসের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি; তারা পলাতক রয়েছেন।
শরীয়তপুর ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব নুরুল আমীন রবীন বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এটি সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা। দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।”
গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শুক্রবার বিকেলে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক, শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





