জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে উসকানি, প্ররোচনা এবং সহিংসতার পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততার দায়ে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের এই তারিখ নির্ধারণ করেন। প্যানেলের অপর দুই বিচারক হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এই মামলার সাতজন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়, যেখানে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।
প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন। তারা রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান এবং একাধিক গোপন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। এছাড়া সশস্ত্র হামলা, দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আসামিদের প্রত্যক্ষ ভূমিকার তথ্য উঠে এসেছে। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল, যা ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। রায়ের দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন গাজী এমএইচ তামিম ও ফারুক আহাম্মদসহ অন্যান্য আইনজীবীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।