রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ীর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না পেয়ে ওই ব্যবসায়ীর কর্মচারিকে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় চাঁদার টাকা না দিলে গুলি করে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ফারুক ওরফে ‘কালা ফারুক’। তিনি বিএনপি নেতা বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। তবে বিএনপিতে তার পদ ও পদবি আছে বলে জানা যায়নি।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় অন্যান্য ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ী শাহিনের কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ফারুক। চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকি দেন তিনি। এতে কাজ না হলে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় দোকানে গিয়ে শাহিনকে না পেয়ে তার কর্মচারি হানিফের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এসময় চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ওই কর্মচারীকে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার পাশাপাশি মারধর করা হয়। পরে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান।
এ ঘটনায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন শাহিন নামে ওই ব্যবসায়ী ।
অভিযোগে তিনি দাবি করেন, বসিলা সিটি হাউজিংয়ের রোড নম্বর–০৭ এলাকায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা পরিচালনা করেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় আটজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মোটরসাইকেলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনার পর তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জানান, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। দ্বিতীয় দফার চাঁদা দাবির পর থেকে ভয় ও আতঙ্কে ওই ব্যবসায়ী তার দোকান বন্ধ রেখেছেন।
ভুক্তভোগী দোকানের কর্মচারী হানিফ বলেন, প্রথম দফায় ফারুকসহ কয়েকজন এসে চাঁদা দাবি করে। এরপর দোকানের মালিক জরুরি প্রয়োজনে গ্রামে চলে গেলে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সাত/আটজন লোক এসে দুই লাখ চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে দুবার ইলেকট্রিক শক দেয় এবং মারধর করে। যাওয়ার সময় বলে যায়- তোর মালিককে বলবি, দুই লাখ টাকা চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে পারবে না। দুজনকেই গুলি করে শেষ করে ফেলব। এ ঘটনার পর থেকে দোকান বন্ধ রয়েছে।
অভিযুক্ত ফারুক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। নিজে গিয়ে চাঁদা চেয়েছি এমন প্রমাণ থাকলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। আমি ভালো হয়ে গেছি। কেউ গেলেই আমার নাম চলে আসে।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





