ব্রিকলেন নিউজ ডেস্ক | লন্ডন
বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে একদল বিশিষ্ট নাগরিক ও বুদ্ধিজীবীর উদ্যোগে সামনে এসেছে ‘বাংলাদেশ সনদ’। সম্প্রতি এই প্রস্তাবনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি বর্তমান সংবিধানের কোনো বিকল্প হতে যাচ্ছে, নাকি রাষ্ট্রের মৌলিক স্তম্ভগুলো পুনর্গঠনের একটি রূপরেখা?
কী আছে এই ‘বাংলাদেশ সনদ’-এ? সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘বাংলাদেশ সনদ’ মূলত একটি জাতীয় ঐকমত্যের দলিল। এতে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা, মানবাধিকার, সুশাসন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবকারীরা মনে করছেন, বাংলাদেশে বারবার যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়, তার স্থায়ী সমাধান কেবল সংবিধান সংশোধনে নয়, বরং একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে সম্ভব।
সংবিধানের বিকল্প নাকি পরিপূরক? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এই সনদ বর্তমান সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করতে পারে। বিশেষ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার এবং নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার যে কথা এতে বলা হয়েছে, তা বিদ্যমান আইনি কাঠামোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সনদের উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করেছেন, এটি সংবিধানের সরাসরি বিকল্প নয়, বরং একটি ‘জাতীয় অঙ্গীকারনামা’ হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো সরকারকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে বাধ্য করবে।
প্রবাসীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া লন্ডনের ইস্ট এন্ড থেকে শুরু করে ব্রিটেনের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত সচেতন প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ব্রিকলেনের রাজনৈতিক আড্ডায় অনেককেই বলতে শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশে টেকসই গণতন্ত্র ফেরাতে হলে এমন একটি ‘ন্যাশনাল চার্টার’ বা জাতীয় সনদের প্রয়োজন ছিল অনেক আগে থেকেই। ব্রিটেনের সংসদীয় গণতন্ত্রের উদাহরণ টেনে অনেকেই বলছেন, লিখিত আইনের বাইরেও কিছু রাজনৈতিক মূল্যবোধ থাকা জরুরি, যা এই সনদের মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যারা এই সনদটি প্রণয়নের পেছনে রয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন অধ্যাপক, আইনবিদ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি। তাদের দাবি, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষা নয়, বরং ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্র’ যেন আর কখনও স্বৈরতন্ত্রের কবলে না পড়ে, সেটিই এই সনদের মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশি রাজনীতির এই নতুন বাঁক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো একে কীভাবে গ্রহণ করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
কীভাবে একাত্মতা প্রকাশ করবেন? ‘বাংলাদেশ সনদ’-এর লক্ষ্য ও অঙ্গীকারের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে আগ্রহী নাগরিকরা অনলাইনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই সনদ গ্রহণ করতে পারবেন । এর জন্য ‘বাংলাদেশ সনদ‘-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের মাধ্যমে খুব সহজেই আপনার ডিজিটাল সনদটি সংগ্রহ করা সম্ভব ।




