Brick Lane News

‘ড. ইউনূসের গোপন চুক্তির দায়ে ৪২ হাজার কোটি টাকার মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানি করতে বাধ্য হবে দেশ’

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:২৬ পিএম

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেছেন, গত ৫৫ বছরে দেশের পররাষ্ট্রনীতি ছিল নতজানু, যা দেশের স্বার্থের প্রতি অমনোযোগী ছিল। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে আমেরিকার সঙ্গে একটি গোপন বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে। চুক্তির কারণে আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকার মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানি করতে হবে, যা দেশের কৃষি ও কৃষক সম্প্রদায়কে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত ‘নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা: প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বজলুর রশিদ এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদ।

তিনি আরও দাবি করেন, গত ৫৫ বছরে ভারত, আমেরিকা ও জাপানের সঙ্গে হওয়া সব আন্তর্জাতিক চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রম নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত।

বজলুর রশিদ বলেন, শুধু নির্বাচন মানেই গণতন্ত্র নয়। হিটলার বা মুসোলিনিও নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন, কিন্তু তাদের শাসন ফ্যাসিবাদী ছিল। গণতন্ত্র কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নির্ভর করে জনগণের ক্ষমতায়ন ও মৌলিক অধিকার রক্ষার ওপর।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমমর্যাদা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী বিদ্যুৎ চুক্তি বাতিলের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ২০২৬ সালে গঙ্গার পানি চুক্তির নবায়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

নির্বাচন প্রসঙ্গে বজলুর রশিদ উল্লেখ করেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৬ জন কোটিপতি। এতে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হয়েছে। নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের কোনোটি বাস্তবায়ন হয়নি।

তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদের মধ্যে সিন্ডিকেট ও রাজসাক্ষী কেনাবেচার অভিযোগও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত দুর্বলতার বিষয়েও তিনি সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পুকুরভিত্তিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ২ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সোহরাব হাসান, মনজুরুল ইসলাম, আশরাফ কায়সার, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ।

Related Posts

দুদিনের ব্যবধানে বাবা-মায়ের মৃত্যু, হাতকড়া পরে আবার জানাজায় দুই ভাই

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় দুই দিনের ব্যবধানে বাবা-মাকে হারিয়েছেন কারাগারে থাকা দুই সহোদর ফরিদুল আলম ও মোহাম্মদ ইসমাইল। মায়ের মৃত্যুর পর...

Read more

সর্বশেষ খবর

অন্যান্য ক্যাটাগরি