আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কতৃক পুনরায় চালু করা ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপটি নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে যে, এই অ্যাপটি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি নতুন উদ্ভাবন। তবে দেশের অন্যতম ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘ফ্যাক্ট চেক জোন’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই দাবিটি তথ্যগতভাবে সঠিক নয়।
ফ্যাক্ট চেক জোন-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপটি আসলে কোনো নতুন তৈরি করা সফটওয়্যার নয়। এটি মূলত ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রিলিজ করা হয়েছিল।
ডিজিটাল জন্ম ইতিহাস ও দালিলিক প্রমাণ
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অ্যাপল স্টোর (iOS) এবং গুগল প্লে-স্টোরের ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে যে, অ্যাপটির প্রথম সংস্করণ (ভার্সন ১.০.৩) রিলিজ হয়েছিল ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের ঠিক আগে ৬ ও ৭ জানুয়ারি পরপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট (ভার্সন ১.০.৬ ও ১.০.৭) দেওয়া হয়। এমনকি অ্যাপ স্টোরের মেটাডেটাতে এখনও “© Smart Election Management BD 2024” কপিরাইট তথ্যটি সংরক্ষিত আছে।
গণমাধ্যম ও সরকারি আর্কাইভের তথ্য
২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় দেশের প্রধান সারির গণমাধ্যমগুলোতে এই অ্যাপ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদগুলোও এখন নতুন প্রমাণের ভিত্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ৫ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’ এবং ‘বিডিনিউজ২৪’ অ্যাপটি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
এছাড়া, ফ্যাক্ট চেক জোন তাদের প্রতিবেদনে পিরোজপুর সদর উপজেলা ও রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের সরকারি পোর্টালে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত নোটিশগুলো তুলে ধরেছে। পিরোজপুর সদর উপজেলার ওয়েবসাইটে এখনও ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখের একটি নোটিশ সচল রয়েছে যেখানে ভোটারদের এই অ্যাপটি ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
২০২৬-এর ‘নতুন’ দাবি বনাম কারিগরি বাস্তবতা
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাপটির যে সংস্করণটি (ভার্সন ৩.০.৩) উন্মোচন করা হয়েছে, তা মূলত একটি ‘মেজর আপডেট’। অ্যাপের ডেটাবেস পরিবর্তন করে নতুন নির্বাচনের ভোটার তালিকা ও কেন্দ্রের তথ্য যোগ করার মানে এই নয় যে অ্যাপটি নতুন তৈরি করা হয়েছে।
প্লে-স্টোরে অনেক সময় রিলিজ ডেট সরাসরি না থাকলেও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা ইনডেক্সিং ডেটা থেকে দেখা যায় যে, এই অ্যাপটি বিগত ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেটে বিদ্যমান। এমনকি ২০২৪ সালের ৩ ও ৫ জানুয়ারিতে প্লে-স্টোরে ব্যবহারকারীদের দেওয়া অসংখ্য রিভিউ এই তথ্যের অকাট্যতা প্রমাণ করে।
ফ্যাক্ট চেক জোন-এর প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনী অ্যাপকে ২০২৬ সালে ‘নতুন উদ্ভাবন’ হিসেবে প্রচার করা একটি বড় ধরণের তথ্য বিভ্রাট। মূলত পুরোনো একটি অ্যাপকেই নতুন নির্বাচনের উপযোগী করে আপডেট করা হয়েছে মাত্র।





