বিশেষ প্রতিনিধি :: গত কয়েকদিনে একটি দলের একজন রাজনৈতিক কর্মীর ঘৃণ্য হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে চরম ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
কয়েকটি পত্রিকা অফিস দেশের বিভিন্ন জেলায় পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।অফিসের মালামাল লুটপাট করা হয়েছে। ‘ছায়ানট’ ও ‘উদীচী’ কার্যালয় পুড়িয়ে জিনিসপত্র লুটে নেয়া হয়েছে।
দীপু চন্দ্র দাস নামের একজন নাগরিককে মিথ্যা অপবাদে মবের হাতে তুলে দিয়ে খুন করানো হয়েছে।ঘাতকরা তাঁর দেহ আগুনে পুড়িয়ে উল্লাসনৃত্য করেছে। আয়েশা নামের একজন বালিকাকে ঘরে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।
একটি জানাজা নামাজ শেষে,মব দখলদাররা জাতীয় সংসদ ভবন দখলের চেষ্টা করেছে।আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করে, ঢাকা সহ বিভিন্ন শহরে ভারতীয় দূতাবাসের কার্যালয়ে হামলা করা হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। যা রাষ্ট্রকে অত্যন্ত অশান্তির দিকে উসকে দিচ্ছে। সরকার এগুলো থামাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
এসব অমানবিক ও পরিকল্পিত সন্ত্রাসী আক্রমনের তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা-নিন্দা জানিয়েছে,’একাত্তরের প্রহরী ফাউণ্ডেশন – যুক্তরাষ্ট্র ‘।
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড.নুরুন নবী ও সেক্রেটারী স্বীকৃতি বড়ুয়া স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, বর্তমান অবৈধ অনির্বাচিত সরকার দেশের সাধারন মানুষের উপর তাদের পেটোয়া বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছে। এরা এমন কোনো হীন কর্ম নেই- যা তারা করছে না।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বাড়ির ধ্বংসাবশেষ তারা উল্লাস করে আবার ভেঙেছে।
একটি গুপ্তহত্যা ঠেকানো কিংবা প্রধান দোষীকে গ্রেফতার না করতে পারার ব্যর্থতা ইউনুস সরকার দেশবাসীর উপর চাপিয়ে দিতে চাইছে।
রাষ্ট্র প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও,তারা মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তির ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, একজন খেটে খাওয়া মানুষ দীপু দাসকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে- তার উদাহরণ মানবিক বিশ্বের কোথাও নেই।
এসব জঘন্য কর্মকাণ্ড বাংলাদেশকে একটি বর্বরতম দেশ হিসেবে পরিচিতি দিচ্ছে।
এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
‘একাত্তরের প্রহরী’ মনে করে বাংলাদেশ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পরিচালিত হবে।হওয়া উচিত।
৩০ লাখ শহীদ আর চার লাখ সম্ভ্রম হারা নারীর আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়ের বাংলাদেশ। এখানে সকল নাগরিক ন্যায্য এবং সমান অধিকার পাবেন। কিন্তু তা আজ রহিত হচ্ছে বার বার!
ক্ষমতাসীন এই সরকারের কাছে কয়েকটি দাবী জানিয়েছে এই ফাউন্ডেশন।
সেগুলো হচ্ছে –
১. অবিলম্বে সকল মবোক্রেসি বন্ধ করতে হবে। প্রত্যেকটি খুনের বিচার নিশ্চিত করে,দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
২. আক্রান্ত মিডিয়া,ছায়ানট,উদীচীতে আক্রমণকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। তাদের পুরো ক্ষতিপূরণ সরকারকে বহন করতে হবে।
৩. দীপু চন্দ্র দাস সহ সম্প্রতি ও গত ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর থেকে যারা খুন হয়েছেন- তাদের পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।
৪. মিথ্যা বানোয়াট ও গায়েবি মামলায় গ্রেফতারকৃত সকল সাংবাদিক,বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবিদের মুক্তি দিয়ে তাদের মামলা পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে।রাজবন্দী ও মুক্তিযোদ্ধা,মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের মুক্তি দিতে হবে।
একাত্তরের প্রহরী’স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চায়, এই সরকারকে বিশ্বে
বাংলাদেশের সমাজ,অর্থনীতি,সভ্যতা,মানবসম্পদ সব কিছুকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেই চলেছে। এটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
ফাউন্ডেশন বিবৃতিতে বলে, আগামী নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহন
নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা দিয়ে এদের সরে যেতে হবে। যদি কোনোভাবে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে ক্ষমতায় বসাবার পাঁয়তারা করা হয়- তাহলে তা বাংলাদেশের গণমানুষ ও বিশ্ববাসী মেনে নেবে না।
একাত্তরের প্রহরী- প্রজন্মকে সজাগ থেকে মহান একাত্তরের শাণিত চেতনায় ঐক্যবদ্ধ থাকার উদার আহ্বান জানাচ্ছে।


