Brick Lane News

বাংলাদেশে মন্দিরে বোমা হামলা; পৃথক ঘটনায় নিহত ২

প্রকাশিত: ১১ মার্চ, ২০২৬ ১১:২২ পিএম

ঢাকা: গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশে পৃথক সহিংস ঘটনায় দুই হিন্দু ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং একটি মন্দিরে বোমা বিস্ফোরণে পুরোহিতসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে অধিকার সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট

সংগঠনটির দাবি, ৬ থেকে ৮ মার্চের মধ্যে বগুড়া, কক্সবাজার ও কুমিল্লায় এসব ঘটনা ঘটে, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কুমিল্লায় মন্দিরে বোমা বিস্ফোরণ

সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুমিল্লা শহরের দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া এলাকায় একটি মন্দিরে শনিদেবের পূজা চলাকালে দুর্বৃত্তরা কাঁচা বোমা নিক্ষেপ করে।

এতে মন্দিরের পুরোহিতসহ চারজন গুরুতর আহত হন।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে কালীগাছতলা কালী মন্দিরে। কোটয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, আহতদের মধ্যে পুরোহিত কেশব চক্রবর্তীসহ দুজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

মন্দির কমিটির সভাপতি সজল কুমার চন্দ জানান, ধর্মীয় আচার চলাকালে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগে এক মুখোশধারী ব্যক্তি মন্দিরে ঢুকে একটি ব্যাগ রেখে চলে যায়।

আহত পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী জানান,
“বোমা বিস্ফোরণের পর আমার সামনে একটি সাদা বস্তু পড়ে। পরে ধোঁয়া দেখে অন্যরা জানায়, সেটি বোমা ছিল।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম বিস্ফোরণের পর হামলাকারীরা নিকটবর্তী একটি বৌদ্ধ মন্দির ও একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ের কাছেও আরও দুটি কাঁচা বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক শ্যামল কৃষ্ণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তিনি বলেন,
“যারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।”

ঘটনার পর কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তদন্তে সহায়তার জন্য বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও ডাকা হয়।

বগুড়া ও কক্সবাজারে নিহত ২

রবিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায় জানান, দেশের দুই জেলায় পৃথক ঘটনায় দুই হিন্দু ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৬ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে চয়ন রাজভর (৪০) নিহত হন। তিনি স্থানীয় কোচিং সেন্টার দ্য নিউ কনটেস্ট-এর পরিচালক ছিলেন।

পরদিন ৭ মার্চ দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজার শহরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু যুবক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

আগের আরও দুটি হত্যার অভিযোগ

সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, এক সপ্তাহ আগে চট্টগ্রাম শহরের আলংকার এলাকায় শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় আকাশ দাস নামে এক হিন্দু যুবককে হত্যা করা হয়।

এছাড়া চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বাদুরপাড়া হিন্দু এলাকায় গরু চুরি প্রতিরোধ করতে গিয়ে চন্দন দে (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

Related Posts

সর্বশেষ খবর

অন্যান্য ক্যাটাগরি