লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মাইল এন্ড ওয়ার্ডে গ্রীন পার্টির কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উইং কমান্ডার (অব:) আমিন রহমান।
রাজনীতিতে তাঁর অংশগ্রহণ কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার গল্প নয়; বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক স্বতঃস্ফূর্ত অঙ্গীকার। পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক ন্যায়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে তিনি উচ্চকণ্ঠ। স্থানীয় সেবার মানোন্নয়ন, তরুণদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং কমিউনিটির ঐক্য জোরদার করার লক্ষ্যেই তাঁর পথচলা।
আমিন রহমান বলেন-“দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা দেখি ভোটের আগে বিভিন্ন প্রার্থী মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোট চান। কিন্তু নির্বাচনের পর অনেকেই চার বছর আর দেখা দেন না। তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। আমার প্রথম কাজ হবে কমিউনিটির মাঝে হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।
হাউজিং আমাদের অগ্রাধিকার। নিরাপদ রাস্তাঘাট ও সবুজ সংরক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। আমি রাজনীতি করতে চাই না; আমি সেবা করতে চাই। মানুষের আস্থা ও অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।”
বাঙালি মানেই লেবার পার্টি অথবা ক্ষমতাসীন এস্পেয়ার পার্টি এই প্রথা ভেঙে গ্রীন পার্টি কেন?
আমিন বলেন, বহুমত , অন্যের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য । আমরা মাল্টি কালচারাল একটি সমাজে বসবাস করছি। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে এই দুই পার্টির বাইরে ও কাজ করার সুযোগ আছে বলে আমি বিশ্বাস করি।গ্রীনপার্টি আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য রাজনীতি করছে । আমি একজন পিতা হিসাবে আমার সন্তানের জন্য ,আগামী প্রজন্মের জন্য গ্রীন পার্টির মৌলিক আদর্শকে ধারণ করি বলেই তথাকথিত দলাদলির বাইরে গ্রীন পার্টি থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি।
বাংলাদেশের নড়াইলের মাটিতে তাঁর জন্ম। শৈশব কেটেছে চট্টগ্রামে; বর্ধিত পরিবারের শেকড় সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও দৃঢ়চেতা—নেতৃত্বের আভাস যেন তখনই স্পষ্ট ছিল। কর্মজীবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে উইং কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সামরিক জীবনের কঠোর অনুশাসন তাঁকে গড়ে তুলেছে দৃঢ় সিদ্ধান্তে অবিচল, তবে মানবিকতায় সমৃদ্ধ এক নেতৃত্বে।
বিমান বাহিনীতে চাকরিকালে তিনি বিমান বাহিনী প্রধানের এ.পি.এস (A.P.S.) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্টাফ অফিসার হিসেবে কাজ করেছেন। বিমান সদর দপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিমান বাহিনীর কেন্দ্রীয় ক্যাটাগরাইজেশন বোর্ডে Pilot / Air Crew দের পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিমান বাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার পর করপোরেট সেক্টরের উচ্চ পদে কাজ করেছেন। এভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একটি এয়ারলাইনে পাইলট হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি লন্ডনে একটি স্কুলের গভর্নর এবং একটি কলেজে শিক্ষকতা করছেন।
গত দুই দশক ধরে পরিবারসহ লন্ডনে বসবাস করছেন আমিন রহমান। প্রবাসের মাটিতে তিনি কেবল পেশাগত সাফল্যেই থেমে থাকেননি; কমিউনিটির সঙ্গে গড়ে তুলেছেন গভীর সম্পর্ক। তাঁর বিশ্বাস, শিক্ষা শুধু পেশা নয়—এটি সমাজ গঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।
আমিন বলেন , আমার বিশ্বাস পেশাগত জীবনের দক্ষতা আমি আমার কমিউনিটির জন্য কাজে লাগাতে পারব।




