জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে গত ১৭ মাসে সারা দেশে অন্তত ৯৭টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় আহত হয়েছেন ৪৬৮ জন এবং নিহত হয়েছেন অন্তত তিনজন। হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সুফি-সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মাকাম (সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ)-এর সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ।
সংবাদ সম্মেলনে মাজারে হামলা নিয়ে মাকামের অনুসন্ধানভিত্তিক একটি প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেলেও যাচাই-বাছাই শেষে ৯৭টি ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এর বাইরে ৩৭টি হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যার মধ্যে ছয়টি গুজব হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯৭টি হামলার মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেই ৬৪টি ঘটনা ঘটেছে, যা মোট হামলার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। হামলার কারণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫৯টি হামলা ধর্মীয় মতবিরোধ থেকে, ২১টি স্থানীয় বিরোধ, ১৬টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং একটি পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে সংঘটিত হয়েছে।
হামলার শিকার ৪৪টি মাজার বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে সমসংখ্যক মাজারে বার্ষিক ওরশ আয়োজন বন্ধ হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মাকামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অন্তত ২৩টি ঘটনায় ‘নারায়ে তাকবির’ বা ‘লিল্লাহি তাকবির, আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এসব ঘটনায় প্রধানত ‘তৌহিদি জনতা’র নেতৃত্ব শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণের অভিযোগ ও প্রাথমিক তথ্যও পাওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মাজার, দরগাহ ও খানকাগুলোর ক্ষতিপূরণ, পুনঃসংস্কার এবং স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ১২টি রাজনৈতিক দলকে চিঠি পাঠিয়েছে মাকাম।
মাকামের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ইমরান হুসাইন তুষারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ও প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ।
এ সময় লেখক ও গবেষক তাহমিদাল জামি, ব্লাস্টের প্রতিনিধি আহমেদ ইব্রাহীম, সেন্টার ফর ইসলামিক হেরিটেজের সহ-সমন্বয়ক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, মাকাম রিসার্চ টিমের সদস্য তৌহিদুল ইসলাম, আবু হাসান মুহাম্মদ মুখতার, মুনীর উদ্দিন আহমদসহ হামলার শিকার বিভিন্ন মাজারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



