দক্ষিণ এশিয়া এবং বৈশ্বিক রাজনীতির মঞ্চে ভারত ও চীন একে অপরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিনের এই রেষারেষি ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার মাঝে নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে বেইজিং থেকে রওনা হয়ে শনিবার তিনি ভারতে পৌঁছান। এই সফরকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন নিরসনের সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সফর শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় চীন ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো ‘যথাযথভাবে’ সামলাতে কাজ করবে। ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং শুক্রবার রাতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, উভয় দেশই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, চীন ও ভারত একে অপরের ভালো প্রতিবেশী এবং সাফল্যে সহযোগী অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়।
নয়াদিল্লিতে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুই দিনব্যাপী এই ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের ফাঁকে শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে মোদি ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। চীনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং জানিয়েছেন, কাজান ও তিয়ানজিনের পর টানা তৃতীয়বারের মতো দুই নেতা মুখোমুখি আলোচনায় বসছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংও একই সুরে কথা বলেছেন; তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় বেইজিং ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে বদ্ধপরিকর।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের শীতলতা তৈরি হয়েছিল। সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই টানাপড়েন সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা শিথিল হয়েছে। কাজান ও তিয়ানজিনে মোদি-শি বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্কে বরফ গলার প্রক্রিয়াটি আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ও জেনারেল অফিসের পরিচালক চাই ছি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। প্রায় সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের এই ভারত সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তার নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর কথা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুধু দক্ষিণ এশিয়া কেন, বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চেও পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দেশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারত সফরে আসবেন কিনা তা নিয়ে জল্পনা কল্পনার অবসান হয়েছে।