রাজধানী ও আশপাশের এলাকা ঘিরে বয়ে চলা তুরাগ নদীতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাতজন নেতাকর্মীর ‘লাশ ভাসছে’ বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় অভিযোগ করেছেন, ‘তুরাগের ঘটনা’ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
জয়ের দাবি, একটি গোয়েন্দা সংস্থা এ ঘটনাকে অপমৃত্যু হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি ‘গোপন সূত্রের’ বরাত দিয়ে ফেইসবুকে শনিবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে একটি পোস্ট দেন।
পোস্টে জয় অভিযোগ করেন,
“গোপন সূত্রমতে, তুরাগ নদীতে ফেলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ডিজিএফআইয়ের একটি টিম আজ সারাদিন থেকে এখন অবধি তুরাগ থানায় অবস্থান করছে।
“যে তিনজন কর্মীর লাশ পাওয়া গেছে তাদের পরিবারের সাথে থানা থেকে যোগাযোগ করে পরিবারকে দিয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করানোর জন্য চেষ্টা চলছে।”
তবে নদীতে ‘লাশ ভাসছে’ বা ‘লাশ উদ্ধার’ বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার খবরকে সন্ধ্যায় ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করেছে পুলিশ সদরদপ্তর।
সদরদপ্তরের এক বার্তায় বলা হয়েছে, “‘তুরাগ নদীতে ভাসছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ’, এ ধরণের সংবাদ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি দাবি করে ‘মিথ্যা অপপ্রচারে’ বিভ্রান্ত না হতেও সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
এর আগে গত ২২ জুন রাজধানীর তুরাগ এলাকায় আওয়ামী লীগের মিছিলের পর থেকেই দলটির সাত নেতাকর্মী নিখোঁজ ছিলেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে।
তাদের মধ্যে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ৩ জনের লাশ তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে গত শুক্রবার থেকে ফেইসবুকে ফের আলোচনা ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে ছাত্রলীগকে ‘নিষিদ্ধ’ সংগঠনের তালিকাভুক্তি করে এর কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। পরে ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই মাসে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনও স্থগিত করা হয় তাদের।
নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের তরফে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর মিছিল ও স্লোগানের খবর আসে। গত ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগেও এমন মিছিলের খবর আসে।
দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করে পুলিশ। ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনসহ বিভিন্ন স্থানে বিজিবি নামানো হয়। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এরপর সামনে এল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ খবর, যা জোরালো হয় শনিবার।
এ প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা জয় অভিযোগ করেন, “সূত্রমতে, বিএনপি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআইয়ের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।