দিনে অন্তত ১৮ থেকে ২০ বার বিদ্যুতের লোডশেডিং
রায়হান উদ্দিন সুমন,বানিয়াচং প্রতিনিধি : আকাশে মেঘ জমলেই বিদ্যুত চলে যায়। আর সামান্য ঝড়-বৃৃষ্টি হলে তো কোনো কথাই নেই। তখন এই বিদ্যুতের তাঁর ছিড়ে নয়তো লাইনের উপর গাছগাছালি পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। নতুবা ত্রুটি দেখা দেয় ৩৩ কেভি লাইনে। এই হলো হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় পল্লীবিদু্যুতের নিত্যদিনের চিত্র। টেকনিক্যাল সমস্যা, ওভারলোড ও লো-ভোল্টেজ ছাড়াও রয়েছে ঘন ঘন ট্রিপ ও সোর্স লাইন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। শুধু তাই নয়, আকাশে মেঘ জমতে দেখলেই পালাচ্ছে বিদ্যুত। আবার বিদ্যুুুত থাক বা না থাক মাস শেষে মোটা অঙ্কের বিল গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। বিদ্যুত অফিসের প্রতিটি অভিযোগ নম্বর সবসময় ব্যস্ত থাকে। আবার অভিযোগ দিলেও কোনো কাজ হয় না।
শায়েস্তাগঞ্জ পল্লীবিদ্যুতের আওতাধীন বানিয়াচং উপজেলাতে ৭৮ হাজার গ্রাহক পল্লীবিদু্যুতের লোডশেডিং নিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে। বিদু্যুতের এ অবস্থায় বানিয়াচংয়ে ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। এ দিকে লোডশেডিংয়ের কারণে বাসাবাড়ির ফ্রিজ, টিভি, কম্পিউটার, ব্যবসায়ীদের ফটোস্ট্যাট মেশিনসহ বিভিন্ন দামি দামি জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুত না থাকার ফলে উপজেলাজুড়ে ইন্টারনেটের সেবাও বিঘ্œিত হচ্ছে। সংবাদকর্মীরা তাদের সংবাদ পাঠাতে পারছেন না ঠিকমতো। বিদু্যুত ঠিকমতো পাওয়া না গেলেও বিদ্যুতের বিল কিন্তু কমছে না। বৃৃৃষ্টি শুরু হলেই উপজেলাবাসী এমনই দুর্ভোগে ভুগছেন। গত মার্চ মাস থেকেই পল্লীবিদ্যুুতের এই লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন গ্রাহকরা। লোডশেডিংয়ের ফলে যেমন ক্ষতিগ্র্রস্ত হচ্ছেন সেচের চাষীরা, তেমনি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ গ্র্রাহক ও শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। দিনে অন্তত ১৮ থেকে ২০ বার পল্লীবিদু্যুতের এই লোডশেডিং চলছে। বৈশাখের ঝড়বৃষ্টির দাপট শুরুর আগেই বিদু্যুতের এই আসা যাওয়া যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোজাম্মেল নামে পল্লীবিদ্যুতের এক গ্রাহক বলেন, পল্লীবিদ্যুৎ অপরিকল্পিত ভাবে তাদের সঞ্চালন লাইন টেনেছে। যার মাসুল এখন গ্রাহকদের দিতে হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী করলে এই লোডশেডিং হত না।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুত সরবরাহ লাইনের তাঁরের টেম্পার নেই। বেশির ভাগ খুঁটিও দুর্বল। হালকা বাতাস এলেই তাঁর ছিড়ে অথবা খুঁটি পড়ে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় জোড়াতালি দিয়েই কোনো মতে চালানো হচ্ছে বানিয়াচংয়ের বিদু্যুত সরবরাহর কার্যক্রম। আকাশে সামান্য মেঘ জমলেই এবং মাঝারি বেগে হাওয়া ও টিপটিপ বৃষ্টি শুরু হলেই বানিয়াচংয়ে বিদ্যুত গ্রাহকরা আতঙ্কে ভূগেন-এই বুঝি বিদু্যুত উধাও হয়ে গেল। আর একবার গেলে ঘন্ট থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে ফিরে আসে না। বিদু্যুতের এই আসা যাওয়ার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
উপজেলা সদরের বিদ্যুতের গ্রাহক ব্যবসায়ী রবিউল আলম জানান, একটু দমকা বাতাস বইলেই বিদু্যুত চলে যায়। সঙ্গে প্রতিদিনের দীর্ঘ লোডশেডিংতো আছেই। তাছাড়া নানা অজুহাতে প্রায় সময় বিদু্যুত থাকে না। ঠিকমতো ব্যবসা বাণিজ্যও করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে বানিয়াচং পল্লীবিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন উপজেলাজুড়ে বিদ্যুত পাওয়ার কথা ১৮ মেগাওয়াট। কিন্তু দেওয়া হচ্ছে ৯-১০ মেগাওয়াট। আর লোডশেডিং এটা জাতীয় গ্রিডের সমস্যা। তাই এ রকম হচ্ছে।





