Skip to main content

Brick Lane News

হাদি হত্যায় সন্দেহভাজন আরেকজন গ্রেপ্তার ভারতে

হাদি হত্যায় সন্দেহভাজন আরেকজন গ্রেপ্তার ভারতে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় সংশ্লিষ্ট সন্দেহে আরও একজনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ফিলিপ সাংমাকে শনিবার ভোরে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার শান্তিপুর বাইপাস সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।

গত সপ্তাহে এসটিএফ পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ও আলমগীর হোসেন নামে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে।

তাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় যে তথ্য সামনে আসে, তার সূত্র ধরেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ফিলিপ সাংমাকে। তিনি সীমান্তে অবৈধ চোরাচালানের কাজ করেন বলে জানায় ভারতীয় গণমাধ্যম।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে জুমার নামাজের পর নির্বাচনি প্রচার শেষে ফেরার পথে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি।

প্রথম ধাপে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেওয়া হয়। এরপর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসা শেষে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় তাকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান হাদি।

এর আগে ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ-ডিবি পুলিশকে।

তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে শেষের তিনজন পলাতক রয়েছেন।