বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ ব্রিটিশ এমপিদের সমর্থন

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ ব্রিটিশ এমপিদের সমর্থন

লন্ডন, যুক্তরাজ্য —

বাংলাদেশ হিন্দু অ্যাসোসিয়েশন, সহযোগী কমিউনিটি ও মানবাধিকার সংগঠনসমূহের সহায়তায়,  গতকাল ২১ জানুয়ারি বিকেল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্কয়ারে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আয়োজন করে।

বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নির্যাতনের প্রতিবাদে,  বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত পদ্ধতিগত সহিংসতা, বৈষম্য ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়গুলোকে উল্লেখ করা হয়।

এই কর্মসূচিটি ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে অনুষ্ঠিত একটি প্রতিবাদের পরবর্তী উদ্যোগ, যেখানে তীব্র শীত  বৃষ্টি উপক্ষা করে ৫০০ জনের বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ওই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, পরিবার, প্রবীণ অধিকারকর্মী এবং আন্তধর্মীয় প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছিলেন, যা বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে ব্রিটিশ প্রবাসী সমাজ ও বৃহত্তর নাগরিক সমাজের গভীর উদ্বেগকে তুলে ধরে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে এসেও অনেকে যোগাদান করেছেন ।

২১ জানুয়ারি পার্লামেন্ট স্কয়ারে অনুষ্ঠিতব্য এই বিক্ষোভে কয়েকজন এমপিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয় এর লক্ষ্য হলো আইনপ্রণেতা এবং সাধারণ জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা, বিশেষ করে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে:

● বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের বৈষম্য, লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড এবং জনসংখ্যাগত হ্রাস।
● ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য, যা এই নির্যাতনের মানবিক মূল্যকে স্পষ্ট করে।
● আন্তধর্মীয় ধর্মীয় কণ্ঠ চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তার এবং দীপু দাসের প্রকাশ্য গণপিটুনির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, যার পর পরিকল্পিত গণহত্যায় আরও ১৫ জন হিন্দু নিহত হন।

বাংলাদেশ হিন্দু অ্যাসোসিয়েশনের এক মুখপাত্র বলেন, “এই প্রতিবাদ কোনো দেশ বা ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে। পার্লামেন্ট স্কয়ারে দাঁড়িয়ে আমরা বিবেকের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকার করে যে সংখ্যালঘুদের জীবন মূল্যবান এবং নীরবতা কোনো বিকল্প নয়।”

আয়োজকরা মানবাধিকার সংগঠন, ধর্মীয় নেতা এবং সিভিল সোসাইটি সংগঠনসহ সাধারণ জনগণের সবাইকে সংহতি প্রকাশের জন্য উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে মানবতা, ন্যায়বিচার এবং মৌলিক অধিকারের পক্ষে একসঙ্গে দাঁড়ানো যায়।

হাউস অব লর্ডসের সদস্য হিসেবে লর্ড পোপাট এবং মাননীয় ব্যারোনেস ভার্মা উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে হাউস অব কমন্সের সদস্য হিসেবে ম নাভেন্দু মিশ্রা ও  জিম ডিকসন কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে তাঁদের সমর্থন জানান।

Related Posts

সর্বশেষ খবর