রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন নিয়ে অংশ নিয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীতে ন্যানো-ইউরিয়া থেকে শুরু করে পানি থেকে সরাসরি হাইড্রোজেন উৎপাদনের মতো প্রযুক্তিগুলো গবেষক ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ফারুক হাসানের নেতৃত্বে যবিপ্রবির একটি প্রতিনিধি দল প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদর্শিত অন্যান্য উদ্ভাবনগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় স্মার্ট সেন্সর, ন্যানো-ক্যারিয়ার ড্রাগ এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উপযোগী প্রিবায়োটিক।
প্রদর্শনীতে বিশেষ করে ন্যানো-ইউরিয়া উদ্ভাবনটি ব্যাপক মনোযোগ পেয়েছে। সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই পণ্যটি প্রদর্শনের অনুমতি পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ দেখা গেছে। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে তৈরি উদ্ভাবনগুলো যেন দ্রুত ইন্ডাস্ট্রি পর্যায়ে নেওয়া যায় এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হয়, তার জন্য সরকারের জোরালো সহযোগিতা প্রয়োজন।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান জানান, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সরাসরি অনুমোদিত মাত্র তিনটি পণ্যের মধ্যে যবিপ্রবির একটি পণ্য রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গবেষণালব্ধ পণ্যগুলো যাতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সে জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
ন্যানো-ইউরিয়ার উদ্ভাবক এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান জানান, দেশের কৃষিখাতকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে। ফেয়ারে প্রধানমন্ত্রী নিজে তাদের স্টল পরিদর্শন করেছেন এবং ন্যানো-ইউরিয়া সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। অধ্যাপক জাভেদ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটিকে ‘অত্যন্ত চমৎকার উদ্যোগ’ ও ‘নিজস্ব দেশীয় পণ্য’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন। তিনি সকল বাধা কাটিয়ে দ্রুত এই পণ্যটি দেশের সব কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।”
যবিপ্রবির এই প্রতিনিধি দলে অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান ছাড়াও ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক কিশোর মজুমদার, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক সেলিনা আক্তার, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাফিউল হাসান এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহানা ইয়াসমিন অংশগ্রহণ করেন। তাদের সাথে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর বলেন, “সরকারের কাছে আমাদের চাওয়ার বেশি কিছু নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা যেসব উদ্ভাবন করি, সেগুলোকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পর্যায়ে নেওয়া এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।