টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন, বোর্ডরুম দ্বন্দ্ব ও বৈষম্যের অভিযোগে বিশ্ব ক্রিকেট যখন গভীর অনিশ্চয়তায়, তখন ভিন্ন সুরে কথা বলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ভূমিকার প্রশংসা করে বিসিবি একই সঙ্গে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজনের জন্য পাকিস্তানকে অনুরোধ জানিয়েছে।
বিসিবির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিসিবি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ যে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে, তার জন্য বোর্ড কৃতজ্ঞ। বিশেষভাবে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন রাজা নকভি, তাঁর বোর্ড ও পাকিস্তানের ক্রিকেট সমর্থকদের প্রতি ‘গভীর ও হৃদয়স্পর্শী কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুরো সময়জুড়ে পাকিস্তান যে ক্রীড়াসুলভ মনোভাব, সহমর্মিতা ও সংহতির পরিচয় দিয়েছে, তা দৃষ্টান্তমূলক।
বিসিবি সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পাকিস্তান যে অতিরিক্ত উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে বোর্ড আবেগাপ্লুত। তিনি জানান, পাকিস্তান সফর শেষে আলোচনার সম্ভাব্য ইতিবাচক ফলাফলের প্রেক্ষিতে তিনি পাকিস্তানকে অনুরোধ করেছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটি আয়োজন করতে। তার মতে, পুরো ক্রিকেট ইকোসিস্টেমের স্বার্থেই এই ম্যাচটি হওয়া প্রয়োজন।
এই সংকটের সূত্রপাত হয় আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের চুক্তি বাতিলকে কেন্দ্র করে। ওই সিদ্ধান্তে বিসিসিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি দ্রুত কেবল একটি খেলোয়াড়ের চুক্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে কূটনৈতিক ও বোর্ডরুম রাজনীতির সংকটে রূপ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়।
তবে বাংলাদেশের দাবি আমলে না নিয়ে আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই অস্থিরতার মধ্যেই পাকিস্তানও ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে এই অবস্থান পুরো বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিরপেক্ষ ভেন্যুর সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও এই সংকট প্রমাণ করে যে বিষয়টি আর শুধু ভেন্যু বা নিরাপত্তার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বিশ্ব ক্রিকেটের ক্ষমতার কাঠামো ও সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়ার ওপর গভীর আস্থার সংকটের প্রতিফলন ঘটেছে।





