Brick Lane News

রোববার থেকে নিরবিচ্ছিন্ন কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরে

প্রকাশিত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । ৪:৫৭ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে পরিস্থিতি ফের চরম আকার ধারণ করেছে। দাবি আদায়ে সরকারের দমনমূলক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ না হলে আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে বন্দরে লাগাতার ও সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সংগঠনটির জরুরি সভা শেষে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে সচল হওয়ার একদিন পরই দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটি আবারও অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্কপ নেতা এ এম নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় নেতারা অভিযোগ করেন, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেনের আশ্বাসে রমজান ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বিবেচনায় শ্রমিকরা সাময়িকভাবে কর্মবিরতি স্থগিত করেছিলেন। কিন্তু আলোচনা শেষে সমস্যা সমাধানের বদলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নেতাদের দাবি, বন্দর কর্তৃপক্ষ ১৫ জন শ্রমিকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছে, যা শ্রমিক আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ‘অনৈতিক ও নিন্দনীয়’ আখ্যা দিয়ে তারা বলেন, ভয় দেখিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না।

সভায় বক্তারা বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা প্রক্রিয়া ঘিরে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। শ্রমিকদের মতে, এ ইস্যুতে আন্দোলনের বদলা হিসেবেই দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। বরং এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নৌ উপদেষ্টা, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বন্দর চেয়ারম্যানের সম্পদের হিসাব তদন্ত হওয়া উচিত।

স্কপ নেতারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এনসিটি ইজারার বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দমনে যেকোনো হয়রানিমূলক পদক্ষেপ কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। পরিস্থিতিকে তারা ‘আগুন নিয়ে খেলার’ সঙ্গে তুলনা করেন।

জানা গেছে, শ্রমিকদের টানা আন্দোলনের কারণে বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ১৫ শ্রমিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদককে চিঠি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা ওই চিঠিতে মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকনসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাদের কয়েকজনকে ইতোমধ্যে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে।

সভা থেকে জানানো হয়, শনিবারের মধ্যে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়কে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে হবে এবং শ্রমিকদের বদলি ও হয়রানিমূলক সব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় রোববার থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু হবে।

Related Posts

সর্বশেষ খবর

অন্যান্য ক্যাটাগরি