ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে শ্রীশ্রী পাগল শংকর ইসকন মন্দিরে সংঘটিত চুরির ঘটনায় এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গভীর রাতে মন্দিরে ঢুকে চোরেরা ১৪টি প্রতিমা, দুটি দানবাক্সসহ বিপুল পরিমাণ পূজার সামগ্রী ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে।
সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নের মন্দিরটিতে এ ঘটনা ঘটে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্র জানায়, চোরেরা মন্দিরের পাঁচটি কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এর মধ্যে ৬টি পিতলের ও ৮টি পাথরের প্রতিমা চুরি হয়। পাশাপাশি দুটি দানবাক্সের নগদ টাকা, রুপার পাদুকা, বাঁশি, কাঁসার বাসন ও কলস, হারমোনিয়াম, পানির মোটর, পিতলের আসন ও গ্লাস নিয়ে যায় চোরেরা।
এ ছাড়া এক পূজারির কক্ষ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকারও চুরি হয়েছে।
ভোর চারটার দিকে মন্দিরের পূজারি আদি শিষ্য মঙ্গল আরতির জন্য উঠে প্রধান ফটকে গিয়ে কক্ষগুলোর ভাঙা তালা দেখতে পান। পরে বিষয়টি সেবায়েত অধ্যক্ষ সুখদা বলরাম দাসকে জানানো হয়। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ সময় নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন, থানা-পুলিশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দুই প্রার্থীই চুরির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মন্দিরের পূজারি লিপি রানী গোপ বলেন, “বারবার আমাদের ওপরই কেন এমন ঘটনা ঘটছে—আমরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছি না।”
অপর পূজারি শিল্পা রানী মালাকার জানান, “আমি বাইরে ছিলাম। ফিরে এসে দেখি আমার কক্ষের তালা ভেঙে টাকা ও স্বর্ণালংকার সব নিয়ে গেছে।”
ইউএনও শাহীনা নাছরিন জানান, মন্দির এলাকায় তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও একটি মাত্র সচল ছিল। ওই ক্যামেরায় একজন চোরকে দেখা গেছে, তবে গায়ে কাপড় মোড়ানো থাকায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চোরদের মূল লক্ষ্য ছিল দানবাক্সের টাকা।
পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আবদুর রউফ বলেন, গ্রিল কেটে মন্দিরে ঢুকে পরিকল্পিতভাবে চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং পুলিশের একাধিক দল তদন্তে কাজ করছে।




