Brick Lane News

সাক্ষরতার হারে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্নে পাকিস্তান

দক্ষিণ এশিয়ায় সাক্ষরতার সূচকে এখনও সবার নিচেই অবস্থান করছে পাকিস্তান। দেশটিতে ১০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী মানুষের মধ্যে পড়তে ও লিখতে সক্ষম জনসংখ্যার হার মাত্র ৬৩ শতাংশ।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান পরিসংখ্যান ব্যুরো (পিবিএস) ও বিশ্বব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন নেটওয়ার্ক (এফএএফইএন) এ চিত্র তুলে ধরে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮–১৯ অর্থবছরের পর থেকে গত ছয় বছরে পাকিস্তানের সাক্ষরতার হার বেড়েছে মাত্র তিন শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, ২৪ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশের জন্য এই অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর, যা শিক্ষা খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের অভাবকেই নির্দেশ করে।

তথ্যে দেখা যায়, ২০১৮–১৯ সালে দেশটির সাক্ষরতার হার ছিল ৬০ শতাংশ। ২০২৪–২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ শতাংশে। তবে সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও এই অগ্রগতিকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আঞ্চলিক তুলনায় পাকিস্তান অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় মালদ্বীপে প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষরতার হার ৯৮ শতাংশের বেশি। শ্রীলঙ্কায় ৯৩ শতাংশ, ভারতে ৮৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ৭৯ শতাংশ মানুষ সাক্ষর। নেপালে এই হার ৬৮ শতাংশ এবং ভুটানে ৬৫ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার গড় সাক্ষরতার হার ৭৮ শতাংশ, যা পাকিস্তানের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।

দেশটির ভেতরেও সাক্ষরতায় ব্যাপক বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। পুরুষদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৩ শতাংশ হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা নেমে এসেছে ৫৪ শতাংশে। প্রাদেশিকভাবে পাঞ্জাবে সাক্ষরতার হার সর্বোচ্চ ৬৮ শতাংশ। সিন্ধু ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় এই হার ৫৮ শতাংশ করে। সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বেলুচিস্তান, যেখানে সাক্ষরতার হার মাত্র ৪৯ শতাংশ।

বয়সভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৭ শতাংশ হলেও ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক সাক্ষরতার হার ৬০ শতাংশে সীমাবদ্ধ। এতে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষা ও দক্ষতার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এফএএফইএন জানায়, জরিপে ‘সাক্ষর’ হিসেবে সেই ব্যক্তিকেই ধরা হয়েছে, যার বয়স ১০ বছর বা তার বেশি এবং যিনি একটি সাধারণ বাক্য পড়তে, বুঝতে ও লিখতে সক্ষম।

পর্যবেক্ষণ সংস্থাটি শিক্ষা সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি লিঙ্গভিত্তিক ও আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো এবং সাংবিধানিক ও বৈশ্বিক শিক্ষা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

Related Posts

Social Media

সর্বশেষ খবর