Brick Lane News

বছরজুড়েই ঠোঁট ফাটছে কেন?

ঠোঁট ফাটা সাধারণ সমস্যা হলেও যদি সারা বছর ধরে এ অবস্থা চলতে থাকে এবং লিপ বাম বা ক্রিম ব্যবহার করেও উপকার না মেলে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ঠোঁট ফাটা বা ঠোঁটের চামড়া ওঠার সমস্যাকে কাইলাইটিস বলা হয়। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা শরীরের ভেতরে চলমান কোনো জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, অপুষ্টি ও ভিটামিনের ঘাটতি দীর্ঘদিন ঠোঁট ফাটার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে ভিটামিন বি৩, বি৬, বি১২-এর ঘাটতি, পাশাপাশি জিঙ্ক ও আয়রনের অভাব হলে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যায়, ফেটে যায় এবং ঠোঁটের কোণে ঘা দেখা দিতে পারে।

থাইরয়েডজনিত সমস্যাও ঠোঁট ফাটার কারণ হতে পারে। হাইপোথাইরয়েডিজমে শরীরের মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়, ফলে ত্বক ও ঠোঁট অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরও যদি ঠোঁটের শুষ্কতা না কমে, তাহলে থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যায়, যা ডিহাইড্রেশনের সৃষ্টি করে। এর প্রভাব পড়ে ঠোঁট ও মুখের ভেতরে। অনেক ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসে মুখে ছত্রাক সংক্রমণ দেখা দেয়, যার ফলে ঠোঁটের কোণে চামড়া ফেটে যাওয়া, লালচে ভাব বা রক্তপাত হতে পারে।

হজমের গোলমালও দীর্ঘদিন ঠোঁট ফাটার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। অম্বল, গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে শরীরে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান ঠিকমতো শোষিত না হলে অপুষ্টি তৈরি হয়। এর একটি লক্ষণ হিসেবে নিয়মিত ঠোঁট ফাটা দেখা দিতে পারে। বারবার ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হওয়া অন্ত্রের সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিতও হতে পারে।

চিকিৎসকেরা জানান, ঠোঁটের কোণে ঘা বা পুঁজ জমা, ঠোঁটের চামড়া অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যাওয়া, সাদাটে বা অস্বাভাবিক দাগ দেখা দেওয়া কিংবা পর্যাপ্ত পানি পান করার পরও ঠোঁট ও মুখ বারবার শুকিয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ক্ষেত্রে ঠোঁট ফাটা রোগের লক্ষণ না হলেও সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে এবং সাধারণ যত্নে না সারলে তা শরীরের ভেতরের কোনো অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিত হতে পারে। এ অবস্থায় প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।

Related Posts

Social Media

সর্বশেষ খবর