বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তিন সাবেক চেয়ারম্যানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল আমলি আদালতে এ মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার চাঁদপুর গ্রামের আতিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।
মামলায় আসামিরা হলেন— দুদকের সাবেক ৩ চেয়ারম্যান হাসান মশহুদ চৌধুরী, হাবিবুর রহমান ও আবুল হাসান মনজুর এবং সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। এর মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাসান মনজুর আগেই মারা গেছেন।
যা আছে অভিযোগে
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা একে অপরের সঙ্গে যোগসাজশ করে তৎকালীন সরকারপ্রধানদের খুশি করা এবং নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তৈরি করেন। ওই উদ্দেশ্যে তারা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দায়ের করেন। যেখানে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, মামলাটি পরিচালনার সময় আসামিরা জাল কাগজপত্র তৈরি, মিথ্যা স্বাক্ষর ও মিথ্যা সাক্ষ্য উপস্থাপন করেন। বিচার কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জাল করে আদালতে উপস্থাপন করা হয় এবং এর মাধ্যমে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। আসামিদের করা এসব অপরাধের কারণে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
আপিল বিভাগের রায়
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ছাত্রজনতার গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের পর দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ সব আসামিকে খালাস দেন। আপিল বিভাগের ওই রায় ও পর্যবেক্ষণ জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর বাদী জানতে পারেন যে, মিথ্যা অভিযোগ তৈরি, মিথ্যা সাক্ষ্য ব্যবহার, জাল কাগজপত্র প্রস্তুত এবং আদালতে তা উপস্থাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
বাদীর দাবি
মামলায় বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান মিথ্যা মামলায় কারাভোগ করেছেন এবং নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাই জালিয়াতি, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান, জাল নথি তৈরি ও ব্যবহারসহ বিভিন্ন অপরাধে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
জানতে চাইলে মামলার বাদী আতিকুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি একটি মামলা দায়ের করেছি। ওনারা (আসামি) মিথ্যা মামলা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে সাজা দিয়েছেন। সেই মিথ্যা মামলা বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন জেল খেটেছেন। জাতীয়তাবাদী একজন কর্মী হিসেবে আমি মনে করি এটা চরম অন্যায় হয়েছে। তাই আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চেয়েছি।’
আসামিদের মধ্যে একজন মৃত- এ বিষয়ে জানতে চাইলে আতিকুর বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতাম না।’





