বগুড়ার নন্দীগ্রামে ভোটের টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদের একটি চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ আসে। এ ঘটনার খবর শুনে তার মা মাজেদা বেগম মঙ্গলবার সকালে মারা গেছেন বলে দাবি করেছে বিএনপি।
সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪ নম্বর থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে বিএনপি নেতাকর্মীরা জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় নেতা বেলাল হোসেনকে আটক করেন। পরে তাদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করা হয়।
আটক দুজনকে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে রাখা হলে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১২টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে লাঠিসোঁটা হাতে জামায়াত সমর্থকেরা ওই বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও হামলা হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে আটক দুজনকে তাদের সমর্থকেরা উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত মাসুদ রানাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিএনপির দাবি, হামলার সময় তার চোখে আঘাত করা হয় এবং একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি ও জামায়াত। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন দাবি করেন, হামলার খবরে মানসিক আঘাতে মাসুদ রানার মা মাজেদা বেগম স্ট্রোকে মারা যান।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের পক্ষ থেকে কোনো হামলা হয়নি। বরং বিএনপি নেতাকর্মীরাই জামায়াতের কর্মীদের মারধর করে আটকে রাখেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ’ বলে দাবি করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।





