জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জবাসী, আপনাদের কি ২০২৪ সালের কথা মনে পড়ে? স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই রাস্তায় রক্ত ঢেলেছেন, মনে পড়ে? আপনাদের সঙ্গে লড়াই করা শহীদ সঙ্গীদের দাবি পূরণ হয়েছে? হয়নি। আর সেই দাবি পূরণ করার জন্যই আমরা রাস্তায় নেমেছি। দাবি পূরণ করেই আমরা ঘরে ফিরব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের রাস্তায় নামার কারণ হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, ’২৪-এর চার্টার বাস্তবায়ন, আপনাদের জুলাই ফিরিয়ে দেওয়া এবং মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা।’
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে। প্রতারণা করছে এবং কথা দিয়ে কথার বরখেলাপ করছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। ১১ দল আপনাদের পাশে আছে, আপনারাও আমাদের সঙ্গে থাকবেন। দেখবেন, ইনশা আল্লাহ আমাদের ঐক্যবদ্ধ এই প্রয়াস, এই চেষ্টা আল্লাহ কবুল করবেন এবং আমরা সফল হয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব, ইনশা আল্লাহ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই লংমার্চ আজ শুরু হলেও এটি শেষ নয়। আমরা বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরব।’
নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় এনপিপি নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমীন, এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, কেন্দ্রীয় খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক, নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে জামায়াত-এনসিপি বিরোধী জোটের ‘লংমার্চ’ কর্মসূচির কারণে দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট ও জনভোগান্তি আরও তীব্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমাদের এই লংমার্চ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে। যারা সিন্ডিকেট করে তেল-বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে—তাদের বিরুদ্ধে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, গন্তব্যের পথে বাধা আসলে আমরা লড়াই করতেই নেমেছি। জনগণের অধিকারের জন্য আমরা আমাদের গন্তব্যে ইনশা আল্লাহ পৌঁছাব, কোনো বাধাকেই আমরা পরোয়া করব না।
লংমার্চ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্ট্যান্ডে, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা। সবশেষ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।