ব্রিকলেন অনলাইন- 

সারা দেশে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতে সংঘাত-সহিংসতার পরিস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

আজ শনিবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংস পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত ১৯ জুলাই রাতে সারা দেশে কারফিউ জারি করা হয়, সঙ্গে সেনা মোতায়েন করা হয়। পরে ২১ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। সহিংসতা দমনে সরকার অভিযান চালালে গত ২২ জুলাই থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। ক্রমে বাড়ে কারফিউ শিথিলের সময়। ধীরে ধীরে খুলে দেওয়া হয় অফিস-আদালত। গত বুধবারের (৩১ জুলাই) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন ১৩ ঘণ্টা কারফিউ শিথিল থাকার সিদ্ধান্ত শেষ হচ্ছে আজ।

জানা গেছে, আজকের বৈঠকে কারফিউ সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহতের ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান।

বরখাস্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন- রংপুর মহানগর পুলিশের এএসআই আমীর হোসেন ও কনস্টেবল সুজন। তাদের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের প্রমাণ পেয়েছে মহানগর পুলিশ হেডকোয়ার্টার।

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান জানান- দায়িত্বে অবহেলা, শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশের বাইরে গিয়ে কাজ করায় তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় অতিরিক্ত কমিশনার সায়ফুজ্জামান ফারুকীকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। তাদের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেলে সেদিনের সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মিছিলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন আবু সাঈদ। একপর্যায়ে বুক পেতে দেন তিনি। এ সময় আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, পরে তিনি মারা যান। এ ঘটনার পর রংপুর জেলাজুড়ে আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। নিহত আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *