১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর, রবিও সোমবার দুই দিনব্যপী লন্ডনে বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৩
বিশেষ প্রকাশনা: সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদযুক্তরাজ্য-এর আয়োজনে-একাদশ বাংলাদেশ বইমেলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৩। ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ রবি ও সোমবার দুই দিনব্যপী অনুষ্ঠিতহচ্ছে- বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৩ সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য আয়োজিত বইমেলার প্রেক্ষাপট: বিলেতের বাংলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত সংগঠনগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সেতুবন্ধন রচনা করে এই বহুজাতিক সমাজে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারকে আরো বেগবান করতে ২০০৯ এ গঠিত হয় সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, যুক্তরাজ্যের। উদীচী, সংহতি সাহিত্য পরিষদ, মহুয়া আর্টস, মৌলিক আর্টস ইত্যাদি সংগঠনগুলোর সদস্যদের নিয়ে গঠিত প্রথম আহবায়ক কমিটির সাথে পরবর্তীতে যুক্ত হন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, কবিতা পরিষদ, সিতার ফিউশন, তানপুরা, শব্দপাঠ, তৃতীয় ধারা, মূলধারা, ইমোহার্ক ইত্যাদি সংগঠনগুলো। প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরের মাথায়, ২০১০ সালের ১১, ১২ ও ১৩ জুলাই পূর্ব লন্ডনের ব্রাটি আর্ট সেন্টারে আয়োজন করা হয় তিন দিন ব্যাপী প্রথম ‘বাংলা একাডেমি বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব’। সর্বস্তরের লেখক, কবি, সাহিত্যিকগণের অংশগ্রহণে মুখরিত এই মেলায় প্রধান অতিথি হয়ে বাংলাদেশ থেকে আসেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর শামসুজ্জামান খান। উদ্বোধন করেন সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুর। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে এসে অংশ নেয়া খ্যাতিমান প্রকাশনী ‘ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ’ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থা তাদের বই নিয়ে মেলায় অংশগ্রহন করে। বিপুল সাড়া জাগানো এই আয়োজনের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ‘বাংলা একাডেমি বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয় ১৭, ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১১-এ। এই মেলাকে কেন্দ্র করে বাংলা একাডেমি ঘোষণা করে ‘ বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক পুরস্কার’। পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই মেলার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দিপুমনি, এবং শেষদিনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ঐ বছর ‘বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক পুরস্কার‘ লাভ করেন কবি ও কথাসাহিত্যিক কাদের মাহমুদ। এছাড়া বাংলা একাডেমির ফেলোশিপ লাভ করেন লেখক-সাংবাদিক নুরুল ইসলাম। এর পরের বছর, ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় আসর। ৮ ও ৯ জুলাই পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে, এবং ১০ জুলাই হোয়াইটচ্যাপেল আইডিয়া স্টোরে অনুষ্ঠিত বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবে যোগ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর শামসুজ্জামান খান, এবং ‘মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের’ অনুবাদক খ্যাত অধ্যাপক উইলিয়াম রেডিচি। সে বছর কবিতা ও কথাসাহিত্যে ‘বাংলা একাডেমি প্রবাসী সাহিত্য পুরষ্কার’ লাভ করেন সাহিত্যিক মাসুদ আহমেদ ও সালেহা চৌধুরী। ২০১৩ সালের বইমেলাটি অনুষ্ঠিত হয় ১৫ ও ১৬ জুন পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে, এবং এর সমাপনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ২০ জুন, হোয়াইটচ্যাপল আইডিয়া স্টোরে। বইমেলাটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। মেলায় যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে আসেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর শামসুজ্জামান খান, গণপ্রজানতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা সচিব কবি কামাল চৌধুরী, ও বাংলা একাডেমির ডাইরেক্টর শাহিদা খাতুন। স্ব স্ব ক্ষেত্রে গবেষণা কর্মের জন্য ‘বাংলা একাডেমি প্রবাসী পুরস্কার লাভ করেন যুক্তরাজ্যবাসী লেখক সাংবাদিক ইসহাক কাজল, লেখক-গবেষক ফারুক আহমদ ও জার্মানবাসী বিজ্ঞান-গবেষক ড. গোলাম আবু জাকারিয়া। এর পরের বছর ২০১৪ সালের বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয় ৫-৭ ডিসেম্বর পূর্ব লন্ডনের মাইলএন্ড পার্কের দ্য আর্ট প্যাভিলিয়নে। মেলার উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর শামসুজ্জামান খান, ও সাংবাদিক-কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী। প্রকাশনা সংস্থা হিসেবে এই মেলায় অংশ নিয়েছিলেন আগামী প্রকাশনী, অন্যপ্রকাশ, মাওলা ব্রাদার্স, পাঞ্জেরী ও আহমেদ পাবলিশার্স। ২০১৪ সালের মেলা থেকেই ‘বাংলা একাডেমি প্রবাসী সাহিত্য পুরস্কার’-এর নাম বদলে রাখা হয় ‘ বাংলা একাডেমি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার’। সে বছর পুরস্কারপ্রাপ্তরা ছিলেন কানাডাবাসী সৈয়দ ইকবাল ও ইকবাল হাসান। ২০১৫ সালের ১৫-১৭ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হওয়া তিনদিন ব্যাপী বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসব শামসুজ্জামান খান। এ বছর ‘বাংলা একাডেমি সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ’ পুরস্কার লাভ করেন ফরাসি লেখক ও প্রফেসর আ্যমেরিটাস ফ্রে ভট্টাচার্য এবং কথাসাহিত্যিক মঞ্জু ইসলাম ( সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম)। মেলাটি অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব লন্ডনের কর্মাশিয়াল রোডের আমানাহ সেন্টারে। গণপ্রজানতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ তত্ত¡াবধানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ, যুক্তরাজ্য; বাংলা একাডেমি, ঢাকা; জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ঢাকা এবং জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতি, ঢাকা- এর সম্মিলিত সহযোগীতায় অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬সালের আয়োজনটির। বর্হিবিশে^ বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে ছড়িয়ে দিতে এই বছরই ‘বাংলা একাডেমি বইমেলা‘র নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব’। উৎসবটির উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী কবি মাহবুবুল আলম শাকিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক এম আখতারুজ্জামান, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতির সভাপতি এবং আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধীকারী ওসমান গণি প্রমুখ। দ্বিতীয় দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাননীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার খন্দকার এম তালহা। সে বছর ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার’ লাভ করেন, কবি শামীম আজাদ ও নাজমুন নেসা পিয়ারী। মেলায় অংশগ্রহণ করে, বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, অন্যপ্রকাশ, মওলা ব্রাদার্স, আগামী প্রকাশনী, আহমদ পাবলিশিং হাউস, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন, কথাপ্রকাশ এবং ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, ঢাকা। এছাড়াও বিলাতের লেখকদের বই নিয়ে ছিল আলাদা স্টল। নানা কারণে ২০১৭ সালে বইমেলার আয়োজন করা সম্ভব না হলেও এর পরের বছর ২০১৮ সালের ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বরে আবারও উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব । মেলায় বাংলাদেশ থেকে প্রধান অতিথি হয়ে আসেন কবি আসাদ মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর সৈয়দ মাহমুদ শাহ কোরেশি, আবদুল গাফফার চৌধুরী, কানাডা থেকে কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, আমেরিকা থেকে কবি আঞ্জুমান রোজি, টাওয়ার হ্যামলেটস-এর স্পিকার কাউন্সিলর আয়াস মিয়া প্রমুখ। এ বছরই প্রবর্তন হয় স্বাধীনতাযুদ্ধে বিলাতবাসীদের ভূমিকা নিয়ে লিখিত প্রথম গ্রন্থসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রন্থের রচয়িতা আব্দুল মতিনের নামে ‘ আব্দুল মতিন সাহিত্য পুরস্কার’ এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক, সমাজকর্মী, সংগঠক ও রাজনীতিবিদ তাসাদ্দুক আহমেদের নামে ‘তাসাদ্দুক আহমেদ পুরস্কার’। পুরস্কার লাভ করেন সাহিত্যিক রব্বানী চৌধুরী। ২০১৮-এর মেলায় অংশগ্রহণ করে আগামী প্রকাশনী, শব্দশৈলী, অনিন্দ্য প্রকাশ, অন্যপ্রকাশ, দ্য ইউনিভার্সেল একাডেমি, পারিজাত প্রকাশনী, বাসিয়া প্রকাশনী, জাগৃতি প্রকাশনী, পান্ডুলিপি প্রকাশনী, অনার্য প্রকাশনী সহ বেশ কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালে নবম বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট্স অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মাননীয় সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যস্থ মান্যবর হাইকমিশনার মিসেস সাঈদা মুনা তাসনীম। অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন, অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী (চেয়ারম্যান, বাংলা বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা), ঔপন্যাসিক শাহাদুজ্জামান ও ড. শেখ মুসলিমা মুন (সহকারী সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়) প্রমুখ। হাসপাতাল থেকে ভিডিও-বার্তার মাধ্যমে মেলার অনুষ্ঠানসূচির উদ্বোধন করেন সাংবাদিক ও কলামিষ্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী। বাংলাদেশ থেকে মেলায় যে সকল প্রকাশনী অংশগ্রহণ করে, তাদের মধ্যে ছিল বাংলা একাডেমি, আগামী প্রকাশনী, অন্য প্রকাশ, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্স, শিখা প্রকাশনী, অনিন্দ প্রকাশ, পুথিনিলয়, শব্দশৈলী, নওরোজ কিতাবিস্তান, দি ইউনিভার্সেল একাডেমি, পরিজাত প্রকাশনী, অনার্য পাবলিকেশন্স,
সবার জন্য পেনশন, প্রবাসীরা ও পাচ্ছেন সুযোগ
ব্রিকলেন ডেস্ক: সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান, বেকারত্ব, ব্যাধি, পঙ্গুত্ব বা বার্ধক্যজনিত কারণে নাগরিকদের সরকারি সাহায্য দেয়া, বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। সীমিত পরিসরে বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এর আগে ১৩ আগস্ট এ সংক্রান্ত বিধিমালা জারির মাধ্যমে এটি চালু করা হয়। দেশে বেসরকারি চাকরিজীবীদের পেনশনের আওতায় আনার কোনো উদ্যোগ এটাই প্রথম। যে বিপুল জনগোষ্ঠীকে উদ্দেশ্য করে আইনটি করা হয়েছে, সেটা বাস্তবায়িত হলে এটাই হবে দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক ফান্ড। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে আট কোটি। এরমধ্যে সরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন ১৪ লাখের কিছু বেশি। সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু হলে প্রায় আট কোটি ৩৫ লাখ মানুষ এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সবার জন্য পেনশন চালু করার অঙ্গীকার ছিল। গতবছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর তাগিদ দেন। এরপর গত বছরের ২৯ অগাস্ট এই বিষয়ে বিল সংসদে তোলে সরকার। চার শ্রেণির ব্যক্তিরা এই পেনশন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। তারা হলেন- প্রবাসী বাংলাদেশি, বেসরকারি চাকরিজীবী, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মী ও অসচ্ছল ব্যক্তিরা। চারটি স্কিমের মধ্যে রয়েছে- প্রবাস স্কিম: বিদেশে কর্মরত বা অবস্থানকারী যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক তফসিলে বর্ণিত চাঁদার সমপরিমাণ অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় দিয়ে এ স্কিমে অংশ নিতে পারবেন এবং তিনি দেশে প্রত্যাবর্তনের পর সমপরিমাণ অর্থ দেশীয় মুদ্রায় পরিশোধ করতে পারবেন। প্রয়োজনে, স্কিম পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে, পেনশন স্কিনের মেয়াদপূর্তিতে পেনশনার দেশীয় মুদ্রায় পেনশন পাবেন। প্রগতি স্কিম: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো কর্মচারী বা ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক তফসিলে বর্ণিত হারে চাঁদা দিয়ে এ স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কর্মচারীদের জন্য এ স্কিমে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে স্কিমের চাঁদার ৫০ শতাংশ কর্মচারী এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান দেবে। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ স্কিমে অংশ না নিলে, ওই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো কর্মচারী নিজ উদ্যোগে এককভাবে এ স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। সুরক্ষা স্কিম: অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত বা স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিরা যেমন- কৃষক, রিকশাচালক শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতী, ইত্যাদি তফসিলে বর্ণিত হারে চাঁদা দিয়ে এ স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। সমতা স্কিম: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক, সময়, প্রকাশিত আয়সীমার ভিত্তিতে দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী ব্যক্তিরা (যার বর্তমান আয় সীমা বাৎসরিক সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা) তফসিলে বর্ণিত হারে চাঁদা দিয়ে এ স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। মাসিক সর্বনিম্ন-সর্বোচ্চ চাঁদা কত এ কর্মসূচির আওতায় ১৮ থেকে ৫০ ঊর্ধ্ব বয়সীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা থাকবে। মাসিক চাঁদা হতে পারে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা আর সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে কর্মসূচি পরিবর্তন এবং চাঁদার পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ থাকছে। পেনশন ব্যবস্থায় নগদ টাকায় কোনো লেনদেন হবে না। সব কর্মকাণ্ড হবে অনলাইনে। সেক্ষেত্রে বিকাশ, নগদ ছাড়া অন্যান্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ব্যবহার করে চাঁদা দেয়া যাবে। নিববন্ধন করবেন যেভাবে প্রতিটি স্কিমের বিপরীতে নির্ধারিত পরিমাণ চাঁদা প্রদান সাপেক্ষে মাসিক পেনশনের প্রাপ্যতা অর্জিত হবে। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী জাতীয় পরিচয়পত্রধারী (এনআইডি) সব নাগরিক পেনশন স্কিমে নিবন্ধিত হতে পারবেন। অবশ্য বিশেষ বিবেচনায় ৫০ ঊর্ধ্ব নাগরিকও এ স্কিমে যুক্ত হতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন এক বছর চাঁদা প্রদান শেষে যে বয়সে উপনীত হবেন, তার থেকে আজীবন পেনশন প্রাপ্য হবেন। এক্ষেত্রে চাঁদাদাতার বয়স ৬০ বছর হওয়া পর্যন্ত চাঁদা প্রদান করবেন। এরপর থেকে নির্ধারিত হারে পেনশন পাবেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এনআইডি না থাকলে পাসপোর্ট দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন, তবে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এনআইডি গ্রহণ করে জমা দিতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিরা কর্মসূচির সুবিধা সমর্পণ সাপেক্ষে পেনশন স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণকারীকে অনলাইনে নিবন্ধন হতে হবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেককে একটি ইউনিক আইডি নম্বর দেয়া হবে। চাঁদা দিতে হবে যেভাবে অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ক্রেডিট কার্ড/ডেবিট কার্ড বা তফসিলি ব্যাংকে চাঁদা জমা দেয়া যাবে। জরিমানা ছাড়া পরবর্তী একমাসের মধ্যে চাঁদা দেয়া যাবে। তবে এর বেশি সময় অতিবাহিত হলে প্রতিদিনের জন্য ১ শতাংশ বিলম্ব ফি গুনতে হবে। পর পর তিন মাস চাঁদা জমাদানে ব্যর্থ হলে পেনশন হিসাব স্থগিত হবে। সব বকেয়া পরিশোধ না হলে তা সচল হবে না। কোনও প্রতিষ্ঠান স্কিমে অংশগ্রহণ করলে কর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য ধার্যকৃত চাঁদা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একত্রে তহবিলে জমা দিতে হবে। কিস্তিদাতা পছন্দ অনুযায়ী মাসিক, ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক হারে চাঁদা দিতে পারবেন। চাঁদা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য রেজিস্টার্ড মোবাইলে এসএমএস করে জানিয়ে দেয়া হবে। কোনো চাঁদাদাতা শারীরিক ও মানসিকভাবে অসমর্থের কারণে স্থায়ী বা সাময়িকভাবে আংশিক বা সম্পূর্ণ কর্মহীন ও উপার্জনে অসমর্থ হলে কিংবা মানসিক ভারসাম্যহীন বা নিখোঁজ হলে, যেসব বিধান কার্যকর হবে সেটাও উল্লেখ রয়েছে বিধিমালায়। তহবিলে জমাকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ ঋণ হিসেবে তুলা যাবে চাঁদাদাতা নিজের এবং পরিবারের প্রয়োজনে চিকিৎসা, গৃহনির্মাণ, গৃহ মেরামত এবং সন্তানদের বিয়ের জন্য তহবিলে জমাকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ ঋণ হিসেবে তুলতে পারবেন। তা নির্ধারিত ফিসহ সর্বোচ্চ ২৪ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে, যা তার হিসাবে জমা হবে। একটি ঋণ চলমান থাকতে নতুন করে ঋণ নেয়া যাবে না। চাঁদাদাতা মারা গেলে কারা পাবেন পেনশন কোনো স্কিমের চাঁদাদাতা পেনশনে থাকাকালে তার বয়স ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে, তার নমিনি বা উত্তরাধিকারীরা ৭৫ বছর হওয়া পর্যন্ত অবশিষ্ট মাসের জন্য মাসিক পেনশন পাবেন। কোনো চাঁদাদাতা মাসিক পেনশন প্রাপ্যতা অর্জিত হওয়ার আগে মারা গেলে, তার নমিনি বা অবর্তমানে উত্তরাধিকারী মুনাফাসহ জমাকৃত অর্থ ফেরত পাবেন।
সর্বজনীন পেনশন নেই প্রচার, আছে গুজব!
সুমন দেবনাথ: দেশের ১০ কোটি মানুষের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কীম চালু হল কিন্তু কোন ধরনের প্রচারনা ছাড়াই! সঠিক প্রচারনার অভাবেই গুজব ছড়াচ্ছে! পেনশন নিয়ে যেন কেউ গুজব ছড়াতে না পারে তাই নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা জরুরীঃ ১) আমার জমা দেয়া টাকার নিশ্চয়তা কে দিবে? ২) নির্দিষ্ট সময় পরে আমাকে টাকা পেতে কি অফিসার টু অফিসার ঘুরতে হবে? ৩) মানুষ কেন ব্যাংকে টাকা না রেখে পেনশন স্কীমে রাখবে? ৪) জীবন বীমার ও বিভিন্ন ব্যাংকের সেইভিংস স্কিমের সাথে পেনশনের পার্থক্য কি? ৫) আমার পেনশন ফান্ডে সরকার কি কোন কন্ট্রিভিউট করবে? ৬) এই যে ১০ কোটি মানুষ ১০ বছর ধরে টাকা রাখবে? এই টাকা কোথায় কিভাবে থাকবে? এই টাকা কি সরকার কোথাও ইনভেষ্ট করবে? ইনভেষ্ট করলে এর লাভ-ক্ষতি কি আমাকে এফেক্ট করবে? ৭) রিজার্ভের টাকা থেকে যে ভাবে ঋণ দেয়া হয় আমাদের পেনশন ফান্ড থেকেও কি কোন ব্যাক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়া হবে? ঋণ দেয়া হলে যদি ঐ ব্যাক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয় তখন আমার পেনশনের কি হবে? ৮) এক প্রজ্ঞাপনে পেনশনের ঘোষণা আসলো কিন্তু সরকার পরিবর্তন হলে আরেক প্রজ্ঞাপনে যদি পুরা পেনশন স্কীম বাতিল হয়ে যায় তখন আমার টাকার কি হবে? পেনশন নিয়ে আসলে দেশের মানুষের অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে! বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও সরকারী পেনশনের টাকা পেতে পেতে কবরে যাওয়ার সময় চলে আসে। তাই মানুষ এসবে যেতে চায় না! সুতরাং মানুষকে আরো বেশী বেশী ইনভল্ভ করতে উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা খুব জরুরী। সরি আমি নিজেও প্রবাসী হিসাবে পেনশন ফান্ডে যোগ দেয়ার জন্য উপরোক্ত প্রশ্নের উত্তরগুলো গত দুইদিন নেটে ঘাটাঘাটি করে পাইনি তাই পেনশন স্কিমে আপাতত যোগ দেইনি। আশাকরি উত্তরগুলো পাওয়ার পরে পজেটিভ চিন্তা করবো। বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য আমি নিম্নোক্ত নিশ্চয়তা চাইঃ ১) সর্বোপরি টাকার নিশ্চয়তা স্বরুপ যারা যাঁরাই পেনশন স্কীমে টাকা রাখবে তাদের একটা করে সরকারী ডিজিটাল বন্ড দেয়া হোক; যা ১০ বছর পরেই এক্টিভ হবে, যদি কেউ নিয়মিত টাকা জমা দেয়। আর নিয়মিত জমা না দিলেই সেই বন্ড অটোম্যাটিক বাতিল হয়ে যাবে। ২) পেনশন স্কীমের টাকা ম্যাচিউর হওয়ার পর পরই কোন ধরনের হয়রানী ছাড়াই টাকা অটোম্যাটিক আমার কিংবা নমিনীর একাউন্টে চলে যাবে। আমার বিশ্বাস সরকার উপরোক্ত উপয়ে পেনশন স্কীমে জনগনের আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে। লেখকঃ সুমন দেবনাথ ১৯/০৮/২০২৩
বিএনপি প্রসঙ্গে আদালতের রায় নিয়ে কানাডা সরকার মন্তব্য করতে পারে না
ব্রিকলেন নিউজঃ কানাডার আদালতের রায় নিয়ে কানাডা সরকার মন্তব্য করতে পারে না। একইভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে কানাডার অভিবাসনবিষয়ক ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশির আশ্রয়ের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার বিষয়ে কানাডা সরকারের ‘কোনো মন্তব্য নেই’।ঢাকায় কানাডীয় হাইকমিশন গতকাল রবিবার এ তথ্য জানায়। তবে কানাডা সরকার বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে তালিকাভুক্ত করেনি বলে জানিয়েছে হাইকমিশন। কানাডার ফেডারেল আদালত গত ১৫ জুন দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য বিএনপি নেতা পরিচয় দেওয়া মোহাম্মদ জিপসেদ ইবনে হকের জুডিশিয়াল রিভিউয়ের আবেদন নাকচ করেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ জিপসেদ ইবনে হক বাংলাদেশে এমন একটি রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যে দল বল প্রয়োগ ও নাশকতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে উত্খাতের চেষ্টা করেছে। বিএনপি নাশকতায় জড়িত কি না, এমন বিষয়ও আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন। কানাডার আদালতের সাম্প্রতিক ওই রায়ের বিষয়ে কানাডা সরকারের অবস্থান এবং বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে কানাডায় বাংলাদেশিদের আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করছে কি না এ বিষয়ে ঢাকায় কানাডীয় হাইকমিশন বলেছে, কানাডীয় ব্যবস্থায় সুরক্ষার জন্য আবেদনকারীদের কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী বোর্ডে পাঠানো হয়।ওই বোর্ড একটি স্বতন্ত্র ট্রাইব্যুনাল। কানাডার বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। কোনো নির্দিষ্ট মামলার বিষয়ে কানাডার হাইকমিশন কোনো মন্তব্য করতে পারে না। কানাডীয় হাইকমিশন জানায়, কানাডার সন্ত্রাস দমন প্রচেষ্টার অন্যতম মূল হাতিয়ার হলো সন্ত্রাসী তালিকা। কানাডা বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেনি। কানাডার আদালতের সাম্প্রতিক রায় বাংলাদেশে কিভাবে নির্বাচন হওয়া উচিত সে বিষয়ে কানাডার দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না—এ প্রসঙ্গে কানাডীয় হাইকমিশন জানায়, কানাডা বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অর্থবহ সংলাপে ভূমিকা রাখার আহবান জানায়।
বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় যুক্তরাজ্য
ব্রিকলেন নিউজঃ যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। সোমবার (১৪ আগস্ট) গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কুককে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এসব কথা জানান। নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ ২১ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত ও ৫০০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাসহ তার প্রাণনাশের ১৯টি প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত ২০০১ সালে তাদের বিজয় উদযাপন করেছিল সন্ত্রাসের রাজত্ব জারি করে শত শত মানুষকে হত্যার পাশাপাশি সারাদেশে গ্রামে গ্রামে ধর্ষণ ও লুটপাটের মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমরাই মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেছি ও গণমাধ্যমকে বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করেছি। প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাজ্য (ইউকে)। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রচেষ্টায় যুক্তরাজ্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, যত তাড়াতাড়ি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে ততই বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল। তিনি আশা করেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যথাযথ মনোযোগ মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনকে ত্বরান্বিত করবে। প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান কক্সবাজার অঞ্চলে সামাজিক সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত বলেন, বিষয়টি আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত হবে। এসময় তিনি রোহিঙ্গাদের শিক্ষা এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা বলেন যাতে তারা তাদের স্বদেশ মিয়ানমারে ফিরে পুনরায় কর্মসংস্থান করতে পারে। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক বিষয়ের মতো বিভিন্ন বিষয়ও আলোচিত হয়। এ ছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ এবং সম্পর্ক আরও সুসংহত করারও আশা প্রকাশ করা হয়।
প্রখ্যাত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি চিকিৎসককে ‘বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব নারী ক্ষমতায়ন পুরস্কার ২০২৩’ প্রদান
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব-এর ৯৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডনে আয়োজিত “In Struggle and in Liberation, Bangamata is the Inspiration” শীর্ষক বিশেষ স্মারক অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম প্রখ্যাত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি চিকিৎসক, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ হালিমা বেগম আলমকে ব্রিটেনে নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদানের জন্য ‘Bangladesh High Commission, London Begum Fazilatun Nesa Mujib Women Empowerment Award 2023’ প্রদান করেন। হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমের সভাপতিত্বে স্মারক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মহিলা ও শিশু-বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা থেকে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফ ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবীর বিন আনোয়ার। মহিলা ও শিশু-বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, বঙ্গমাতা ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য সহধর্মিণী, সহকর্মী, সহযোদ্ধা এবং জীবনের চালিকা শক্তি। তিনি বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি পদক্ষেপে বঙ্গবন্ধুকে সক্রিয় সহযোগিতা করেছেন ও প্রেরণা দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন । তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে নারীদের কর্মসংস্থানসহ নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের প্রকৃত পথ প্রদর্শক ছিলেন।” স্বাগত বক্তব্যে হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা ও ১৫ আগস্টের সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ছিলেন মুক্তিকামী সাড়ে সাত কোটি বাঙালীর অনুপ্রেরণা। আর বঙ্গবন্ধুর মূল অনুপ্রেরণা ছিলেন মহিয়সী বেগম মুজিব, যাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার উপর বঙ্গবন্ধুর ছিলো অগাধ আস্থা। ‘৪৮ ও ‘৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৬‘র ছয় দফা, ৬৮‘র আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের পুনর্গঠনসহ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বঙ্গমাতা বঙ্গন্ধুর একজন সুযোগ্য সহযোদ্ধা হিসেবে নি:স্বার্থভাবে যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন সেজন্য তিনি বাঙ্গালির ইতিহাসে স্বমহিমায় চির-ভাস্বর হয়ে থাকবেন। তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একই শিক্ষা, আদর্শ ও চেতনাকে অবলম্বন করে বাংলাদেশকে আজ নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলেছেন।” তিনি আরো বলেন, “যুক্তরাজ্যে তরুণ প্রজন্মকে বঙ্গমাতার জীবন, কর্ম ও আদর্শ সম্পর্কে জানাতে ও অনুপ্রাণিত করতেই বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন তাঁর নামে পুরস্কার প্রবর্তন করেছে এবং ডাঃ হালিমা বেগম আলমের মতো মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী, প্রগতিশীল ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির শ্রদ্ধেয় নারীকে এই পুরস্কার প্রদান করেছে। হাইকমিশনার তরুণ প্রজন্মকে বঙ্গমাতার সংগ্রামী জীবন, কর্ম ও আদর্শ অনুসরণ করে যুক্তরাজ্যে প্রবাসি বাংলাদেশি নারীদের ক্ষমতায়নে সম্পৃক্ত হয়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির ও প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বাংলাদেশের বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বঙ্গমাতাকে খুব কাছে থেকে দেখার স্মৃতিচারণ করে বলেন, “বঙ্গমাতা অতি সাধারণ জীবনযাপন করেছেন, কিন্তু দেশ ও জাতির জন্য অসাধারন অবদান রেখে গেছেন । পরিবার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নির্মোহ, অবিচল ও সাহসিকতার সঙ্গে তিনি সবসময় দেশ ও জাতির স্বাধিকার আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিলেন।” বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবীর বিন আনোয়ার অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও বিশিষ্টজনের বিভিন্ন লেখা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুর জীবনে বঙ্গমাতার অপরিসীম ও ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফ ব্রিটেনে প্রবাসী তরুণ-তরুণীদের বঙ্গমাতার সহজ-সরল জীবন ও আদর্শ থেকে নৈতিক শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান। পুরষ্কার গ্রহনের পর আবেগাপ্লুত ও অশ্রুসিক্ত ডাঃ হালিমা বেগম আলম বলেন, বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডনের এই বিরল ও আশাতীত সম্মাননা তাঁর জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বঙ্গমাতাকের নিয়ে তাঁর স্মৃতিচারণমূলক লেখা ‘শেখ মুজিবের রেণু’-র উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বঙ্গমাতা ছিলেন বাঙ্গালি নারীদের ধ্রুবজ্যোতি এক অনন্য ও অসাধারণ নারী। তাঁর মতো এমন দৃঢ় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মমতাময়ী নারী আর একজনও আমি আমার জীবেন আজ পর্যন্ত দেখিনি।” উল্লেখ্য, ডাঃ হালিমা বেগম আলম ১৯৫১-১৯৫৫ সেশনে মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজে (বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) অধ্যয়ন করেন এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান স্টেট মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টি থেকে স্বর্ণপদকসহ প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৬৩ সালে তিনি স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্যে জিপি এবং প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন-এর উপদেষ্টা চিকিৎসক নিযুক্ত হন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বিলেতে আন্দোলনের প্রথম সারিতে থেকে তিনি অন্যান্য নারীদেরও এই আন্দোলনে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ক্যামডেনের মেয়র কাউন্সিলর নাজমা রহমান, রেডব্রিজের মেয়র কাউন্সিলর জ্যোৎস্না রহমান ইসলাম ও ব্রেন্ট কাউন্সিলের কাউন্সিলর রীতা বেগম। তাঁরা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রখ্যাত নারীদের সাথে বঙ্গমাতাকে তুলনা করে বাঙ্গালি জাতি গঠনের ইতিহাসে সবচেয়ে সাহসী ও অনুপ্রেরণাদায়ী নারী হিসেবে তাঁর জীবন, কর্ম ও অবদান সম্পর্কে আরো গবেষণা ও প্রকাশনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গমাতা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ও তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে তাঁর প্রতি গভীর শুদ্ধা জানানো হয়। এ উপলক্ষে বঙ্গমাতার জীবন ও কর্মের ওপর একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বঙ্গমাতাকে উৎসর্গ করে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী মুনিরা পারভীন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের মূলধারায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মের জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
২-৩ সেপ্টেম্বর ১৪তম লন্ডন বাংলা বইমেলা
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: লন্ডন বাংলা বইমেলা কমিটির উদ্যোগে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, লন্ডনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস, বাংলা একাডেমী, শিল্পকলা একাডেমী জাতীয় জাদুঘর এবং বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা সমিতির সহযোগিতায় প্রতিবারের মতো আগামী ২ এবং ৩ সেপ্টেম্বর পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৪ তম বাংলাদেশ বইমেলা এবং সাহিত্য সাংস্কৃতিক উৎসব। বইমেলা উৎসবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতি মন্ত্রী কে এম খালেদ এমপি। শিক্ষা উপ মন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি। বাংলা একাডেেমির সভাপতি প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। মহা পরিচালক জাতিসত্তার কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচাল লিয়াকত আলী লাকি। জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান। কবি মাসুদুজ্জামান কবি শিহাব শাহরিয়ার প্রমুখ্য। এছাড়াও দেশের বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা মেলায় অংশ নেবে। সাংস্কৃতিক উৎসবে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন প্রখ্যাত লোকশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়। মেলা প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে।
চিটাগাং ইউনিভার্সিটি এক্স স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন ইউকের নতুন কমিটি গঠন
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ১৯৯৭ সালে গঠিত যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন চিটাগাং ইউনিভার্সিটি এক্স স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন ইউকের দুই বছর মেয়াদী নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চবির ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এ কে এম ইয়াহইয়াকে। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন চবির ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এস এম আবু নছর তালুকদার। ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চবির ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাশুক আহম্মেদ । সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চবির ৩৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আফতাব আহমেদ । গত ১১ই জুন ,২০২৩ লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে সংগঠনের সভাপতি সালেহ আহমদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অভিজিত ধর এবং সহ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আহাদের যৌথ পরিচালনায় ঈদ মিলনমেলা এবং বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার দ্বিতীয় পর্যায়ে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক সাবেক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে এসোসিয়েশনের সভাপতি সালেহ আহমদ ২০২৩-২০২৫ মেয়াদের জন্য কমিটি ঘোষণা করেন। এই কমিটি আগামী দুই বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়ানুষ্ঠান আয়োজনসহ দেশের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক উন্নয়নমূলক কাজ করবে।এখানে উল্লেখ্য যে , ১৯৯৭ সালেই সংগঠনটি যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে লন্ডনের টেমস নদীতে রয়েল প্রিন্সেস জাহাজে এক মিলন মেলা আয়োজন করে। এ মিলন মেলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আব্দুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন। নবগঠিত কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন চবির সাবেক শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষক প্রফেসর ডঃ নুরুন নবী , ডঃ নুরুল আলম , মোহাম্মদ ওসমান গনি , সৈয়দ আব্দুল মাবুদ ,অর্চনা চক্রবর্তী ,কাওসার রশিদ মিন্টু ,জামাল উদ্দিন আহমেদ , জামাল উদ্দিন চৌধুরী , ডঃ শাহীন আকতার , ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন এবং মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট : রাজীব চক্রবর্তী , আমিনুর রাশিদ সেলিম , নুরুল ইসলাম , জেবুন্নেসা মিতা , এনায়েত সরোয়ার ,আ ক ম হুসাইন চুন্নু , ব্যারিস্টার আবুল মনসুর শাহজাহান , এম এ মুহিত চৌধুরী , ব্যারিস্টার নুরুল গাফ্ফার , ব্যারিস্টার গনি উল্লাহ। জয়েন্ট সেক্রেটারি আব্দুল আহাদ ও অনুপম সাহা। জয়েন্ট ট্রেজারার ফরিদ উদ্দিন ও সৈয়দ সাইফুল ইসলাম। জয়েন্ট অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ইব্রাহিম জাহান। সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি শামসুল আলম চৌধুরী টিপু ও জয়েন্ট সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি নাসরিন আক্তার বাপীন। মেম্বারশিপ সেক্রেটারি মুনসাত হাবিব ও জয়েন্ট মেম্বারশিপ সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন শাওন। প্রেস এন্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি সরওয়ার হোসেন, জয়েন্ট প্রেস এন্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি ফারজানা করিম এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রেস এন্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি মঈন উদ্দিন সিদ্দিকী। কালচারাল সেক্রেটারি শিরিন তাজ বেগম মিরা, জয়েন্ট কালচারাল সেক্রেটারি শায়েখ আহমেদ সওদাগর এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট কালচারাল সেক্রেটারি শর্মিলা নন্দী, জয়শ্রী দত্ত ও মুন্নি বডুয়া । এডুকেশন সেক্রেটারি ডঃ সাইফুল আলম চৌধুরী ও জয়েন্ট এডুকেশন সেক্রেটারি ব্যারিস্টার মনিরুল ইসলাম মঞ্জু। ল এন্ড ইমিগ্রেশন সেক্রেটারি ব্যারিস্টার ইউসুফ রেজা ও জয়েন্ট ল এন্ড ইমিগ্রেশন সেক্রেটারি কিশোর দাস। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি রাজীব দেব নাথ । ইনফরমেশন টেকনোলজি সেক্রেটারি মতিউর রহমান রানা ও জয়েন্ট ইনফরমেশন টেকনোলজি সেক্রেটারি দ্বীপ শর্মা। ওমেন অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি সাবিরা লুনা সুলতানা ও জয়েন্ট ওমেন অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি নাজরাতুন নাইম ইসলাম। এছাড়া এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে আছেন সালেহ আহমেদ, কামরুন নাহার আহমেদ নিরু , অভিজিৎ ধর বাপ্পি , শাহজাহান সাজু , মুহাম্মদ আলী মাসুম, আনোয়ার পাশা, নুরুল ইসলাম লাকি, এম এ রউফ, মুহাম্মদ কামাল, মাকিনুর রাশিদ, রুহুল আমিন চৌধুরী মনি, ফখর উদ্দিন চৌধুরী, ফজিলত আলী খান সতো, এ এফ এম মবের উদ্দিন, দেলোয়ার মোহাম্মদ আলী, আবদুল ওয়ালী, শওকত মাহমুদ টিপু, সাদিয়া শারমিন হাসান, ফেরদৌস আহমেদ শেরদিল , সাইফুউদ্দিন চৌধুরী টিপু , হীরা দেলোয়ার , জাহেদুল হাসান, ব্যারিস্টার চৌধুরী এমডি জিন্নাত আলী , লাবনী বড়ুয়া , খালেদ হাসান টুটল, মুসাদ্দেক শাহীন ও ওয়াহিদ সিরাজী।
লন্ডনে তরুণ প্রজন্মের মেধাবি ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের ‘শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল যুব, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া প্রবাসি পুরষ্কার ২০২৩’ প্রদান
প্রেস বিজ্ঞপ্তি; বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশের আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের রূপকার শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন আয়োজিত “Shaheed Captain Sheikh Kamal: Remembering a Valiant Freedom Fighter and a Youth Icon” শীর্ষক এক বিশেষ স্মারক অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম তরুণ প্রজন্মের মেধাবি তিন ব্রিটিশ-বাংলাদেশিকে ‘ Shaheed Captain Sheikh Kamal Youth, Culture and Sports Diaspora Award 2023’ প্রদান করেন। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মকে শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জীবন, কর্ম ও বাংলাদেশের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা জানানোর পাশাপাশি তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত করতে বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন ২০২২ সালে এই পুরষ্কার প্রবর্তনের ঘোষণা করে। এবছর প্রথমবারের মতো পুরষ্কারপ্রাপ্তরা হলেন ব্রিটেনে ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রফেশনাল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফুটবল খেলোয়াড় লেস্টার সিটি ক্লাবের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী, ইংলিশ টেস্ট ক্রিকেটে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি খেলোয়াড় এসেক্স কাউন্টি ক্লাবের রবীন দাশ এবং সংস্কৃতি ও মিডিয়া ক্ষেত্রে বিবিসি এশিয়া নেটওয়ার্কে জনপ্রিয় ব্রডকাস্টার নাদিয়া আলি। এ উপলক্ষে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের উদ্যেশে এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, “বাংলাদেশের ক্রীড়া, সংস্কৃতি, এবং সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সদ্য-স্বাধীন দেশের পুন:গঠনে তরুণ সমাজকে সুসংগঠিত করে ক্যাপ্টেন শেখ কামাল যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন সেজন্য তিনি চির অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে থাকবেন।” বাঙ্গালি অধ্যূসিত পূর্ব-লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে আয়োজিত এই স্মারক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালসহ ১৫ আগস্টের সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ছিলেন এক নির্ভীক প্রাণশক্তির মূর্ত প্রতীক এবং উদ্দীপ্ত তারুণ্যের অগ্রদূত। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি ছিলেন একজন ট্রেইলব্লেজার, ট্রেন্ড সেটার, ভিসনারি ও যুবসমাজের আইকন। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনিই প্রথম ফুটবল ও ক্রিটেকসহ ক্রীড়াজগতকের ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আবাহনী ক্রীড়াচক্র আজও বাংলাদেশে ক্রিকেট ও ফুটবলের আলোর দিশারী। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শক্ত ভিত্তির ওপরই আজ বাংলাদেশ বিশ্ব-ক্রীড়াঙ্গনেও গৌরবোজ্জ্বল অবস্থান অর্জন করেছে। বাংলাদেশের ছাত্র ও যুব সমাজের কাছে এক অসাধারণ ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব শেখ কামাল খেলার মাঠ থেকে নাটকের মঞ্চ, সংগীত জগত এবং সদ্য-স্বাধীন দেশে তরুণদের সুসংগঠিত করতে যে অতুলনীয় অবদান রেখেছেন তা বিশ্বের যেকোনো দেশের তরুণ সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত ও অনুপ্রাণিত করবে।” হাইকমিশনার বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহিলা ও পুরুষদের ফুটবল ও ক্রিকেটসহ ক্রীড়াঙ্গণের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়ে শেখ কামালের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলেছেন।” তিনি আরো বলেন, “যুক্তরাজ্যে এখন প্রায় এক মিলিয়ন প্রবাসি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি রয়েছেন যাদের নতুন প্রজন্ম মিডিয়া, ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাদের মেধা ও নেত্রিত্বের স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছে। এই তরুণ প্রজন্মকে শেখ কামালের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানাতে ও অনুপ্রাণিত করতেই বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের নামে পুরস্কার প্রবর্তন করেছে।” হাইকমিশনার শেখ কামালের বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্ম অনুসরণ করে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মকে যুক্তরাজ্যে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চায় আরো সম্পৃক্ত হয়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির ও প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান। স্মারক অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফ, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মোজাম্মেল আলি, মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের অনুজ বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু মুসা হাসান, বিবিসি-র সাবেক রাজনৈতিক ও ক্রীড়া বিশ্লেষক উদয় শঙ্কর দাস এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট কাউন্সিল ইউকে-র প্রেসিডেন্ট নঈম উদ্দিন রিয়াজ বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকান্ডে শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে হাই কমিশনার অতিথি এবং দূতাবাস-এর কর্মকর্তাদের নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট ১৯৭৫- এর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ও তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে শেখ কামালের জীবনের ওপর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নির্মিত একটি প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শণ করা হয়। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন শেখ কামালের জীবন ও কর্মের ওপর এক বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালকে উৎসর্গ করে জনপ্রিয় ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিল্পী ও বিশিষ্ট অভিনেতা প্রীতম আহমেদের গান এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিশু-কিশোর শিল্পীদের মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনা।
বঙ্গবন্ধু বাকশাল ও কিছু কথা
রাজিক হাসান: আমাদের ভারতবর্ষের শাসনভার হাজার বছর ধরেই ছিল উচ্চবর্ণ ও উচ্চবিত্তদের হাতে। সাধারণ মানুষের কোন অধিকার ছিল না সেখানে। শাসকের খেয়ালখুশিই ছিল আইন। বিদেশী শাসকরাও আমাদের শাসন করেছে সেই উচ্চবর্ণ ও উচ্চবিত্তদের হাত করেই। সিরাজের পতনের পর ইংরেজরা আসে। তারাও শাসন শোষণ দুইই করেছে। সময়ের প্রয়োজনে সেই উচ্চবর্ণ ও উচ্চবিত্তদের হাতেই গণতান্ত্রিক ক্ষমতা দিয়ে তারা চলে গেছে। শেখ মুজিব এই ভারতবর্ষের একমাত্র ব্যক্তি যিনি এই অভিজাততন্ত্রকে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের হাতের ক্ষমতা তুলে দিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই সামরিকবাহিনীর সহযোগিতায় অভিজাতরা আবার তা ছিনিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় তখন আমি কথা বলতেও শিখি নি। তারপর যখন বড় হতে শুরু করলাম, তখন থেকেই একটি কথা শুনে আসছি; বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল বাকশাল গঠন। আর তাই তখন থেকেই বাকশাল নিয়ে আমার আগ্রহ। পত্রপত্রিকায় যা পড়েছি তার সারকথা ছিল বাকশাল হলো শেখ মুজিবের একনায়কতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার নাম। আর এই কারণে সেনাবাহিনী তাঁকে হত্যা করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছে। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে নানান কিচ্ছা কাহিনি শুনেছি। জাল পরে লজ্জা নিবারণ করছে বাসন্তী নামের একটি মেয়ে সে ছবিও আমরা দেখেছি। কেউ বল নি ঐটি প্রোপাগান্ডা ছিল, একটা শাড়ির চেয়ে জালের দাম অনেক বেশি। কেউ বলে নি যে, ভয়ংকর সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের ফলাফলেই ছিল এই দুর্ভিক্ষ। যদিও বঙ্গবন্ধু দুর্ভিক্ষের দায়ভার নিয়ে কোনো ভণিতা করেননি। সকল ব্যর্থতার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন। জাতীয় সংসদে দুর্ভিক্ষে প্রাণহানির সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করেছিলেন। একদিকে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ বঙ্গবন্ধুকে যেমন খুব মর্মাহত করেছিল, অন্যদিকে দুর্ভিক্ষ পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি হিমশিম খাচ্ছিলেন। আর এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল বামপন্থীদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড। সারা দেশ যখন দুর্ভিক্ষের ছোবলে একদম মৃতপ্রায় তখন কর্নেল তাহের গড়ে তোলেন তাঁর গোপন সশস্ত্র বিপ্লবী গণবাহিনী। জাসদও বসে নেই। দেশের এই চরম দুর্দিনে জাসদ প্রতিটি সেনানিবাসে গড়ে তোলে তাদের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা | জাসদতো ১৯৭৩ সালের তাদের প্রথম জাতীয় অধিবেশনেই মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ও মাও-এর চিন্তা ধারাকে তাদের আদর্শ এবং বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রকে লক্ষ্যে স্থির করে শেখ মুজিব সরকারকে বুর্জোয়া শোষক শ্রেণির সরকার আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছিল। এই বামপন্থীদের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের শুরু কিন্তু স্বাধীনতার ঠিক পর থেকেই। অন্যদিকে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে শ্রেণিমুক্ত ‘স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলা’ গঠন করার লক্ষ্যে আরেক স্লোগানধারী সিরাজ শিকদারের নেতৃত্বাধীন পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির ক্যাডাররা ১৯৭২ সালের মাঝামাঝি থেকে ১৯৭৩ সালের মে মাস পর্যন্ত ৪৯২৫টি গুপ্তহত্যা করেছিল। ৬০টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি লুট করে জনজীবনকে অস্থির করে তুলছিল। ১৯৭২-৭৩ সালের এই সময়টাতে পাকিস্তানপন্থী জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, মুসলিম লীগ, পিডিপিসহ বেশির ভাগ মুসলিম ভাবাপন্ন রাজনৈতিক দল গোপনে জুলফিকার আলীর প্রেসক্রিপশনে ‘মুসলিম বাংলা’ কায়েমের তাদের সকল শক্তি নিয়ে তৎপরতা চালিয়েছিল। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, মাওলানা ভাসানী এদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশকে আমি ভিয়েতনামে পরিণত করব।’ সেই সময়টিতে তিনি খুব দায়িত্বহীনের মতো অনেক আচরণ করেছিলেন। তিনি হিন্দুদের উদ্দেশ্যে বলে বসলেন, ‘জয় বাংলা এবং আওয়ামী লীগ তোমাদের রক্ষা করতে পারবে না। তোমাদের ভাগ্য বিহারিদের মতোই হবে।’ দুর্ভিক্ষের চরম সংকটকালে এই উগ্র বামপন্থী ও মুসলিম বাংলা কায়েমকারীরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও গোপন তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু বাকশালকে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ বলেছিলেন | ১৯৭১ সালে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পর এটি ছিল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির বিপ্লব | তবে বাকশালের মতো বিপ্লবী উদ্যোগ পৃথিবীর ইতিহাসে অভূতপূর্ব নয়। এর আগেও অনেক দেশে হয়েছে। কিন্তু এর আগে যেটি কখনোই হয়নি সেটিই করে দেখালেন বঙ্গবন্ধু। তিনি সেটি করলেন দেশের বিদ্যমান আইন ও সংবিধানের বিধি মেনে। বাকশালের মূল কার্যক্রম বুঝতে এখানে কয়েকটি উদাহরণ দিচ্ছি—১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু তার দ্বিতীয় বিপ্লবের বেশ কিছু স্বল্পকালীন ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি ও কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, ‘একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না, আমাদের প্রত্যেক বছর ৩০ লক্ষ লোক বাড়ে। আমার জায়গা হলো ৫৫ হাজার বর্গমাইল। যদি প্রত্যেক বছর ৩০ লক্ষ লোক বাড়ে তাহলে ২৫-৩০ বছরে বাংলার কোনো জমি থাকবে না চাষের জন্য। বাংলার মানুষের বাংলার মানুষের মাংস খাবে, সে জন্য আজকে আমাদের পপুলেশন কন্ট্রোল, ফ্যামিলি প্ল্যানিং করতে হবে। এটা হলো তিন নম্বর কাজ। এক নম্বর হলো দুর্নীতিবাজ খতম করুন। দুই নম্বর হলো কারখানায়-খেতে খামারে প্রোডাকশন বাড়ান, তিন নম্বর পপুলেশন প্ল্যানিং আর চার নম্বর হলো জাতীয় ঐক্য। জাতীয় ঐক্য গড়ার জন্য এক দল করা হয়েছে। যারা দেশকে ভালোবাসে, যারা এর আদর্শে বিশ্বাস করে, চারটি রাষ্ট্রীয় আদর্শ মেনে সৎ পথে চলে তারা সকলেই এই দলের সদস্য হতে পারবেন। যারা বিদেশি এজেন্ট, যারা বহিঃশত্রুর কাছ থেকে পয়সা নেয় এতে তাদের স্থান নেই। সরকারি কর্মচারীরাও এই দলের সদস্য হতে পারবে। কারণ তারাও এই জাতির একটা অংশ। তাদেরও অধিকার থাকবে এই দলের সদস্য হওয়ার। এই জন্য সকলে যে যেখানে আছি একতাবদ্ধ হয়ে দেশের কাজে লাগাতে হবে।’ স্বনির্ভর কর্মোদ্যমের একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেছিলেন—”আমি খবর পেলাম, ঠাকুরগাঁওয়ে একটা কোল্ড স্টোরেজ করা হয়েছে। এক বছর আগে সেটা হয়ে গেছে। কিন্তু পাওয়ার নাই। খবর নিয়ে জানলাম, পাওয়ার সেখানে যেতে এক বছর লাগবে। কারণ খাম্বা নাই। খাম্বা নাকি বিদেশ থেকে আনতে হবে। মিনিস্টার সাহেবকে বললাম খাম্বা টাম্বা আমি বুঝি না। বাঁশ তো আছে। এখানে দাঁড়াও, খাম্বা কাটো, দা লাগাও। দেড় মাস, দুই মাসের মধ্যে কাজ হয়ে যাবে। এটা লাগাও। কি করে লাগবে, সেটা আমি বুঝি টুঝি না। দিল, লেগে গেল। কিন্তু ও আমার কাছে যদি না আসত, এক বছরের আগে খাম্বা পেত না, ওটা হতো না। এভাবে পাওয়ার গেল, আলু রাখল। এই মেন্টালিটি কেন হয়? খাম্বা বাংলাদেশের গাছে গাছে হয়। আমি বাংলাদেশের প্রতিটি থানায় পাওয়ার দিতে চাই। কো-অপারেটিভও আমি প্রতিটি গ্রামে করতে চাই। এটা সোজাসুজি বাঙালি কো-অপারেটিভ যাকে বলা যায় মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ। আমি নিজে ঠিক করেছি আমার পদ্ধতি। প্রথমে এরিয়া ভাগ করে নেবেন। এমন জায়গায় নেবেন, যেখানে আমি ইমিডিয়েটলি পাওয়ার দিতে পারি। ধরুন যদি রাজশাহীতে যদি করি তাহলে এমন জায়গায় করতে হবে যেখানে পাওয়ার নিতে পারি। এভাবে একটা দুটা তিনটা গ্রাম নিয়ে কো-অপারেটিভ করতে হবে এবং এটা হবে কমপালসারি কো-অপারেটিভ। এতে কোনো কিন্তু-টিন্ত নেই।” এই বিশাল কর্মোদ্যোগকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটু চিন্তা করলেই দেখা যাবে এর পেছনের কারণ গুলো কি? বঙ্গবন্ধু কোনো সাম্রাজ্যবাদী দেশের প্রেসক্রিপশনে চলার মানুষ ছিলেন না। অর্থনৈতিক এই বিপ্লবটি সফল হলে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে যাবে। সুতরাং শেখ মুজিবকে খতম করে বিশ্বব্যাংকের কথামত যারা চলে তাদের নিয়ে আসো। হলোও তাই। জাতি হারাল তার সবচেয়ে সুদৃঢ় নেতাকে। (দেশপ্রসঙ্গ পত্রিকাতে প্রকাশিত)