ব্রিটেনে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে প্রায় ২ লাখ পাউন্ডের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনায় ২৫ বছর বয়সী অজয় শিনজিনকে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। লন্ডনের ইননার লন্ডন ক্রাউন কোর্টে এই সাজা ঘোষণা করা হয়। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের নভেম্বরে বিভিন্ন ব্যক্তির ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট ও কয়েনবেস অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত ছিলেন তিনি।
আদালতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিনজিন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গ্রাহকের টেলিফোন সংযোগের সিম কার্ড-সংক্রান্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগান। তদন্তকারীরা অননুমোদিত নেটওয়ার্ক কার্যক্রমের সূত্র ধরে ব্রিটিশ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান বিটির গ্রাহকদের আপস করা ফোন সংযোগের সন্ধান পান। এসব সংযোগ চারটি বিশেষ ধরনের হ্যান্ডসেটে স্থানান্তর করা হয়েছিল, যেগুলোতে দুটি আইএমইআই নম্বর ও ই-সিম ব্যবহারের সুবিধা ছিল।
ফোন নম্বরগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোনে পাঠানো একবার ব্যবহারযোগ্য নিরাপত্তা কোড হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। ফলে দুই স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে অর্থ চুরি করা হয়।
চুরি করা অর্থ দিয়ে লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফ এলাকায় বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ এবং বিশেষভাবে তৈরি সোনার প্রলেপ দেওয়া দাঁতের অলংকার কেনার মতো বিলাসী জীবনযাপন করেন শিনজিন।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর হিথ্রো বিমানবন্দরে লন্ডন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং অপরাধলব্ধ সম্পদ স্থানান্তরের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
এই ঘটনা মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে পাঠানো নিরাপত্তা কোডের ওপর নির্ভরশীল আর্থিক নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও সামনে এনেছে। সিম কার্ডের নিয়ন্ত্রণ অবৈধভাবে অন্যের হাতে চলে গেলে ব্যাংকিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ ধরনের ঘটনায় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা থাকলে আর্থিক ক্ষতির দায় কার ওপর বর্তাবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্রঃ ডেইলি ড্যাজলিং ডন
এমকে