টিউলিপ সিদ্দীক এবং নাজনীন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে

জুয়েল রাজঃ

দীর্ঘ ৬ বছর পর  ইরানের কারগার থেকে মুক্তি  পাওয়া  ব্রিটিশ নাগরিক নাজনিন জাঘারি রেডক্লিফের সাথে  সাক্ষাত করেছেন ব্রিটিশ  প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন । ১৩ মে শুক্রবার লণ্ডন সময় দুপুর ১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নাম্বার টেন ডাউনিং ষ্ট্রিটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বরিস জনসনের ব্যাক্তিগত আমন্ত্রণে নাজনিন এবং  টিউলিপ সিদ্দিক সেখানে যান। সাধারণত বিরোধীদলের এমপিরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমন্ত্রণ পাননা।  সেই ক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম ঘটলো টিউলপ সিদ্দিক  এর ক্ষেত্রে।  টিউলিপ সিদ্দিক ছাড়াও  নাজনিনের স্বামী রিচার্ড রেডক্লিফ ও   ৭ বছরের কন্যা  গ্যাব্রিয়ালা রেটক্লিফকে নিয়ে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে যান। ব্রিটেনের মূল গণমাধ্যম গুলো এই সংবাদটি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।

 
প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র আগে বলেছিলেন: “আমরা আগেই বলেছি যে প্রধানমন্ত্রী নাজানিন এবং মিঃ আশুরি উভয়ের সাথেই দেখা করার জন্য উন্মুক্ত ছিলেন।
 
বরিসের সাথে বৈঠকে নাজনিনকে এতো দিন কেনো ফেরত আনা হয়নি, ইরানে আটক আর এক ব্রিটিশ নাগরিক  মুরাদকে ছাড়িয়ে আনার  ব্যপারে সরকার কি উদ্যোগ গ্রহণ  করবে সেই সব বিষয়ে আলোচনা করেন টিউলিপ  সিদ্দিক।

উল্লেখ্য ইরান সরকার ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল যখন নাজারিনকে আটক করে তখন তার আসনের এমপি টিউলিপ সিদ্দিক নাজনিনকে মুক্ত করতে আন্দোলনে নামেন। টিউলিপের নিয়মিত নাজানিনের মুক্তির জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ও ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য। যা ব্রিটেন জুড়ে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করে।
দীর্ঘ আন্দোলন , কূটনৈতিক যুদ্ধ ইত্যাদির কারণে  ২০২২ সালের ১৬ মার্চ নাজানিনকে ইরান থেকে মুক্তি দেয়া হয়। ১৭ মার্চ নাজারিন ফিরে আসেন লণ্ডনে। নাজানিনের পরিবারও টিউলিপ সিদ্দিক এমপি’র কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সাথে টিউলিপের এমন উদ্যোগ লেবার নেতাদের সাথে সাথে সরকার দলীয় এমপি মন্ত্রীদের কাছেও বেশ প্রশংসিত হয়।
১৩ ই মে নাজানিনের সাথে স্বাক্ষাতে বরিস জনসন নাজনিনের পরিবারের খোঁজ খবর নেন সেই সাথে টিউলিপ সিদ্দিক এমপিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তার কাজের জন্য।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ব্যাক্তিগত আমন্ত্রণে  তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। এসময় বরিস জনসন তাদের ডাউনিং ষ্ট্রিট ঘুরে দেখান।

উল্লেখ্য ১৯৭০ সালে ইরানের সাথে ৪০০ মিলিয়ন ঋণ নিষ্পত্তির  বিনিময়ে মুক্তি পান নাজনিন।

প্রধানমন্ত্রী  বরিস জনসন পররাষ্ট্রমন্ত্রী  থাকাকালীন সময়ে আটক হয়েছিলেন নাজনীন। এবং বরিস  সে সময় মন্তব্য করেছিলেন নাজনীন  শিক্ষানবিশ  সাংবাদিক হিসাবে কাজ করছেন বলে। যার ফলে নাজনীনকে দীর্ঘ ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। বরিস জনসন নাজনীন এর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তিন সত্যি দুঃখিত,  যদি তার কোন বক্তব্যের কারণে নাজনীনকে কোন  আঘাত সহ্য করতে হয়ে থাকে।

Related Posts

সর্বশেষ খবর