নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) প্রকল্প পরিচালক ও পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আবদুল গফুরকে নিজ কর্মস্থলে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত নিবন্ধক মো. জুনাইদ কবির। তিনি জানান, হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী সোমবার আবদুল গফুরকে কাজে যোগদানের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।
নিবন্ধক আরও জানান, যে অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল, সেগুলো তদন্তে গঠিত কমিটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হাইকোর্ট আগামী ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আবদুল গফুরের মূল পদ পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের উপ-পরিচালক। পরবর্তীতে তিনি একই দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর উপাচার্য না থাকাকালে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের অভিযোগ, দপ্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার, কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং পদোন্নতিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। তবে এসব অভিযোগ তদন্তাধীন।
বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি একাধিকবার আবদুল গফুরকে সতর্ক করেছিলেন। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিযোগের বিষয় বিবেচনায় তাকে পূর্ণাঙ্গ পরিচালক বা প্রকল্প পরিচালক হিসেবে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি একমত হননি।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী পরিবেশগত অনুমতি ছাড়াই ভবন নির্মাণের ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের করা মামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
গত ৭ জানুয়ারি উপাচার্যের সভাপতিত্বে রিজেন্ট বোর্ডের সভায় আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে আবদুল গফুরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।



