Skip to main content

Brick Lane News

রেমিট্যান্সে ২.৫% প্রণোদনা বাতিলের প্রস্তাব: প্রবাসীদের ক্ষোভ, হুন্ডি বাড়ার শঙ্কা

রেমিট্যান্সে ২.৫% প্রণোদনা বাতিলের প্রস্তাব: প্রবাসীদের ক্ষোভ, হুন্ডি বাড়ার শঙ্কা

ব্রিকনেল নিউজ, প্রতিবেদক, ঢাকা:

প্রণোদনা তুলে নিলে বৈধ পথে অর্থ পাঠানো কমানোর হুঁশিয়ারি প্রবাসীদের; বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২৬: বৈধ পথে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সরকার বর্তমানে ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা বা ভর্তুকি দিয়ে থাকে। তবে এই প্রণোদনা তুলে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তার এই মন্তব্যের পর দেশ ও দেশের বাইরের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রবাসীরা রীতিমতো ফুঁসে উঠেছেন এবং অনেকেই প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন যে, প্রণোদনা বাতিল হলে তারা ব্যাংকিং চ্যানেল এড়িয়ে ‘হুন্ডি’র মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠাবেন।

প্রণোদনা বাতিলের প্রস্তাব ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ সম্প্রতি একটি আলোচনায় সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর রেমিট্যান্সের ওপর থেকে ২.৫% প্রণোদনা তুলে নেওয়ার পক্ষে তার অবস্থান ব্যক্ত করেন। সামষ্টিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্সে ভর্তুকি দেওয়া সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। টাকার অবমূল্যায়ন এবং বিনিময় হারের বাজারভিত্তিক সমন্বয় করা হলে আলাদা করে প্রণোদনার প্রয়োজন হয় না বলে তারা যুক্তি দিয়ে থাকেন।

সামাজিক মাধ্যমে প্রবাসীদের তীব্র ক্ষোভ সাবেক গভর্নরের এই বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই সামাজিক মাধ্যমগুলোতে প্রবাসীদের নেতিবাচক মন্তব্যের ঝড় ওঠে। প্রবাসীরা মনে করেন, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তারা যে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান, তার বিনিময়ে রাষ্ট্র থেকে তারা সরাসরি খুব কম সুবিধাই পেয়ে থাকেন। এই ২.৫% প্রণোদনা তাদের কাছে একটি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও উৎসাহের প্রতীক।

সামাজিক মাধ্যমে প্রবাসীদের মন্তব্যের মূল সুর হলো—এমনিতেই বিদেশে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে, তার ওপর দেশে পরিবারের খরচও আকাশচুম্বী। এমন পরিস্থিতিতে প্রণোদনা বাতিল করা হলে তা হবে প্রবাসীদের প্রতি চরম অবিচার।

হুন্ডির দিকে ঝুঁকে পড়ার সরাসরি হুমকি সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়টি হলো, প্রণোদনা বাতিলের আলোচনা সামনে আসতেই প্রবাসীরা বিকল্প এবং অবৈধ মাধ্যম ‘হুন্ডি’ ব্যবহারের কথা খোলাখুলিভাবেই বলছেন। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা সাধারণত ব্যাংকের তুলনায় ডলার বা অন্যান্য মুদ্রার বিনিময়ে বেশি মূল্য (রেট) দিয়ে থাকে।

  • বিনিময় হারের ব্যবধান: বর্তমানে ব্যাংকের রেট এবং হুন্ডির রেটের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, ২.৫% সরকারি প্রণোদনা সেই পার্থক্য কিছুটা হলেও কমিয়ে আনে, যা প্রবাসীদের বৈধ পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত করে।

  • প্রণোদনা না থাকলে যা হবে: প্রণোদনা বাতিল হলে হুন্ডি এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের রেটের পার্থক্য আবারও বেড়ে যাবে। আর্থিক লাভের আশায় প্রবাসীরা তখন স্বাভাবিকভাবেই হুন্ডির দিকে ঝুঁকবেন বলে অর্থনীতি বিশ্লেষকরাও আশঙ্কা করছেন।

অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

বাংলাদেশ বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত নিয়ে এক ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো এই রেমিট্যান্স। এমন স্পর্শকাতর সময়ে রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বাতিলের মতো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বৈধ চ্যানেলে ডলার আসা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

সামষ্টিক অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কারের জন্য ভর্তুকি কমানো যৌক্তিক হলেও, প্রবাসীদের আবেগের জায়গা এবং হুন্ডির মতো সমান্তরাল অর্থনীতির ঝুঁকিকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নীতিনির্ধারকদের এখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষায় প্রবাসীদের আস্থা ধরে রাখা এবং হুন্ডি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।