শৈলেন কুমার দাশ- বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক মহাগুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এক শ্রেণীর মানুষের চরম নেতিবাচক চিন্তা ও কুটকৌশলের পাহাড় প্রতীম সংকটের বেড়াজাল থেকে জনজীবনকে প্রত্যাশার দেদীপ্যমান আলোর ধারায় উদ্ভাসিত করার এক মহেন্দ্রক্ষণ। আর যার হাত ধরে এই সুবর্ণ সুন্দর সময়ের সুচনা তিনি হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন জনাব তারেক রহমান। আপনাকে প্রত্যাশার নবীণ এই পদযাত্রায় সুস্বাগতম। দেশের তারুণ্যদীপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আপনাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন। অভিনন্দন আপনার বিদুষী স্ত্রী ডাক্তার জুবায়দা রহমানকে এবং আপানার সুশীলা, বিদুষী, স্মার্ট ব্যারিস্টার কন্যা জায়মা জারনাজ রহমানকে। যারা আপনাকে রাজনীতির আজকের এই স্বর্ণালী মঞ্চে নন্দিত পায়ে পথ চলতে মমতা ও ভালোবাসায় সাজিয়ে তোলেছেন। দীর্ঘ সতের বছর ব্রিটেনে প্রবাস জীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শয্যার শেষলগ্নে দেশে ফেরার পথে অগণিত নিপীড়িত প্রাণের রাহু মুক্তির স্বপ্ন জড়িয়ে যায় সময়ের দাবিতে আপনার সাথে। মেটিকুলাস ডিজাইনের হুতা অনভিজ্ঞ, অপরিপক্ষ ও ধান্দাবাজ রাজনৈতিক চিন্তার কুশীলবদের ও মব সন্ত্রাসীদের ঘৃণ্য নির্যাতনে দেশব্যাপী মানুষ যখন মুক্তির নিশানা খুঁজে পাচ্ছিল না, তখন আপনার আগমনে মানুষের মনে রাহু মুক্তির স্বপ্ন সেজেছিল আপনাকে ঘিরে। হত্যা, সন্ত্রাস, নির্যাতন, ধর্ষণ, খুন, জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, সম্পদ ব্যবসা লুণ্ঠন, ডাকাতি, জমি বাড়ি দখল, প্রকাশ্যে নারীদের সম্ভ্রমহানি, শিক্ষক সরকারি কর্মকর্তাদের শারিরিকভাবে অপমান অপদস্ত ও পদত্যাগে বাধ্য করা, ঘুষ, দুর্ণীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বিদেশে অর্থ পাচার, শিশু ও কিশোরীদের ধর্ষণ, পুলিশ হত্যা, থানায় বসে পুলিশ হত্যার স্বীকারোক্তি, পাহাড়ি ও সংখ্যালঘু হিন্দুদের হত্যা, ধর্ষণ ও অবর্ণনীয় নির্যাতনে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা, সাধারণ মানুষকে ফোন নক করে চাঁদাবাজি, শিল্প-কারখানা পুড়ানো, মেট্রোরেল ও সরকারি স্থাপনায় আগুন, জেলখানা থানা লুট, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও ঐতিহাসিক স্হাপনা ধ্বংস সহ আরও হাজারো রকমের সমস্যা জনজীবনে উপহার দেয় এই অন্তর্বর্তী সরকার। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার দুই সপ্তাহের মধ্যেই দেশের সাধারণ জনগণ তাদের ইনটেনশন বুঝতে পারে। দেশে মব সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে একটি অরাজকতাপূর্ণ অবস্হা তৈরি করে জনগণকে সেদিকে ব্যাপৃত রেখে নির্বিঘ্নে দেশের সম্পদ নিজ নামে বিদেশে পাচার করা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। যারা মব সন্ত্রাসীদের তালিকায় নাম লিখিয়েছে তারা এক সময় মেসে থাকার ভাড়া দিতে পারতো না। আজ তারা দেশের শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করে শত শত কোটি টাকার মালিক। বিনা পরিশ্রমে কুক্ষিগত এই টাকার অনিয়ন্ত্রিত ব্যয় সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে নানাবিধ সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে। সৃষ্টি করছে এক স্হায়ী সন্ত্রাসী সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মানসিকতা। অন্তর্বর্তী সরকার তার অর্থ লুলোপ মানসিকতা চরিতার্থ করার জন্য বিশাল অংকের উপঢৌকনের মাধ্যমে জেলখানা থেকে সমস্ত সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দিয়েছে। যা জনজীবনে অশান্তির আরেক কালো অধ্যায় রচনা করেছে। তাদের উদ্দেশ্যে প্রনোদিত নেগেটিভ রাজনৈতিক কৌশল সৃষ্টি করেছে এক সাংঘর্ষিক আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিবেশ। যা দেশের উন্নযনে সুদূর প্রসারী নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে। নিয়োগ ও বদলী বানিজ্যে হাজার কোটি টাকার ঘুষ গ্ৰহণ করেছেন উপদেষ্টাগণ। খবর পাওয়া যাচ্ছে এই প্রক্রিয়ায় জামাত নাকি তাদের নিজস্ব লোকদের দিয়ে সাজিয়েছে দেশের পঞ্চান্নটি জেলা প্রশাসকের আসন। যা দেশে আগামীতে চরম এক প্রশাসনিক অস্হিরতা ও নেতিবাচক অবস্হা সৃষ্টি করবে। ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে থাকার মানসিকতা থেকে তারা ইতোমধ্যে দেশের স্বার্থ পরিপন্থী কুট বিদেশী শক্তির সাথে বিভিন্ন গোপন ও প্রকাশ্য চুক্তিতে জড়িয়েছে, যা আগামীতে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য মারাক্তক হুমকির কারণ হতে পারে। স্হবির, অসৌজন্যমূলক ও ধর্মান্ধ মানসিকতা থেকে শক্তিশালী ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ প্রতিবেশী দেশের সাথে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ধ্বংস করে দেশের অর্থনীতির অগ্রগতির পথকে জটিলতর করে তোলেছে। শুধু তাই নয় দেশের মানুষকেও ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করে প্রতিবেশী দেশের সাথে এক বৈরিতাপূর্ণ মানসিকতা তৈরি করেছে। অথচ আমাদের দেশ সুলভ ও সাশ্রয়ী মুল্যে হাজারো দ্রব্যাদি আমাদানির জন্য তাঁদের উপর নির্ভরশীল, ও সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। আমাদেরও তৈরি পোষাক, পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, মাছ, চামড়া ও রাসায়ানিক পণ্য রপ্তানির বিশাল বাজার রয়েছে তাঁদের সাথে। সংখ্যালঘু নিরীহ সুন্দর হিন্দু সম্প্রদায় যারা দেশের শিক্ষা, ব্যবসা, সৃজনশীল সম্পর্ক বিনির্মাণ ও শান্তি অনুসরণে সুন্দর পথ চলেছে নিরন্তর। যারা অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশ রচনার ক্ষেত্রে এক নীরব অবদান রেখে যাচ্ছে অবিরত। সে মানুষগুলোর উপর হিংস্র আক্রমণের অতি কুটিল ও জটিল পরিকল্পনা করে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থী এই অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের নীরব সমর্থনে মব সন্ত্রাসীরা দেশব্যাপী খুন, জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণ, মারধর, অগ্নিসংযোগ, জমি, বাড়ি, ব্যবসা দখল, প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে হিন্দু মালিকানাধীন বড় বড় স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি ও লুট, যাতে করে হিন্দুরা দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। আপনি দেশে ফেরার পর থেকে আপনার বক্তব্য, চিন্তা ভাবনা, সর্বোপরি সবার সমর্থন ও অংশগ্রহণে রাজনৈতিক পদচারণায় এই মানুষগুলো আশান্বিত হয়ে উঠে। তাঁরা হৃদয়ে ধারণ করতে শুরু করে আপনার হাতকে শক্তিশালী করতে পারলেই এই দুরারোগ্য সামাজিক ব্যধি থেকে দেশকে, দেশের স্বাধীনতা ও তাদের নিজেদেরকে রক্ষা করা সম্ভব। সম্ভব এই জঘন্য, নিষ্ঠুর, বিষাক্ত মব সন্ত্রাসীদের ও তাদের লালনকারী অনাচারী, অর্থের লালসা নামক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত এই অন্তর্বর্তী সরকারকে নির্মূল করা। তাই দেশব্যাপী নীরবে তাঁরা সংগঠিত হয় এক অনবদ্য দৃঢ় সংকল্প নিয়ে। আর আরাধনা আরতীতে প্রার্থনা করে কোনভাবেই যেন শঠ, ধূর্ত অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন বানচাল করতে না পারে। মনের দীপ্ত অঙ্গিকারে শুধু প্রতীক্ষার প্রহর গুণা ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের বিষাক্ত শৃংখল মুক্তির বহু আকাংখিত সংসদ নির্বাচনের। আর সেই মহেন্দ্রক্ষণে দেশব্যপী হিন্দু সম্প্রদায় আপনার দলকে শতভাগ ভোট প্রদান করে দেশের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সামাজিক সম্প্রীতি সুরক্ষার জন্য। মূলোৎপাটন করা বিষাক্ত মব সন্ত্রাসীচক্র সহ মৌলবাদী স্বাধীনতা বিরোধী সমস্ত অপশক্তিকে। যার জন্য আপনার দলের এই বিশাল ঐতিহাসিক জয়। আপনি দীর্ঘ সতের বছর পৃথিবীর গণতন্ত্রের অনন্য সুতিকাগার ব্রিটেনে অবস্হা করেছেন। দেখেছেন মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও পরমত সহিষ্ণুতার রুপ ও সৌন্দর্য্য। দেখেছেন বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ ও তাঁদের সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও অনুষ্ঠানের আদান প্রদানে কিভাবে গণতন্ত্রের শক্তিশালী ভিত রচিত হয়েছে; হয়েছে রচিত বৈচিত্রপূর্ণ সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যবস্হা। বৈচিত্রের মধ্যে সবার নিজ নিজ বিশ্বাসকে ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনার গণতন্ত্র নামক এক অনন্য বিশ্বাসের দিকে দেশের উন্নয়নে এক সাথে এগিয়ে যাওয়া। দেখেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন সংস্কারে বেড়ে উঠা মানব সম্পদকে বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাসের উর্ধ্বে উঠে কিভাবে সাদর সম্ভাষণ জানিয়ে আধুনিক ব্রিটেন ও ইউরোপ গড়ার কাজে লাগিয়েছে তাঁরা। মানবিক দক্ষতাপূর্ণ মানুষকে তাঁরা অগ্ৰে স্হান দিয়েছে ধর্মের গন্ডি পেরিয়ে। ধর্মকে তাঁরা সম্পূর্ণরুপে ধর্মের জায়গায় স্হাপন করেছে। আর রাষ্ট্রকে নিয়ে গেছে তাঁরা রাষ্ট্র পরিচালনার মহান সংবিধানের সুশীতল ছায়ায়। রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি একমাত্র সংবিধান। রাষ্ট্রের সমস্ত সিদ্ধান্ত, সমস্ত কল্যাণ সংবিধানের যত্নের ছায়ায় সম্পাদিত হয়। ধর্মের সাথে রাষ্ট্রের কোন সংশ্রব নেই। তাই ধর্মভিত্তিক বিশ্বাস রাষ্ট্রীয় কাজে অচলাবস্থা সৃষ্টির কোন সুযোগও নেই। সংবিধানের অধীনে দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার ও বিরোধী পক্ষ সবাই ঐক্যবদ্ধ। আপনি বিশ্বজনীন ভাবাদর্শের সাথে পরিচিত হয়েছেন। যেখানে সবার বিশ্বাসকে গুরুত্ব দিয়ে; সম্মান দিয়ে সবার মিলনে সম্প্রীতির পরিবেশ রচনা করা হয়েছে। প্রথা, প্রতিষ্ঠানে গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ দেখেছেন। যেখানে প্রতিষ্ঠান মেশিনের মত সয়ংক্রিয় কাজ করে। কেউ কোন ঝামেলা সৃষ্টি করে না। কাজের প্রতি, দায়িত্বের প্রতি এবং পরস্পর পরস্পরের প্রতি এক অভূতপূর্ব সম্মান। ঠেলাঠেলি নেই; ধাক্কাধাক্কি নেই। নেতার সাথে প্রথম সারিতে দাঁড়ানোর জন্য কনুই গুতাগুতি নেই। সব আয়োজন মানুষের জন্য। মানুষের প্রতি অনন্য সম্মান। জনসাধারণকে নেতা ও কর্মীরা আপন পরিবারের মত ভালোবাসেন। নেতা এখানে কাউকে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খৃষ্টান হিসাবে দেখেন না। নেতা মানুষকে সম্মান করেন, ভালোবাসেন রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে। তাই নেতা সবার কাছে সমভাবে আদৃত। দেখেছেন শিক্ষা, চিকিৎসা, জনস্বাস্হ্য, পুষ্টি, জ্ঞান, বিজ্ঞান, সিনিয়ন সিটিজেন, নারীর বিকাশ ও অধিকার, এবং সমাজে পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা। দেখেছেন আড়ম্বরপূর্ণ মঞ্চে নেতা বা নেতারা বসেন না। নেতরা জণগনের সারিতে বসেন। বক্তব্য প্রদানের সময় নেতা মঞ্চে রাখা ডায়াসে আসেন বক্তব্য রাখতে। যা মূলতঃ নেতা জণগনেরই একজন এই সংস্কৃতি ও বার্তা জণগনের মধ্যে তোলে ধরে। আপনিই পারবেন গণতন্ত্রের এই সুন্দর রুপকে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে মিথস্ক্রিয়া স্হাপন করতে। কারণ আপনি বয়সে তরুণ, চিন্তায় আধুনিক ও ব্রিটেন তথা ইউরোপীয় উৎকৃষ্ট গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিমন্ডলে সরাসরি দীর্ঘ সতের বছর বসবাস ও সামাজিকায়নের সুবর্ণ এক অধ্যায়ের অধিকারী আপনি। এই সময়ের প্রতিটি মুহূর্তে জ্ঞাত ও অজ্ঞাতসারে আপনি শিখেছেন, আপনি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন ইউরোপের জীবন, জীবিকা, জ্ঞান, বিজ্ঞান, মানুষকেন্দ্রিক উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং সুশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির। যা আজ আপনাকে পথ দেখবে নিরন্তর মানুষের জন্য রাজনীতি পরিচর্চার। রাজনীতিকে মানুষের প্রকৃত কল্যাণমুখী সহজ ধারায় রুপান্তরের। এই সতের বছরের প্রবাস জীবন ছিল আপনার জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ। এই আশীর্বাদই আজ আপনাকে সবার প্রাণে স্বতন্ত্র রুপে উপস্হাপন করবে প্রতি মুহূর্তে। তাই আপনার এই আশীর্বাদে প্রাপ্ত মানবিক ও রাজনৈতিক জ্ঞান দক্ষতাকে শতভাগ কাজে লাগাতে হবে এক আধুনিক সুন্দর সম্প্রীতিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণে। আপনি যদি আপনার রাজনৈতিক সংস্কার থেকে ধর্মীয় সংস্কারকে একটু আলাদা করে নিতে পারেন। অর্থাৎ আপনার রাজনৈতিক দর্শন আলোকিত ও সুসজ্জিত হবে রাষ্ট্রের ও দলের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান দ্বারা। তাহলে আপনার দলে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সানন্দে অংশগ্রহণ করবে। তরুণ আধুনিক সুন্দর মানুষ হিসাবে এবং এই নির্বাচনে জনসংযোগকালে মানুষকে সহজে গ্ৰহণ করার আন্তরিকতা আপনাকে দেশব্যাপী মানুষের হৃদয়ে প্রিয় মানুষ হিসাবে; নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সেইসাথে সময়পোযোগী মানুষের রাজনৈতিক সংস্কারে আপনার দলকে সাজালে আপনার 'বিজয় রথ' কেউ কোনদিন আর পরাজিত করতে পারবে না। এ বিষয়ে আপনাকে অধিক স্বচ্ছ দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন আপনার মেধাবী বিদুষী কন্যা ব্যারিস্টার জায়মা জারনাজ রহমান। ব্রিটেনের উন্নত শিক্ষা ও সংস্কার তাঁকে এক্ষেত্রে যোগ্য ভূমিকা পালন করতে সমর্থ করবে। এবং সিলেটের বিখ্যাত এক পরিবারের মেধাবী, বিদুষী, সুকন্যা আপনার স্ত্রী ডা. জুবায়দা রহমান। ব্রিটেনের বিখ্যাত ইমপেরিয়াল কলেজের মেডিসিনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং বিসিএস কেডার এই কন্যা সজ্জন সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খান এর আদুরে দুলালী ও মুক্তি যোদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী এর ভাতিজী। আপনার স্ত্রীর সুন্দর সামাজিকায়ন, উন্নত শিক্ষা এবং স্বানামধন্য মানুষগুলোর কাছে প্রাপ্ত শিক্ষা আপনাকে এক্ষেত্রে সঠিক পথ দেখাবে। আপনার জ্ঞাতার্থে বিগত দিনের কিছু রাজনৈতিক অনাচার তুলে ধরতে চাই। যার পরিনতি হয় ভয়াভহ। যা চোখে দেখা যায়নি কিন্তু অনুভব করা যায়। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় নানুয়াদিঘীর পাড়ে পূজামন্ডপে কোরআন শরীফ রেখে ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়ায় ইকবাল হোসেন নামের এক লোক। ফলে দেশের ২২টি জেলায় দুর্গাপূজায় ও হিন্দুদের উপর সন্ত্রাসী আক্রমণ ও চরম নির্যাতন চালায় মৌলবাদী চক্র। বিবিসি ও বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়া এই ঘৃণ্য নির্যাতনকে 'রক্তাত্ব শারদ' নামে অভিহিত করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেদিনের আওয়ামীলীগ সরকার এসব জঘন্য অত্যাচারের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের নীরবতা এক্ষেত্রে সন্ত্রাসীদের প্রনোদনা জুগিয়েছিল। আপনার দলের স্মার্ট এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন রামু, সাতিয়া, হোমনা, মালোপাড়া, নাসিরনগর, বানরীপাড়া, কলমাকান্দা, ঠাকুরগাঁও, গোবিন্দগঞ্জ, শাল্লা সহ প্রায় প্রতিটি জেলায় হিন্দুদের উপর আক্রমণ হয়েছে। কিন্তু সরকার কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন বিগত ৫০ পঞ্চাশ বছরে প্রায় ৭৫ লক্ষ হিন্দু হারিয়ে গেছে দেশ থেকে। এ বিষয়ে সংসদ নেত্রী কোন কথা বলেননি। কুমিল্লার আওয়ামী এমপি বাহাউদ্দিন বাহার দুর্গাপূজা নিয়ে আরও কটুক্তি করেছেন সেই সময়ে। পরের বছর ২০২২ সালের দুর্গাপূজার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দম্ভ সহকারে মাস্তানের মত নির্দেশ প্রদান করেন "আযানের সময় পূজার বাজনা বন্ধ করে দিতে হবে।" কিন্তু তিনি জানেন না হিন্দুদের পূজা হয় তিথী মেনে, সময় অনুযায়ী নয়। পূজার সময় শংখ, মৃদঙ্গ, করতাল, ঢাক, ঢোল বাজানো নিয়ম। পূজার তিথী যদি আযানের মধ্যে পড়ে যায় তাহলে কি হিন্দুরা পূজা করবে না? তিনি বলতে পারতেন আযানের সময় পূজার তিথী হলে 'শব্দ নিয়ন্ত্রণ' করার জন্য। তাছাড়া একদিকে আযান হবে, অন্যদিকে কীর্তন হবে, প্যাগোটায় বা চার্চে ঘন্টা বাজবে, এই তো হচ্ছে ধর্মের সৌন্দর্য্য এবং বৈচিত্র। এই বৈচিত্রের মধ্যেই জীবন ও সামাজিক সম্পর্ক সুন্দর হয়। গায়ের জোরে এমন অনাচার করলে এর পরিনতি ব্যক্তিকে ভোগ করতেই হবে। কারণ এক জায়গায় আপনি সংখ্যাগরিষ্ঠ কিন্তু অন্য জায়গায় আপনিও সংখ্যালঘু। আর আপনি তো ইউরোপে দেখেছেন একই জায়গায় মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোটা। কোন সমস্যা নেই। এটি হচ্ছে মানসিকতার ব্যাপার। কিন্তু প্রকৃতি ও সময়ের কি পরিহাস দেখুন, এই বাহার ও কাদের সাহেব এখন ভারতে যেখানে থাকেন, তাদেরকে নাকি এখন আঠারো ঘন্টাই মন্দিরের শংখ, করতাল ও মৃদঙ্গ ধ্বনি শুনে বাঁচতে হচ্ছে। এই হচ্ছে প্রকৃতির বিচার। আপনার মন্ত্রী, এমপিরা যেন গায়ের জোরে এ ধরনের অপকর্মে লিপ্ত না হন। তাঁদের আচরণ যেন মানুষের মনে কষ্টের কারণ না হয়। মানুষের মনে কষ্ট দেয়াই অধর্ম। আর অধর্ম থেকে পাপের জন্ম হয়। পাপ অতিরঞ্জিত হলে পতন অনিবার্য। প্রকৃতি সইতে পারে না। এই ছোট্ট জ্ঞানটুকু আপনার মন্ত্রী, এমপিদের বিতরণ করবেন এবং সত্যিকার অর্থে অনুসরণ করতে বলবেন। সফলতা তাঁদের চলার পথকে জ্যোতির্ময় করে তোলবেই। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের এক আওয়ামী এমপি এক অনুষ্ঠানে দেশের বরের্ণ্য এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সাথে মতের মিল না হলে ঐ শিক্ষকে বেত্রাঘাত করার দম্ভ প্রকাশ করেন। সে সময়ে সিলেটে বিষয়টি খুব আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। অনেক বিদ্বানজন খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। নারায়নগঞ্জের এমপি শামীম ওসমান এক শিক্ষককে শার্টের কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে প্রকাশ্যে মানুষের সামনে কানে ধরে উঠ বস করতে বাধ্য করেছিলেন। আর শেষে নড়াইল কলেজের প্রিন্সিপালকে স্হানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা গলায় জুতার মালা দিয়ে চরম অপদস্ত করে। পঞ্চগড়ের আউলিয়া ফেরিঘাটে আশ্বিনের শীর্ণ নদীতে মহালয়ার অনুষ্ঠানে যোগদান করার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে নৌকা ডুবিয়ে শিশু নারীসহ হত্যা করা হয় প্রায় ১০০ জন নিরপরাধ মানুষকে। আমি প্রতিটি বিষয়ে পত্রিকায় কলাম লিখি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠাই। তিনি এ বিষয়গুলোর কোন গুরুত্বই দেননি। পরিনতিতে যা হবার তাই হয়েছে। শিক্ষকের গলায় জুতার মালা পাপের শেষ অবস্হা। এর বিচার অনিবার্য ভাবে হবেই। আপনার মন্ত্রী, এমপিদের এমন পাপ যেন স্পর্শ না করে। তাঁদেরকে সতর্ক করে দেবেন মানুষ হত্যার ঘৃণ্য রাজনীতি যেন চিরতরে বন্ধ হয়। আপনি শতাব্দীর রাজনীতির ইতিহাসে শ্রেষ্ট এক সুযোগ পেয়েছেন দেশের কলোষিত রাজনীতিকে সুশোভিত করার। আপনার হাত ধরেই জন্ম নিতে পারে আমাদের দেশে পারস্পরিক সৌজন্যবোধ ও শ্রদ্ধাবোধের রাজনীতি। আর এ কাজটি করতে পারলে আপনি অনেককে ছাপিয়ে স্হান করে নিবেন দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অতি উজ্জল নক্ষত্র রুপে। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করব আপনাকে। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনজন অতি মহামান্য প্রার্থী যথাক্রমে ব্যারিস্টার ফুয়াদ, মি. হারুনুর রশিদ ও মি. সারজিদ আলম হিন্দুদেরকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছিলেন এবং হিন্দুদের পূজা পার্বণ নিয়ে নিম্নমানের বক্তব্য দিয়েছিলেন। পরিনামে তিনজনই নির্বাচনে গো হারা হেরেছেন। এটি সব এমপি ও মন্ত্রীদের জন্য যেন হয় একটা বড় শিক্ষা। সেইসাথে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের উৎসাহ, প্রনোদনা ও পৃষ্টপোষকতায় মব সন্ত্রাসী বাহিনী, এনসিপি ও সন্ত্রাসী মৌলবাদী গোষ্ঠী যেভাবে দেশের ইতিহাসের চরম বর্বর হত্যা, ধর্ষণ, খুন, জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, রাস্তা ঘাটে নারীর সম্ভ্রমহানি, প্রকাশ্যে ধর্ষণ, গ্যাংগ ধর্ষণ করে হত্যা, পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা সহ শত ধরনের নারকীয় অপরাধ সংঘটিত করেছে, এদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে দেশকে পরিচ্ছন্ন করার দায়িত্ব আজ আপনার হাতে এসে পড়েছে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার সহ জেল থেকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া সমস্ত সন্ত্রাসীদের আবার জেলে পুরে সামাজিক পরিচ্ছন্ন অভিযান জোরদার করতে হবে। না হলে স্বাভাবিকভাবে এরা আপনাকে পথ চলতে দিবে না। পরিশেষে বিগত আঠারো মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের কুকর্মের ফিরিস্তি তথা মানুষ হত্যা, ধর্ষণ, খুন, হিন্দু ব্যবসায়ী ও তরুণ সফল স্হানীয় উদ্যোক্তাদের নারকীয় হত্যার কথা বলতে অন্তর কেঁপে উঠে এবং বলেও শেষ করা যাবে না। মাত্র বিগত দুইমাসে প্রায় একশ জন নিরপরাধ, নিরীহ, শান্ত হিন্দু ব্যক্তিবর্গকে হত্যা করা হয়েছে। মূল বিষয় হচ্ছে তাঁরা ছিলেন ব্যবসা বানিজ্যে সফল, উদ্যমী, উদ্যোগী সমাজে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব যা এই মৌলবাদী সন্ত্রাসী চক্র বিকৃত, বিষাক্ত মানসিকতা থেকে সহ্য করতে পারে না। অনেকের কাছে বিশাল অংকের টাকা দাবী করেছে। কারো কারো সম্পদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে। টাকা না পাওয়া বা উদ্দেশ্য সফল না হওয়ার কারণে তাঁদেরকে হত্যা করেছে। গতকালও একজন হিন্দু ব্যবসায়ীকে এই চক্র খুন করেছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় ধানের শীষে ভোট দেয়ায় নিরীহ হিন্দুরা ক্রমাগত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অনুগ্রহপূর্বক আপনার দলের স্হানীয় নেতা কর্মীদের নির্দেশ প্রদান করুন দেশব্যপী এসব নিরীহ হিন্দুদের পাশে দাঁড়াতে এবং যাতে কোন অনাচারী আর কোন ধরনের অনাচার করতে সাহস না পায়। সেইসাথে উপরে বর্ণিত বিষয়গুলোর যথাযথ বিবেচনা ও গুরুত্ব সহকারে বাস্তবায়ন করলে আপনার নেতৃত্বে, আপনার হাত ধরে, হাসবে এক অভিনব, সমৃদ্ধ, সোনার বাংলাদেশ। লেখক, কলামিস্ট কানাডা
নাইটক্লাবে ড্যান্সের ভাইরাল ভিডিওতে কি সত্যিই জাইমা রহমান?
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রিকলেন নিউজ | ঢাকা: গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা...
Read more





